টেকনাফে আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারিদের হামলায় সাবরাং ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আহত

বার্তা পরিবেশক :

টেকনাফের সাবরাংয়ে আত্মস্বীকৃত দুই সহোদর ইয়াবা কারবারীর হামলায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি হুমায়ন কবির আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত হুমায়ন কবির সাবরাং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এবং কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারণ সম্পাদক।

হুমায়ুন কবির বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় নয়াপাড়া বাজারে আমার সম্বন্ধী মুরাদের সাথে স্থানীয় আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি নাজমুল হাসান মিলকির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় দেখতে পায়। এসময় আমার সাথে থাকা ঝিনা পাড়ার দিল মোহাম্মদ কে সাথে নিয়ে এগিয়ে যায় এবং মিলকিকে শান্ত করার চেষ্টা করি। আমাকে এবং দিল মোহাম্মদ কে দেখে আরও উত্তেজিত হয়ে যায় মিলকি। তোদেরকে তো এতোদিন খুঁজতেছি বলে আমাদের উপর চড়াও হয়। লাথি,কিল,গুসি মেরে আমাদের রক্তাক্ত করে। আমার মাথায় জোরে আঘাত করে। দিল মোহাম্মদ কে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে।

এসময় আমাদের চিৎকারে আশেপাশে থাকা লোকজন এগিয়ে আসলে মিলকি ও তার বাহিনী পালিয়ে যায় ৷ পরবর্তীতে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি।

তিনি আরও বলেন, আমি ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এলাকার মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করি। বিভিন্ন মিটিং মিছিলে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি। মাদক বিরোধী সভা সমাবেশ করি৷ এলাকার যুব সমাজকে সচেতন করি। এই কারণে মিলকি আমার প্রতি ক্ষুব্দ। নির্বিঘ্নে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করতে আমাকে বাধা মনে করায় আমাকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে এই হামলা করেছে। এই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই বিষয়ে মুরাদ বলেন, মিলকি ও লিটনের পিতা নয়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর কাছ থেকে তিন কানি জমি কিনে নিয়েছিলেন আমার পিতা। এরপর থেকে আমরা তা ভোগ দখল করে আসছি। আমাদের নামে উক্ত জমি রেজিষ্ট্রেশন ও হয়েছে।

মুজিব উল্লাহ নামে একজনকে আমরা জমি চাষ করার জন্য দায়িত্ব দিই ৷ সে জমিতে গেলে মিলকি ও তার বাহিনী তাকে বাধা দেই। মুজিব উল্লাহ আমাকে বিষয়টি অবহিত কর। পরে নয়াপাড়া বাজারে মিলকিকে দেখলে বাঁধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আমাকে, হুমায়ুন ভাই ও দিল মোহাম্মদ ভাই কে হামলা করে।

পরবর্তীতে মিলকির ছোটভাই লিটন (১০২ জন আত্মসমর্পণ ইয়াবা কারবারির একজন) রাতে অস্ত্রসজ্জিত হয়ে শোডাউন করে এবং আমার ঘুমন্ত পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা করে। আমার বাড়ির দরজা জানালা ভেঙ্গে ফেলে।

এই নিয়ে এলায়ায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় জনসাধারণ।

এসব বিষয় নিয়ে লিটনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নং ০১৮১৯-৫৩৯৪৩১ বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। লিটন ও তার ভাই মিলকি আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ইয়াবা, মানবপাচার সহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মন্তব্য দিন