চকরিয়ায় দখলবাজ চক্রের কারসাজিতে কেনা জমি নিয়ে আতঙ্কে একটি পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া

চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে দখলবাজ চক্রের কারসাজিতে ৪৫বছর আগে কেনা জমি রক্ষা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন একটি পরিবার। বারবার ওই পরিবারটির ক্রয়কৃত জমি দখলে হামলা চালাচ্ছে একটি দখলবাজ চক্র। এ ঘটনায় জমি মালিক জয়নাল আবেদিন উদ্বেগ আতঙ্কে ভুগছেন।

জমি মালিক জয়নাল আবেদিনের অভিযোগ, ঢেমুশিয়া জিন্নাত আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বহিরাগত লোক জড়ো করে বারবার তাঁর ক্রয়কৃত জমি দখলে হানা দিচ্ছে। চকরিয়া—পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলমের হস্তক্ষেপে স্থানীয়ভাবে সালিশ বিচারে বিষয়টি চুড়ান্তভাবে সমাধান হলেও অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম তা অমান্য করে চলছেন। উল্টো প্রতিনিয়ত হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। এই অবস্থায় তিনি ক্রয়কৃত জমি সমুহ রক্ষা করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

অভিযোগে ঢেমুশিয়া ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের গান্ধিপাড়া গ্রামের মরহুম রহিম বকসুর ছেলে জয়নাল আবেদিন জানান, ১৯৭৬ সালের ১৪ অক্টোবর ৭৬৭৪ নং রেজিস্ট্রাট কবলামুলে তিনি আগের মালিক থেকে উচিতমুলে ঢেমুশিয়া মৌজার বিএস ৪৯৯ খতিয়ানের বিএস ১৭০১ দাগ থেকে ৪০ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবতীর্তে ক্রয়কৃত উল্লেখিত জমির বিপরীতে আলাদা জমাভাগ খতিয়ানও সৃজন করেন তিনি। সেই থেকে তিনি উল্লেখিত জমিতে বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।

জমি মালিক জয়নাল আবেদিন দাবি করেন, তিনি আগের মালিক থেকে জমি কেনার পর পরবতীর্তে আরও দুইজন একই মালিকের কাছ থেকে ৪০ শতক করে ৮০ শতক জমি ক্রয় করেন। তাদের নামেও আলাদা খতিয়ান সৃজিত হয়েছে। কিন্তু আমি জমি কেনার প্রায় ৪৫বছর পরে এসে আগের মালিকের অবশিষ্ঠ অংশ থেকে শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম কিছু পরিমাণ জমি ক্রয় করেন। যদিও সর্বশেষ বিক্রিত জমি থেকে আগের মালিক বাড়িভিটা হিসেবে কিছু জমি রেখে দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী জয়নাল আবেদিনের অভিযোগ, আগের মালিক সব জমি বিক্রি করে নিস্বর্তবান হলেও তিনি মাস্টার সিরাজুল ইসলামের অংশের জমি বাড়িভিটা হিসেবে রেখে দেয়ায় জটিলতা তৈরী হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আগের মালিক মোহাম্মদ হোসেন প্রথমে স্থানীয় ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদে একটি অভিযোগ দেন। পরবতীর্তে চকরিয়া—পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জাফর আলম এমপির হস্তক্ষেপে স্থানীয়ভাবে (তিনজন মেম্বার ও দুইজন গন্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত বিচার বোর্ড) সালিশ বিচারে বিষয়টি চুড়ান্তভাবে সমাধানও হয়েছে। সেখানে আগের মালিক মোহাম্মদ হোসেন এর কোন আপত্তি না থাকলেও সর্বশেষ জমির ক্রেতা অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম সালিশ বিচারের রোয়েদাদ অমান্য করে উল্টো আমার অংশের জমি দখলে মেতে উঠেছে। দফায় দফায় জমিতে হামলা চালানোর পাশাপাশি এখন আমাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন মাস্টার সিরাজুল।
জমি মালিক জয়নাল আবেদিন জানান, আমার ক্রয়কৃত জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে এখন অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম উল্টো আমাকে খতিয়ান সৃজন করে দেয়ায় ইউনিয়ন ভুমি তহসিলদার আবুল মনছুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি তিনি তাঁর পরিচিতজনের (যার সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে সম্পৃক্তা নেই) বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ায় তা নিয়েও ধু¤্রজাল তৈরী করছে।

বিষয়টি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুর্ববড় ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা (তহসিলদার) আবুল মনছুর বলেন, জমির মালিকানা সঠিক থাকে খতিয়ান ও দলিলপত্রের আলোকে। সেখানে আগের মালিক জমি বিক্রি করলেও বাড়িভিটার অংশ রেখে দেয়ায় মাস্টার সিরাজুল ইসলামের ক্রয়কৃত জমি বুঝে পেতে সংকট তৈরী হয়েছে। অথচ তিনি একজন গণিতের শিক্ষক। যেখানে তিনি অংক বুঝেনা, সেখানে তিনি অংকে ভুল করলে কীভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠ দেবেন।

তিনি বলেন, ঢেমুশিয়া মৌজার ওই জমির মুল মালিক দুই ভাই মোহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ হোছন। বন্টন মতে দুই ভাই জমি পাবেন সমান সমান। মোহাম্মদ আলী যা পাবেন তার সম্পুর্ণ অংশ বিক্রি করে দেন। কিন্তু ০.৩০ একর বাড়ী ভিটা এখনো দখলে আছেন। আর নিজ দখলে ০.৩০ একর রেখেও সম্পুর্ণ জমি ক্রেতাগনের সর্বশেষ ক্রেতা হচ্ছেন গণিত শিক্ষক সিরাজুল।
মুলত শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম মোহাম্মদ আলী থেকে ক্রয় করা জমি পুষিয়ে নিতে চাইলে মোহাম্মদ হোসেনের অবিক্রিত জমিতে যেতে হবে। সেখানে জয়নাল আবেদিনের জমিতে যাওয়া দখলবাজির সামিল।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বুধবার বিকালে মুঠোফোনে বলেন, আমি সাক্ষাতে এসে বিস্তারিত জানাবো। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুইদিনেও তিনি আর বিস্তারিত জানাননি। তাই বিষয়টির আলোকে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য দিন