‘চোখ’: রাস্কিন বন্ড এর ছোটগল্পের ভাষান্তর

চোখ- রাস্কিন বন্ড সংগৃহীত

শাহ মোহাম্মদ দীদার

রাস্কিন বন্ড মূলত ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ভারতীয় লেখক। তার গল্প দি আইজ হ্যাভ ইট (দি গার্ল অন দ্যা ট্রেন এবং দি আইজ আর নট হিয়ার নামেও পরিচিত) ২০০০ সালে পেঙ্গুইন বুকস থেকে প্রকাশিত দি বেস্ট অভ রাস্কিন বন্ড দিল্লী ইজ নট ফার বই থেকে নেওয়া। রাস্কিন বন্ড’র জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৪ সালে হিমাচল প্রদেশের কসৌলিতে

রেলগাড়ির কামরায় রোহানা পর্যন্ত আমি একাই ছিলাম। এরপর একটা মেয়ে উঠল। এক দম্পতি মেয়েটাকে ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছিল, তারা খুব সম্ভবত মেয়েটার বাবা-মা’ই হবে। মেয়েটার নিরাপত্তা আর স্বাচ্ছন্দ্য যাত্রা নিয়ে তাদেরকে বেশ শঙ্কিত মনে হল। দম্পতিদের মধ্যে বিশেষ করে মহিলাটির চোখে-মুখে প্রবল উদ্বিগ্নতার ছাপ। ট্রেনের কোথায় মাল-সামানা রাখতে হবে, কীভাবে রাখতে হবে সে বিষয়ে মেয়েটাকে তিনি বিস্তারিত জ্ঞান দিলেন। সেই সাথে কখন ট্রেনের জানালা দিয়ে উঁকি দেয়া যাবে না, কীভাবে অপরিচিত যাত্রী আগ বাড়িয়ে আলাপ জমাতে এলে কৌশলে এড়াতে হবে ইত্যকার তালিমও দিলেন।

যথারীতি বাবা-মা ও মেয়েটা একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিলেন। ট্রেন স্টেশন ছাড়ল। যেহেতু আমি তখন সম্পূর্ণ অন্ধ, ফলে আলো আর আঁধারের উপস্থিতি অনুধাবন করা ছাড়া জগতের আর কোন বস্তুর রঙ ও তার আকার আকৃতি অনুমান করা আমার পক্ষে একেবারে অসম্ভব ছিল। যে মেয়েটা আমার কামরায় যাত্রী হিসেবে এলো, সে দেখতে কেমন, তার উচ্চতা কিংবা গায়ের রঙ কোনোটাই আমার পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। ট্রেনের কামরায় উঠে আসা অবধি মেয়েটার নরম কোমল পায়ের তলাকে চটিজোড়া যেভাবে অনবরত চপেটাঘাত করে যাচ্ছিল, সেখান থেকে কোনরূপ ভুল ছাড়াই এটা অনুমান করতে পেরেছিলাম যে মেয়েটা চপ্পল পড়ে আছে।

এটা ঠিক যে তার সম্পর্কে একটা মোটামুটি ধারণা পেতে আমার যথেষ্ট সময় লেগে যাবে কিংবা এমনও হতে পারে আদৌ সেটা সম্ভব হবে না। তারপরও অন্তত এটা বলতে পারি, তার কণ্ঠস্বরে যে সাঙ্গীতিক দোলা সেটা আমার ভারি পছন্দ হয়েছে; যেমনটা আমাকে আন্দোলিত করেছে তার কোমল পায়ের তলার সাথে চপ্পলের অনবরত আঘাতের সুর তরঙ্গ।

‘আপনি কী দেহরা পর্যন্তই যাচ্ছেন?’ – কোনরূপ ভনিতা ছাড়াই জিজ্ঞাসা করলাম।

আমার এমন জিজ্ঞাসায় সে সহসাই ভূত দেখার মত চমকে উঠল। কামরায় যে আরো কেউ একজন আছে সেটা সে আদপে আন্দাজ করতে পারেনি। কামরার অন্ধকার কোণে ঘাপটি মেরে ছিলাম কী না! প্রত্যুত্তরে সে যথেষ্ট বিস্ময়াভিভূত হয়ে সশব্দে বলে উঠল, 

‘এই ঘরে আরো কেউ একজন যে আছে, আমি তো জানতামই না।’

হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে এমন হয়েই থাকে। প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন লোকজনও ঠিক তাদের চোখের সামনে যে আছে, চারপাশে যা কিছু ঘটে, তার অনেক কিছুই অথবা কোন কিছুই দেখতে পায় না। তাদেরই আবার কত কী দরকার হয়! তাদের সাথে করে কত কিছু নিতে হয়! অথচ কী আশ্চর্য! যারা অন্ধ অথবা খুব ক্ষীণ দৃষ্টিশক্তির তারা কেবল সেসব দরকারি জিনিসপত্র সাথে নেয় যেগুলির বিষয়ে তাদের আগে থেকে ধারণা থাকে। 

‘আমি আপনাকে দেখতে না পেলেও’, বললাম তাকে ‘আপনার আগমন কিন্তু ঠিকই টের পেয়েছি।’

কিন্তু এর মধ্যে আমি খুব ভয়ে ভয়ে আছি। কখন তার কাছে ধরা পড়ে যায়। যদি কোনোভাবে তার কাছে আমার অন্ধত্ব লুকিয়ে রাখতে পারতাম! আমি আমার সিটে স্থির হয়ে বসে কোনরূপ এদিক ওদিক না করলেই হয়তো সেটা সম্ভব। এটা এমন খুব কঠিন হবে বলে মনে হল না।

যখন এসব ভাবছিলাম, তখন নিরবতা ভেঙ্গে মেয়েটা বলল, ‘আমি সাহারানপুরে নেমে যাব। আমার কাকী সেখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।’

মনে মনে ভাবলাম ‘তবে তো আমার আর কথা বাড়িয়ে কোন লাভই নেই।’ উত্তরে বললাম, ‘কাকীরা সচরাচর খুব ভয়ানক কিসিমের প্রাণী হয়ে থাকে।’

– ‘আপনি কোথায় যাচ্ছেন?’

-‘আগে দেহরা যাব, সেখান থেকে মূসৌরি।’

-‘বাহ! কী সৌভাগ্য আপনার! আমার অনেক দিনের ইচ্ছে মূসৌরি যাবার। পাহাড় আমার খুব ভালো লাগে, বিশেষ করে অক্টোবরে।’

কোনমতে স্মৃতি হাতড়ে বললাম, ‘হ্যাঁ, মূসৌরি ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময়ের কথাই বললেন’। ‘বুনো ডালিয়ায় এ সময় পাহাড়গুলো ঢাকা থাকে, সূর্যটা হয়ে উঠে নরম কোমল। আর রাতে! রাতে আপনি চ্যালা কাঠের আগুনের উত্তাপ নিতে নিতে ব্রান্ডিতে একটু একটু করে চুমুক দিতে পারেন। বেশিরভাগ পর্যটক এ সময় চলে যায়। ভিড় বাট্টায় দুমড়ানো-মুষড়ানো রাস্তাগুলো এসময় কী আশ্চর্য শান্ত হয়ে উঠে। এক রকম মরুভুমিই হয়ে যায় এ সময়। হুম, ঠিকই, মূসৌরি ভ্রমণের সর্বোৎকৃষ্ট সময় অক্টোবরই।’

তার দিক থেকে আশ্চর্য শান্ত নীরবতা। বরফ শীতলতা যেন। ভাবছিলাম, আমার কথাগুলো কী তাকে খুব ছুঁয়ে গেছে? না কি সে আমাকে নিছক কল্পনাবিলাসী ভাবাবেগপ্রবণ মূর্খই ভাবছে? কিন্তু এর মধ্যে আমি সবচে বড় ভুলটা করে ফেললাম।

তাকে জিজ্ঞাসা করলাম- ‘বাইরে কেমন দেখাচ্ছে?’

সম্ভবত এই প্রশ্নে কোন ধরনের হেয়ালিপনা অথবা অবাক হবার মতন কোন কিছুই খুঁজে পায়নি সে। আমার ভয় হল, তবে কী সে এর মধ্যে বুঝে ফেলেছে, আমি অন্ধ! কিন্তু তাঁর পরের প্রশ্নটা শুনে আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

কণ্ঠে সে সমস্ত দৃঢ়তা জড়ো করে প্রশ্ন দিয়েই উত্তর দিল, ‘আপনি নিজে দেখে নিচ্ছেন না কেন?’ সহসা আমি খিড়কির দিকে সরে গেলাম আর খিলানটা হাতড়ে দেখলাম জানালাটা খোলাই ছিল। জানালার দিকে তাকিয়ে বাইরের দৃশ্য মিছিমিছি বর্ণনার মধ্য দিয়ে একটু নাটুকেপনার আশ্রয় নিলাম। ট্রেনের রুদ্ধশ্বাসে ছুটে চলার শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। শুনতে পাচ্ছিলাম ট্রেনের চাকার ঘর্ঘর শব্দ। আর মনের চোখ দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলাম টেলিগ্রাফের পোস্টগুলি একের পর এক ঝলকানি দিয়ে চলে যাচ্ছে।

সহসা জিজ্ঞাসা করলাম, ‘আপনি কী খেয়াল করেছেন – মনে হচ্ছে না যে আমরা কেমন যেন পাথরের মতন ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছি আর ওই যে বিস্তীর্ণ প্রান্তর, ওই যে সবুজ গাছ-গাছালি, বন-বাঁদাড় কেমন দৌঁড়াচ্ছে?’

