জীবনযুদ্ধে হার না মানা দুই প্রতিবন্ধী বন্ধুর গল্প

শাহ্‌ মুহাম্মদ রুবেল, নিউজ কক্সবাজার।

অল্পতেই যারা হাল ছেড়ে দেয়, বিরক্ত হয় আশেপাশের জগতটার উপর, তাদের জন্য এই গল্প। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বেশি নেই, এমন অজুহাতে যারা আফসোস করে, গল্পটা তাদের জন্য। “প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মেছি, কী আর করব”- এমন কথা যারা বলে, গল্পটি তাদের জন্য।

কামাল হোসেন মিয়ানমার সেনাবাহিনী কতৃক নির্যাতিত হয়ে ২০০০ সালে বাংলাদেশে চলে আসেন।  সুখ, দুঃখের পাঁচটি বছর কাটে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এরপর ২০০৫ সালে ভাগ্য বদলের লক্ষ্যে পাড়ি জমান মালেয়শিয়ায়। সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ নেন। একদিন কাজ করতে গিয়ে সুউচ্চ ভবন থেকে পরে পা হারান তিনি। জীবনে নেমে আসে অন্ধকার কালো মেঘ৷ কোনরকম বাংলাদেশে ফিরে বেসরকারি এনজিও সংস্থার সহযোগিতায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ শুরু করেন।  সেখানে প্রথম পরিচয় হয় আরেক প্রতিবন্ধী হামিদ হোসেনের সাথে৷ পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব।

তাদের বন্ধুত্বের বয়স ১০ বছরের অধিক। এই সময়ে তারা একে অপরের পাশে ছায়া হয়ে রয়েছেন। সুখে যেমনটি পাশে থাকেন দুঃখেও তেমনি কাছে থাকেন। তাদের বন্ধুত্ব গোটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটা উদাহরণ বলছিলেন প্রতিবেশী কবির আহমেদ। এমন বন্ধুত্ব আমরা স্বাভাবিক মানুষের মধ্যেও কখনো দেখি নাই  তিনি জানান।

কুতুপালং বি ব্লকের লিডার নুর হোসেন জানান, প্রতিবন্ধীদের অবহেলা না করে তাদেরকে সমাজের একটা অংশ হিসেবে মনে করা আমাদের সকলের উচিৎ৷

রাজাপালং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সেসকল এনজিও কাজ করে তারা যদি উদ্যোগ নেয় প্রতিবন্ধীদের সম্পদে পরিণত করা যাবে।

আপনার মন্তব্য দিন