টেকনাফে উদ্ধার হওয়া হাতি শাবকের ঠাঁই হলো ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া শামলাপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া হাতি শাবকটি
ডুলাহাজারা শেখ মুজিব সাফারি পার্কের হস্তান্তর করেছে।
নারী হাতি শাবকটির ওজন ১২১ কেজি, প্রায় তিন মাস বয়সী ও শাবক হাতিটির উচ্চতা তিন ফুট। হাতি শাবকটি কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জে বাহারছড়া শামলাপুর হোয়াইক্যং ঢালায় হাতি খোলার মাঠ নামক স্থান থেকে গত বুধবার বিকালে উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে বনকর্মীদের কাছে শাবকটি হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বনকর্মীদের ধারণা, শাবকটি দলছুট হওয়ার কারণে পথভ্রষ্ট হয়ে ভিন্ন পথে চলে আসায় একাকি হয়ে পড়ে।
হোয়াইক্যং বনরেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মতিন ঘটনাস্থলে পৌছে তাৎক্ষণিকভাবে হাতির শাবকটি হোয়াইক্যং বনরেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
খবর পেয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির হোয়াইক্যং যান। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হুমায়ুন কবির বলেন, হাতির পাল থেকে হাতি শাবকটি হারিয়ে যান। শাবকটি মনখালী খালের কাছে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল।
তিনি আরও বলেন, শাবকটি সম্ভবত পাহাড় থেকে পড়েছে এবং খাড়া হওয়ার কারণে এটি আর উপরে উঠতে পারেনি।
ডিএফও বলেন, বুধবার দুপুর আড়াইটায় শাবকটি উদ্ধার করে দুধ এবং কলা খাওয়ানো হয়েছে।কাছাকাছি কোনও হাতির পাল না থাকায় আমরা তাকে আরও ভাল যত্নের জন্য বৃহস্পতি বার চকরিয়া ডুলাহাজার শেখ মুজিব সাফারি পার্ক কতৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছি ।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের বিট অফিসারকে এবং অন্যান্য বন কর্মীদেরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যদি কোনও মা হাতি তার শাবকের সন্ধান করে থাকে। আমরা শাবকটিকে তার মাকে দেখতে পেলে মুক্তি দেব। চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাসের মোঃ ইয়াছিন নেওয়াজ বলেন, সাফারি পার্কের তত্ত্বাবধায়ক জানিয়েছেন তারা গতকাল শাবকটি পেয়েছে এবং পশু চিকিৎসক ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান শাবকটি পরীক্ষা করেন সাফারী পার্কে ।
“আমরা শাবকটিকে পৃথক পৃথক অবস্থায় রেখেছি এবং শাবক দুধ পান করছেন ও কলা খাচ্ছেন। শাবকটি সবল ও সুস্থ আছে।’
মা পাওয়া গেলেই আমরা তাকে এলাকায় ছেড়ে দেব বলে জানান তিনি।”

আপনার মন্তব্য দিন