কক্সবাজার জেলায় অবৈধ সিএনজি ও মোটর সাইকেলের ছড়াছড়ি : প্রশাসন নির্বিকার

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহর ও জেলার ৮ উপজেলায় অবৈধ সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ছড়াছড়িতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। তবে বেশির ভাগ অবৈধ যানবাহন মাদক পরিবহন ও অপরাধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এলাকার অনেকের অভিযোগ, এসব অবৈধ যানবাহন আটকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরের বাজারঘাটা, লালদীঘি পাড়, হাসপাতাল সড়ক, বাস টার্মিনাল, কলাতলিসহ বাস টার্মিনাল এলাকায় শত শত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে। এসব বাহনের বেশির ভাগই অবৈধ। অবৈধ ওই বাহনের পেছনে ও সামনে ‘কক্সবাজার-থ-১১’ লাগিয়ে সড়কে চলাচল করছে। একই অবস্থা মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রেও। শহর ও শহরতলির বিভিন্ন সড়কে নম্বরবিহীন অনেক মোটরসাইকেল দেখা গেছে। এসব বাহনের পেছনে ‘অন টেস্ট’, ভুঁয়া নাম্বার প্লেট, প্রেস সহ বিভিন্ন লেখা প্লেট লাগানো হয়েছে। মাঝে মধ্যে এসব মোটরসাইকেল আটকের নামে পুলিশের ব্যাপক বাণিজ্যের অভিযোগও নতুন নয়।

এলাকার অনেকে এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সামনে দিয়ে অবৈধ যান বাহনগুলো যাতায়াত করলেও তারা কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বাস টার্মিনাল থেকে রামু চৌমুহনী পর্যন্ত অটোরিকশা চালান নুরুল ইসলাম, আবুল ফয়েজ ও রশিদ মিয়া। তাঁরা বলেন, ‘সরকার অটোরিকশার নিবন্ধন বন্ধ রাখায় আমাদের গাড়ি বৈধ হতে পারছে না। অবিলম্বে ওই নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া হোক। ২০২০ সালের শুরুতে কিছু অটোরিকশার নিবন্ধন দেওয়া হলেও এখন বন্ধ রয়েছে।’

একজন ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একই নাম্বার ব্যবহার করে কক্সবাজার শহর সহ জেলার বিভিন্ন সড়ক ও উপ সড়কে ৩/৪ টি করে অটোরিকশা যাত্রী আনা-নেওয়া করছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ ক্ষেত্রে তৎপর নয়।

বিআরটিএ এর কক্সবাজার জেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় আট হাজার ৩৩০টি অটোরিকশার (সিএনজি) অনুমোদন রয়েছে। মোটরসাইকেলের অনুমোদন রয়েছে দুই ক্যাটাগরীর (১২৫ সিসি থেকে ১৬৩ সিসি পর্যন্ত ৮৭০০টি ও ১ সিসি থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত ৮৮০০টি)
১৭ হাজার ৫০০টি। কিন্তু সড়কে প্রায় তিন গুণের বেশি অবৈধ অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। তবে এই বেশির ভাগ অবৈধ যানবাহন থেকে জেলা ট্রাফিক পুলিশ মাসিক মাসোহারাসহ নানান সুঁতোয় অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ।

যোগাযোগ করা হলে বিআরটিএ- কক্সবাজার এর সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল ) উথায়নু চৌধুরী বলেন, লোকবলের অভাবে নিয়মিত অবৈধ যানবাহন ধরা হচ্ছে না। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত কিছু অবৈধ বাহন আটক করেন। পুলিশি তৎপরতা জোরদার হলেই অবৈধ মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা (সিএনজি) আটক করা সম্ভব।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের একটি সুত্র বলছে, শহরে চলাচলকারী অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একাধিকবার অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করেছে।
অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।

 

 

 

 

আপনার মন্তব্য দিন