জাতির জনকের প্রতি আসম্মান সহ্য করা হবেনা- কক্সবাজার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা

খাঁন মাহমুদ আইউব, বিশেষ প্রতিনিধি।

হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্থপতি। তাকে নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করা মানে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। বিশ্বের বিভিন্ন মুসলমান দেশে  মুসলিম অনেক নেতাদের ভাস্কর্য রয়েছে, এমনকি এদেশেও রয়েছে। শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মানের বেলায় ধর্মের দোহাই দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চায় একটি মৌলবাধী স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। তাই এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
আজ শনিবার দুপুরে ‘জাতির পিতার সম্মান রাখবো মোরা অম্লান’ শ্লোগান নিয়ে কক্সবাজার সৈকতের কবিতা চত্ত্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যুতে কক্সবাজার জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ভাস্কর্য আর ধর্ম বিষয়টি দুটি আলাদা। দুটোকে এক করে জল ঘোলা করা মোটেও অনুচিত। জাতির প্রেরনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় ভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তার ধারাবাহিকতায় ১৬ ডিসেম্বর সৈকতের বালিয়াড়িতে বঙ্গবন্ধুর বালুর ভাস্কর্য নির্মাণ করে আমরা সবাই নিরবে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাবো।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আমিন আল পারভেজের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তারা বলেন, এদেশে সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম, কুরান-হাদিসের নির্দেশনার সাথে আমাদের কোন দ্বিধা নেই। আমরা বিশ্ব নবী মুহাম্মদ (সঃ) আদর্শ লালন করি। একটি ধর্মান্ধ পথভ্রষ্ট গোষ্টি মুর্তি আর ভাস্কর্যকে এক করে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। পুজার জন্য নয়, জাতির জনকের সম্মানার্থে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। এই দেশের মহান স্বাধীনতার স্থপতির প্রতি অসম্মান সহ্য করা হবেনা বলেও হুশিয়ারী দেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন, জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াত, পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার মোঃ জিল্লুর রহমান, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সুপার আতিকুর রহমান, কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক ফাহমিদা বেগম, সিভিল সার্জন ডাঃ মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর পার্থ সারথি, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার, কামাল হোসেন চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কান্তি পাল প্রমুখ।
আপনার মন্তব্য দিন