‘এটা কী বিশেষ কিছু? এরকম তো সবসময় হয়। আপনি কোন জীবজন্তু দ্যাখতে পাচ্ছেন’ – জিজ্ঞাসা করল আমাকে!

একেবারে নিঃসঙ্কোচে বললাম, ‘না।’ আমি বেশ নিশ্চিত ছিলাম – এসময় দেহরার কাছাকাছি বনের মধ্যে কোন জীবজন্তু দেখতে পাবার কথা না।

আমি জানালার পাশ থেকে সরে এসে মেয়েটার মুখের দিকে তাকালাম। কিছুক্ষণের জন্য আমাদের মধ্যে আবারো নীরবতা নেমে এল। 

বললাম-‘আপনার চেহারাটা বেশ আকর্ষণীয়।’ বুঝতে পেরেছিলাম এর মধ্যে আমি খুব সাহসী হয়ে উঠেছি, তবে আমার মন্তব্যটাও বেশ নিরাপদ। জানি, ‘খুব কম মেয়েই আছে যারা প্রশংসা প্রতিহত করতে পারে।’

খুব মোলায়েম একটা হাসি দিল সে। স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে সে আমার মন্তব্যে সে বেশ আনন্দিত।

‘আমার চেহারাটা খুব চিত্তাকর্ষক, এটা শুনতে পারাটা নিঃসন্দেহে আমার জন্য আনন্দদায়ক। আমি খুব সুন্দরী-এটা শুনতে শুনতে আমি ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’

আপনার চেহারাটা ভারি সুন্দর, এটাইতো আমি ভাবছিলাম মনে মনে। আমি সমস্বরে বললাম, ‘ঠিক আছে, আকর্ষণীয় চেহারাও অবশ্য খুব সুন্দর হতে পারে।’

সে বলল-‘আপনি তো বেশ প্রেমিক পুরুষ দেখছি।’ ‘কিন্তু সব কিছু এতো গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন কেন বলুন তো?’

একথা শুনে ভাবলাম, এখন অন্তত মেয়েটার জন্যে আমার একটু হাসি হাসি ভাব করা দরকার। কিন্তু হাসার বৃথা চেষ্টা করাটা আমাকে খুব অস্থির করে তুলল আর মনে হচ্ছিল রাজ্যের সমস্ত একাকিত্ব আমাকে ঘিরে ফেলেছে।’

কথার মোড় ঘুরিয়ে বললাম, ‘আপনার নেমে যাবার সময় হয়ে এসেছে।’ সামনেইতো আপনি নেমে যাবেন।

‘যাক বেঁচে গেলাম, এই জার্নিটা খুব দীর্ঘ হলো না। দু-তিন ঘন্টার বেশি সময় ট্রেনে বসে থাকতে আমার একেবারে অসহ্য লাগে!’

যদিও আমি তখন ভাবছিলাম যে আমি এরকম অনন্য সুন্দরী যাত্রীর পাশে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকে শুধুমাত্র তার কথা শুনতে শুনতে যেকোনো দূরত্বে ভ্রমণ করার জন্য এক পায়ে খাঁড়া। তার কণ্ঠে ঝর্ণার কলকল শব্দের কী এক মোহময়তা। কিন্তু আমি জানি, সে যখনই ট্রেন থেকে নেমে যাবে সাথে সাথে পেছনে ছুঁড়ে ফেলবে আমাদের মধ্যকার এই অন্তরঙ্গতা। কিন্তু আমার কাছে তার রেশ এই দীর্ঘ ভ্রমণ অবধি এমন কী এরপরেও আরো কিছুদিন থেকে যাবে।

ইঞ্জিনের শব্দ ধীরে ধীরে কমে আসছে। মেয়েটা আস্তে আস্তে তার জিনিস-পত্তর নামাতে শুরু করল। আমি কল্পনায় ভাবছিলাম, সে কী তার চুলগুলো খোঁপা করে বেঁধেছে নাকি বিনুনি করেছে! খুব সম্ভবত চুলগুলো তার কাঁধ অবধি এসে বাতাসে খেলা করছে অথবা আরো একটু ছোট করে ছাঁট দেওয়া চুলে ঢেউ তুলছে?

