ঝাউবন বিদ্যা নিকেতনে ১৪ বছর পর উড়ল লাল-সবুজ পতাকা

কক্সবাজার শহরতলির দরিয়ানগর বড়ছড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘ঝাউবন বিদ্যা নিকেতন’এ দীর্ঘ ১৪ বছর পর উত্তোলন করা হয়েছে জাতীয় পতাকা। জাতীয় সংগীতের তালে তালে সুতোয় টান দিয়ে স্থানীয়রা যখন লাল সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিল তখন তাদের প্রত্যেকের চোখ ছিল অশ্রুসিক্ত।

জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্ররা তাদের স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণের মাধ্যমে দেড়-দুই যুগে আগের ফেলে আসা দিনে ফিরে যায়। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। দরিয়ানগর থেকে ১৪ বছর পর রাজারবাগীরা আস্তানা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রবিবার ঝাউবন স্কুলে জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ড পুনর্নির্মাণ করে গ্রামবাসী।

সোমবার (১ নভেম্বর) সকালে অতিথিদের সাথে নিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে শামিল হন এলাকার গণ্যমান্য মুরুব্বী ও বিভিন্ন বয়সের নারী ও শিশুরা।

ইতালির ক্যাথলিক খৃস্টান ধর্মপ্রচারক ফাদার লুপি সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্টের ‘দরবার পাড়ায়’নব্বই দশকের শুরুতে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু শহরের সমুদ্র তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষকে উচ্ছেদ করে দরিয়ানগরে পুনর্বাসন করা হলে সেখান থেকে এই স্কুলটিও স্থানান্তর করে এখানে আনা হয় এবং নামটিও অপরিবর্তিত রাখা হয়। এখানে নির্মাণ করে দেয়া হয় টিনের ছাউনীযুক্ত পাকা ভবন।

এই স্কুলটি উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক এনামুল কবির। জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের ৩ বছর বেতন ভাতাও দেওয়া হয়েছে।

বাকি সময়ে ইতালির ফাদার লুপির পক্ষ থেকেই বেতন ভাতা দেয়া হয়েছিল। এখানে ছিল শতাধিক শিক্ষার্থীও। এক একর আয়তনের জমিসহ ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি ও আরও একই পরিমাণ জমিসহ গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি ২০০৭ সালে জোরপূর্বক জবর দখল করে রাজারবাগ পীর দিল্লুর রহমানের প্রতিষ্ঠানের নামে সাইনবোর্ড ঝুলানো এবং স্কুলের জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ড ভেঙ্গে ফেলা হয়।

এতেই থেমে থাকেনি, তারা জাতীয় পতাকা দুমড়ে মুচড়ে ফেলে নতুন করে তাদের পীরের নামে পতাকা তুলে দেয়। এতে শিক্ষা বঞ্চিত হয় শতশত শিক্ষার্থী। এরপর থেকে গত ১৪ বছর ধরে জাতীয় পতাকার পরিবর্তে উড়ছিল তাদের পতাকা। সেই ‘কালো’পতাকার পরিবর্তে ১৪ বছর পর এখন এখানে উড়ছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। স্কুলটি জবর দখলমুক্ত হওয়ার পর স্কুলটি একই নামে ঝাউবন বিদ্যা নিকেতন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রামবাসী।

অভিযোগ রয়েছে, রাজারবাগী এসব আস্তানা থেকে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে ‘পীরের কেরামতি’ফলায় রাজারবাগ পীরের বেতন ধারী সহযোগীরা। এর শিকার শহরতলীর এই গ্রামের বহু মানুষ। সে সাথে মসজিদে কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো ছিল নৈমিত্তিক বিষয়।এরই পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর আন্দোলনের মুখে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আস্তানা সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রাজারবাগিরা।   অধিকার 

আপনার মন্তব্য দিন