কক্সবাজার শহরে উদ্বেগ জনক ভাবে বেড়েছে ছিনতাই : নিহত-২

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

পর্যটম মৌসুমের শুরুতে গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে কক্সবাজার শহরে ব্যাপক হারে বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে তিনদিনে ২জন নিহত ও ১২টির মতো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার সকাল ১১ টায় কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর আগে রোবার সন্ধ্যায় বাসটার্মিনালে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন মেডিপ্লাস কোম্পানীর কক্সবাজারের এমপিও (মেডিকেল প্রমোশন কর্মকর্তা) কর্মকর্তা আনোয়ার হোছাইন (৩৫)।

এসব ঘটনায় ছয়জন ছুরিকাহত হয়ে আহত হয়েছেন। ফের ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কত বোধ করছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান ভাটা পড়ায় আবার ছিনতাই বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৩ নভেম্বর সকালে ১১ টার দিকে কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় ছিনতাকারী দল ছুরির ভয় দেখিয়ে সুজন সিকদার নামে এক ব্যক্তি মোবাইল সেটসহ মালামাল লুট করেছে। এর আগে রোববার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনালস্থ বিএডিসি খামার সংলগ্ন সড়কে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে আনোয়ার হোছাইন (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি মেডিপ্লাস কোম্পানীর কক্সবাজারের এমপিও (মেডিকেল প্রমোশন কর্মকর্তা) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ছিনতাইকারীর হাতে খুন হয়েছেন তিনি। নিহত আনোয়ার হোছাইন বগুড়া জেলার আদমদীঘির তবিবুর রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিএডিসি খামারের পাশে সড়কে ছুরিকাহত ওই ব্যক্তিকে দেখে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাকে বুকে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল, ব্যাগসহ বেশকিছু জিনিস ঘটনাস্থলে পড়েছিল। সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মেডিপ্লাস কোম্পানীর কর্মকর্তা মো. রিমন জানান, তিনি অফিসের কাজ শেষ করে ফেরার পথে হামলার শিকার হন। এবিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে, গত শনিবার ২১ নভেম্বর দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা দক্ষিণ মুহুরি পাড়ায় সাবিলুস সালেহীন (১৮) নামের এক কলেজ ছাত্র ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জনকে আটক করেছে।
নিহত সাবিলুস সালেহীন কক্সবাজার পলিকেটনিক কলেজের ছাত্র এবং মুহুরি পাড়ার হাকিম উল্লাহর ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরের ২৫টিরও বেশি স্পটে ছিনতাইকারীর উৎপেতে রয়েছে। এসব স্পটগুলো হলো, কলাতলী এলাকার সী-ইন পয়েন্ট, সৈকতের হোটেল সী-ওয়ার্ল্ড রোড, বাহারছড়ার জাম্বুর মোড়, সার্কিট হাউসের উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ের চত্বর, লালদীঘির পাড়ের বিহারি গলি, হাসপাতাল রোড, কালুর দোকান, বার্মিজ মার্কেট, খুরুশকুল রোডের মাথা, বাস টার্মিনাল, বিজিবি ক্যাম্পের নারিকেল বাগান, প্রধান সড়কের সাবমেরিন ক্যাবল এলাকা, সিটি কলেজের সামনে, হাশেমিয়া মাদ্রাসা পয়েন্ট, কলাতলীর প্রধান সড়কের টিএন্ডটি অফিসের সামনে, আদর্শ গ্রামের সামনেসহ শহরের ডায়াবেটিক পয়েন্ট।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলীরজাহাল কেন্দ্রিক একটি বড় ছিনতাইকারী চক্র রয়েছে। এই চক্রের সবাই দক্ষিণ রুমালিয়ার ছড়ার। তারা বাসটার্মিনাল থেকে শহরের ঝাউতলা পর্যন্ত টমটমে করে চষে বেড়ান। মূলত টমটমের যাত্রীরাই তাদের একমাত্র টার্গেট। এই ভয়ংকর চক্রটি সন্ধ্যার পর থেকে তৎপর হয়ে উঠে। তারা টার্গেট করে যাত্রী বেশে টমটমে উঠে পড়ে। শহরের আসার পথে আলীরজাঁহাল থেকে হাশেমিয়া মাদ্রাসা ব্রীজ পর্যন্ত স্থানে সুযোগ বুঝে ছুরি ভয়দেখিয়ে টমটম চালক ও যাত্রীদের এবং পথচারীদের জিম্মি করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নেয়। তবে ভীতি সৃষ্টির জন্য অধিকাংশ ঘটনায় ছুরিকাঘাত করে। এতে হতাহতও হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ বলছে, ছিনতাইকারীদের সনাক্তের চেস্টা চলছে।

 

 

আপনার মন্তব্য দিন