ট্রেন ইস্টিশানে আস্তে করে থামল। বাইরে কুলি আর ফেরিওয়ালাদের হল্লাচিল্লা। এর মধ্যে আমাদের কামরার কাছে একটা নারীকণ্ঠের উচ্চকিত চিৎকার শোনা গেল। খুব সম্ভবত মেয়েটার কাকী। 

মেয়েটা বলল- ‘ভালো থাকবেন!’

সে আমাকে ঘেঁষেই দাঁড়িয়েছিল। সে এতটা কাছে এসেছিল যে তাঁর মখমলের মতন নরোম মোলায়েম চুলের সুঘ্রাণ আমাকে মাতাল করে তুলছিল। আমি হাত বাড়িয়ে তার চুলের পরশ নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু এর মধ্যেই সে চলে গেলো। যেখানে সে দাঁড়িয়েছিল, সেখান থেকে এখনো তার চুলের মাতাল করা খোশবুর রেশ ভেসে আসছিল।

কামরার দরজার দিকে কিছুটা ধন্দ লেগে ছিল আমার। একজন লোক কামরায় উঠে এলো আর তো তো করে ক্ষমা প্রার্থনা করছিল। এর মধ্যে কম্পার্টমেন্টের দরজাটায় সজোরে শব্দ হলো আর সেই সাথে আবারো বন্ধ হয়ে গেলো বাইরের পৃথিবী। আমি আমার জায়গায় ফিরে এলাম। গার্ড সজোরে হুইসেল বাজাল। সেই সঙ্গে ট্রেনও চলতে শুরু করল। আমারও আবার নতুন যাত্রীর সাথে নতুন করে সে খেলাটা শুরু করতে হলো।

ট্রেন আবারো তার অদম্য গতিতে চলতে শুরু করছে। ট্রেনের চাকাগুলোও কু-ঝিঁক ঝিঁক কু-ঝিঁক ঝিঁক ডাকতে শুরু করল। আমি জানালাটা খুঁজে পেলাম আর জানালার দিকে মুখ করে সূর্যের দিকে তাকালাম। যদিও বাইরে দিনের আলোয় উদ্ভাসিত মাঠ-ঘাট, চরাচর, কিন্তু আমি অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই টের পাচ্ছিলাম না।

জানালার বাইরে কত যে কী ঘটে যাচ্ছে। বাইরে কী কী হচ্ছে সেটা অনুমান করা একটা খেয়ালি খেলাও হতে পারে।

যে নতুন পুরুষ যাত্রীটা উঠে এল, অকষ্মাৎ সে আমার চিন্তায় ছেদ ঘটালো।

‘আপনার পাশে থেকে যে অনন্য সুন্দরী যাত্রী মাত্র নেমে গেলো, তার মতন অতোটা আকর্ষণীয় যাত্রী আমি নই আর এটা ভেবে আপনি নিশ্চয় খুব হতাশ হয়ে পড়েছেন।’

বললাম- ‘সে আসলেই খুব আকর্ষণীয় একটা মেয়ে।’ ‘আচ্ছা আপনি কী বলতে পারেন তার চুলগুলো লম্বা না কাঁধ অবধি ছিল?’

‘আমি মনে করতে পারছি না।’ আমার প্রশ্নে তাকে বিভ্রান্ত মনে হল। ‘আমি তার অসাধারণ সুন্দর চোখজোড়ার দিকে তাকিয়ে ছিলাম চুলের দিকে তাকাবার ফুরসতই মিলল না।’

‘তার চোখগুলো গভীর আর কারুকার্য খচিত, অনন্য সাধারণ। আফসোস এই চোখগুলো তার কোন কাজেই লাগলো না। খুব ভুল জায়গায় চোখ দুটো। সেতো সম্পূর্ণরুপে দৃষ্টিহীন, আপনি কী তা খেয়াল করেননি?’

শাহ মোহাম্মদ দীদার পেশায় একজন উন্নয়ন সংগঠক। প্রবীণদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন। জেরিয়াট্রিক হেলথ, ডিজএ্যাবিলিটি ইস্যু, প্রবীণবান্ধব সমাজ ব্যবস্থা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তার কাজের ক্ষেত্র। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
আপনার মন্তব্য দিন