কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে স্পিডবোট নিয়ে চরম নৈরাজ্য

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নিউজ কক্সবাজার ।।

কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে স্পিডবোট নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। জীবন ঝুঁকিতে জেটি ঘাট। পদে পদে হয়রানী, যাত্রীদের নীরব কান্না, দেখার যেন কেউ নেই।
জানা গেছে, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণ থাকে সারা বছর।
পর্যটন স্পট মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়াসহ উপকূলীয় দর্শনীয় স্থান দেখতে যান বিপুল সংখ্যক পর্যটক।
কক্সবাজার-মহেশখালী বিআইডব্লিউটি এর ৬নাম্বার জেটি ঘাটে পর্যটকসহ যাত্রীদের ভোগান্তির যেন শেষ নেই।
কক্সবাজার জেলা শহরের সাথে মহেশখালী দ্বীপের যাতায়াতের একমাত্র পথ নৌ-রুট। শহরের ৬নং জেটি ঘাটের চিত্র দেখলে মনে হবে এখানে কর্তৃপক্ষের কোনও নজরদারি নেই। জেটিতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে ইজারাদাররা।
জেটিও অনিরাপদ। কাটের তৈরি জেটি পেরিয়ে বোটে উঠতে পারা যেন যুদ্ধ জয়ের সমান। জীবন ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোটে উঠছে নারী শিশুসহ সাধারণ মানুষ। উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী-কুতুবদিয়ার জনমানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌ যানে ব্যাপক নৈরাজ্যেকর পরিস্থিতি সৃস্টি হয়েছে। বর্তমানে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী হয়রানীর মাত্রা বহুলাংশে বেড়ে গেছে এখানে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কক্সবাজার-মহেশখালী নৌ-রুটে তালিকাভুক্ত ১৩০টি স্পিডবোট রয়েছে। তার মধ্যে নিয়মিত ৭০-৮০টি স্পিডবোট চলাচল করছে। ৩০টির অধিক স্পিড বোট ঘাটে মজুদ থাকলেও শতশত যাত্রীদের অনুরোধে কেন ভাড়ায় ব্যবহার হচ্ছেনা, সে বিষয়টি জানার কারও অধিকার নেই। যার যেমন ইচ্ছা তেমনি ভাবেই চলছে ঘাটের চলাচল।

সরজমিনে দেখা গেছে, নৌ রুটে যাত্রা কালে যাত্রীদেরকে লাইফ জ্যাকেট পরানো হয় না। এমন কি লাইফ জ্যাকেটও স্পিডবোটে সংরক্ষিত রাখেনা।
ফলে জীবন ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সময় অসময়ে স্পিড বোট দুর্ঘটনায় প্রাণহানিও কম ঘটেনি এই নৌ রুটে।
যাত্রী অধিকারের বালাই নেই বোট মালিক ও সরকারি কর্তৃপক্ষের। জেটি ঘাটের-এ বিড়ম্বনার শেষ কোথায়? প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের। কিন্তু নিরব প্রশাসন।
এব্যাপারে প্রশাসনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ভাড়া আাদায়সহ স্পীডবোট চালক ও মালিক পক্ষ এই নৈরাজ্য চালাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও পর্যটন মৌসুমকে পুঁজি করে অতিরিক্ত ভাড়া হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগতু আছেই।
এই কারণে বর্তমান পর্যটন মৌসুমে প্রতিদিন এক ভীতিকর ও অসহনীয় পরিস্থিতি বিরাজ করছে ৬নাম্বার জেটি ঘাটে।

আপনার মন্তব্য দিন