কসাই থেকে কোটিপতি: শরীফ বলির অর্থের উৎস কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক। 

এক সময়ের কসাই শরীফ বলি এখন কোটিপতি। জায়গা জমি, বাড়ি-ঘর, ব্যবসা বানিজ্য কোন কিছুর অভাব নেই তার। ওসি প্রদীপের দায়িত্বকালীন সময়ে নিজ এলাকায় গড়ে তুলে ছিলেন ক্ষমতার আধিপত্য। একছত্র নিয়ন্ত্রনে নিয়েছিলেন দেশের একমাত্র করিডোর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মৃত সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ শরীফ উরুফে শরীফ বলী। ৭/৮ বছর আগেও কসাই কাজ ও বলী খেলে সংসার চালাতো। এর পরে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে মিয়ানমার থেকে গবাদীপশু আমদানী কারকদের হয়ে গবাদী পশু বিভিন্ন ব্যবসায়িদের কাছে বিক্রি করতো। এভাবে মিয়ানমার ব্যবসায়িদের কাছে বিশ্বস্থতা অর্জন করে।

জনশ্রুতি রয়েছে, স্থানীয় কিছু ইয়াবা কারবারীরা কালো টাকা সাদা করার জন্য তার মাধ্যমে করিডোরে গবাদী পশু ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগ করে। সেই টাকায় ব্যবসা করে কয়েক বছরের মাথায় বনে যায় কোটিপতি। পরবর্তীতে সাবরাং ডেগিল্যার বিল এলাকায় গতবারে ইউপি নির্বাচন করে। ইয়াবা কারবারীরা তার বিজয় নিশ্চিত করতে টাকার যোগান দিয়ে তাকে বিজয় নিশ্চিত করে।

এদিকে বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম সূত্র মতে, গত বছর অক্টোবরে মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের পর টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত বিতর্কিত ওসি প্রদীপের ব্যাপারে অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রদীপ চক্রে এই শরীফ বলির আমলনামা বেরিয়ে আসে। প্রদীপের নাম ভাঙ্গীয়ে করিডোরে চাঁদাবাজি, থানার মেচ চালাতে ব্যবসায়িদের কাছ থেকে মাসিক টাকা আদায়, গ্রেফতার ও ক্রসফায়ার থেকে দ্বায় মুক্তি দিতে সরাসরি ওসি প্রদীপের হয়ে টাকা উত্তোলনসহ অসংখ্য কেলেংকারীতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিনত হয়।

এছাড়াও গবাদীপশু রপ্তানির মাধ্যমে ওসি প্রদীপের অর্থ পাচারের বিষয়টি খুব জোড়ালো ভাবে আলোচনায় আসে।

স্থানীয় সূত্র জানায়- এক সময়ের এই কসাই, প্রদীপের দায়িত্বকালীন দুই বছরের মাথায় বনে যায় টাকার কুমির। নিজের নামে বেনামে গড়ে তোলে সম্পদের পাহাড়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবরাং এলাকায় ১নং খতিয়ান ভূক্ত বিএস ১৫৬৭৪ দাগে ১০ শতক, ১৫৮০৫ দাগে ১৬ শতক, ১৫২৯৭ দাগে ১০ শতক (মার্কেট সহ), ১৫২০৯ দাগে ১৪ শতকসহ মোট ৫০শতক জমির সন্ধান মেলে। এছাড়াও বেশ কিছু সরকারী খাস জমি তার দখলে রয়েছে।

তার এসব সম্পদের উৎস খুজতে গত ফেব্রুয়ারীতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম কার্যালয় তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এবং তাকে বিবরনী দাখিল করতে একটি চিঠি প্রেরণ করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

আসন্ন টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউপি নির্বাচনে ডেগিল্যার বিল ওয়ার্ড থেকে মেম্বার পদে ফের মাঠে নেমেছে অলোচিত শরীফ মেম্বার।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। নির্বাচনে বিরোধীপ্রার্থী নিজের পরাজয় জেনে অপপ্রচারে নেমেছে বলে দাবী করেন।

আপনার মন্তব্য দিন