কক্সবাজার সৈকতে ভেসে উঠেছে আরো একটি বড় তিমির মরদেহ

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের রামু হিমছড়ি পয়েন্টে ভেসে উঠেছে আরো একটি বড় তিমির মরদেহ। এনিয়ে গত দুইদিনে দুটো তিমির মরদেহ ভেসে আসলো।

শনিবার (১০ এপ্রিল) সকালে তিমিটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। এরআগে ৯ এপ্রিল শুক্রবার বিকালে হিমছড়ি দরিয়ানগর এলাকার সৈকতে ভেসে আসা তিমির মরদেহ জেলা প্রশান, বনবিভাগের যৌথ উদ্যোগে রশিদিয়ে টেনে কুলে তুলে আনেন শতশত জনতা।

শনিবার ভেসে আসা তিমির মরদেহ সৈকতের হিমছড়ি পয়েন্টে পড়ে রয়েছে। কক্সবাজার জেলা প্রশান, বনবিভাগ, পুলিশ প্রশাসন, প্রাণী সম্পদ, মৎস্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। জেলেদের জালে অথবা কিভাবে একের পর এক প্রাণীগুলো মারা যায় তা খুঁজে বের করার দাবী জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

গত ২০২০ সালের লকডাউনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে জীবিত বড় বড় ডলফিনে ঝাঁক দেখা মেলে। এবার আসলো মৃত তিমি। এটি জেলা প্রশান, বনবিভাগের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সাগর সৈকতে ১৯৮৮ সালে প্রথম ব্রাইডস হোয়েল (Bryde’s whale) এই প্রজাতির তিমির মরদেহ প্রথম ভেসে এসেছিল। এরপর ১৯৯১ সালে উখিয়ার ইনানী সৈকতে, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে রামু হিমছড়ি সৈকতে ভেসে এসেছিল একই জাতের বিশালাকার তিমির মরদেহ।২০১৮ সাল পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভেসে উঠেছিল একই প্রজাতির আরো একটি তিমির মরদেহ। এভাবে ২০২০ সালে টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম সৈকতে দেখা মেলে এই প্রজাতির তিমি। সর্বশেষ ২০২১ সালে কক্সবাজার রামু হিমছড়ির ও দরিয়ানগর সৈকতে ব্রাইডস হোয়েল প্রজাতির দুটি বড় তিনি ভেসে আসলো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্রাইডস হোয়েল তিমি বিশ্বের নানান সাগরসহ বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা ‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে’ দেখা যায়। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড হচ্ছে একটি ১৪ কিলোমিটার ব্যাপী বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রের গীরিখাত। প্রাণ সম্পদের গুরুত্ব বুঝে ২০১৪ সালে ২৭ অক্টোবর এই এলাকাকে বনবিভাগের অধীনে মেরিন সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে বাস করে তিমি, ডলফিনসহ নানান জলজ প্রাণ।

এদিকে, সেই সোয়াচে জায়গা জুড়ে রয়েছে ব্রাইডস হোয়েল বা তিমি ও বড় বড় ডলফিনে ঝাঁক। সোয়াচে এলাকায় দিনরাত যদি ফিশিংয়ের কারণে সেখানে বাস করা তিমি, ডলফিন, কাছিমসহ নানান জলজ প্রাণ হুমকির মুখে পড়েছে। সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে ০.১ পারসেন্টও নজরদারি নেই।সংরক্ষিত এলাকাতে মাছ শিকারে প্রবেশ করার সুযোগ নেই। তাহলে ব্ল ইকনোমি ও এসডিজি গোল-১৪ কিভাবে হয়।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এইসব মৃত তিমি কোথায় থেকে আসছে নাকি সোয়াচ থেকে মরে ভেসে আসছে অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, একের পর এক তিমি মারা যাওয়ার ঘটনায় উদ্বিগ্ন আমরা। তথাকথিত মনগড়া কোন পোস্টমর্টেম ও তদন্ত প্রতিবেদন দিলে হবে না। এইসব প্রাণী হত্যার ক্ষেত্রে প্রায় দেখা যায় বা তদন্তে লেখা থাকে হার্ট এ্যাটাক, হিট ষ্ট্রোক, বয়স্ক, বার্ধক্য জনিত রোগসহ আরও কিছু। এতো তালবাহানা না করে জেলেদের জালে অথবা কিভাবে একের পর এক প্রাণীগুলো মারা যায় তা খুঁজে বের করার দাবী তুলেন তিনি।

আপনার মন্তব্য দিন