ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাব: পূর্ণিমার জোয়ারে কক্সবাজারে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ও ভাঙ্গন

খাঁন মাহমুদ আইউব।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানি ৪-৫ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারে সেন্টমার্টিন দ্বীপে জেটিতে ব্যাপক ভাঙ্গন ধরেছে। কুতুবদিয়া উপজেলা, কক্সবাজার শহরতলি,  সদর উপজেলার গোমাতলী ইসলামপুর, পেকুয়া উপজেলার মগনামা, মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা এলাকায় জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়ে বহু ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরে জামান জানান- পূর্ণিমার জোয়ারে দ্বীপের বেড়িবাধ ভেংগে জোয়ারের পানি ঢুকেছে। এতে কয়েকটি ইউনিয়নে অন্তত ২৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে ঘর-বাড়ি ও ফসলী জমি ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেড়িবাধের বাইরে থাকা ঘর-বাড়ি গুলো জলোচ্ছ্বাসে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই পর্যন্ত দ্বীপের ৮ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে।

কক্সবাজার শহরতলীর সমিতি পাড়া সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট সহ ১০টি গ্রাম জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার গোমাতলী ও ইসলামপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে নির্মানাধীন নেড়িবাধ ব্যাপক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছে।

সেন্টমার্টিন্স দ্বীপের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ জানান- পূর্নিমার জোয়ারে দ্বীপের একমাত্র জেটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙ্গন ধরেছে ও দ্বীপের চারিদিকে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দ্বীপের অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি ও ১৫ টি পর্যটন রিসোর্ট।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী  আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান- ঘুর্ণিঝড় ইয়াস ও পুর্নিমা জোয়ারের প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিন আল পারভেজ জানান- ঘূর্ণিঝড় ইয়াস জেলায় সরাসরি আঘাত না হাললেও পূর্ণিমার জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল গুলো প্লাবিত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরীর কাজ চলছে।

আপনার মন্তব্য দিন