জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সাব্বির আহমদের থানায় অভিযোগ 

বার্তা পরিবেশক

নিজের ও নিজের পরিবারের সদস্যগণসহ কর্মীদের জানমাল ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে ৪ নম্বর সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সাব্বির আহমেদ। অভিযোগে একই ওয়ার্ডের মোঃ শরীফকে বিবাদী করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে  তিনি উল্লেখ করেন,  মোঃ শরীফ টেকনাফ থানায় ৫০০ জনের তালিকাভুক্ত ইয়াবা গডফাদার। বিগত ২০১১ সালের ৪ নম্বর সাবরাং ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে আমি বিপুল পরিমাণ ভোটে জয়লাভ করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জনগণের সেবার মাধ্যমে আমি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলাম। 

একই ওয়ার্ডে ২০১৬ সালে আমি পুনরায় নির্বাচন করলে মোঃ শরীফ আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। সে কালো টাকার বদৌলতে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীগণকে বশে এনে আমার সুনিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। এবং আমার শতবর্ষী চাচাকে মারধরের মাধ্যমে মারাত্মকভাবে আহত করেছিল। 

তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে আমাকে সাদা পোশাকধারী লোকজনের হাতে তুলে দিয়েছিল এবং কুমিল্লার বুড়িচং থানার মামলায় আমাকে জড়িয়ে হয়রানি নাজেহাল ও জেল হাজত বাস করিয়াছিল। উক্ত মামলায় আমি জামিন লাভ করলে জেল গেট থেকে পুনরায় সাদা পোশাকধারী লোকজন দিয়ে আমাকে তুলে নেয়া হয়েছিল। 

পরবর্তীতে আমি কোনরকমে ছাড়া পাইলে মোঃ শরীফ টেকনাফ থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ এর পা চাটা কুকুর ও খাস দালাল ছিল বিধায় প্রদীপ কুমার দাস কে দিয়ে আমাকে অপহরণ করে সীমাহীন নির্যাতন করেছিল এবং ক্রসফায়ারে দেওয়ার সুগভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। 

মেজর সিনহা হত্যা মামলায় প্রদীপ কুমার দাশ গ্রেপ্তার হলে আমি কোনরকম জানে রক্ষা পায়। বর্তমান ২০২১ সালের নির্বাচনে ও আমি ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। মোঃ শরীফ কালো টাকার জোরে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার এবং বিজিবি সদস্যগণকে বশে এনে আমার সুনিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়। এবং নির্বাচন-পরবর্তী আমার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফাঁকা গুলি সহ সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।  

আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদেরকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। মোঃ শরীফ একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক বিধায় যেকোনো সময় আমার এবং আমার পরিবারের লোকজনদের জান মালের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছি। 

উল্লেখ্য, মোঃ শরীফ প্রদীপ কুমার দাসের সহযোগিতায় হাজার হাজার একর খাস জমি দখল ও সরকারী জমির উপর মার্কেট নির্মাণ করেছে যা তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে। 

সাব্বির আহমদের আবেদনটি বিবেচনা করে তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করে মোঃ শরীফের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। 

আপনার মন্তব্য দিন