টেকনাফে কৃষকের ধান কেটে দিলেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি

শাহ্‌ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার।

বাম্পার ফলন হলেও করোনাভাইরাসের প্রভাবে ফসল ঘরে তুলতে শ্রমিক ও আর্থিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক। এমতাবস্থায় দলীয় নেতাকর্মীদের কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় দলবেঁধে ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধান কেটে কৃষকের ঘরে তুলে দিচ্ছেন।

করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে ধান তোলায় বিপাকে পড়া সারাদেশে এসব কৃষকের সহযোগী হয়ে মাঠে নেমেছে ছাত্রলীগ। এই অবস্থায় টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুন্না নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাস্তে হাতে নেমে পড়েন অসহায় কৃষকদের ধান কাটতে।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলা বাহারছড়া শিলখালী এলাকার রহমত উল্লাহ নামে কৃষকদের পাকা ধান কেটে দেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি।  

এ সময় তাদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় কৃষক রহমত উল্লাহর প্রায় ১ একর জমির ধান কেটে তার বাড়িতে পৌছে দেন। শ্রমিকবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছাত্রলীগের জন্য নতুন কিছু নয় বলে মনে করেন দেশের প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্র সংগঠনটির নেতারা।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ রোধে লকডাউন ঘোষণা করার পর সারাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক কৃষক শ্রমিক সংকটে পড়েন। এতে তারা জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েন। করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে আমাদের অভিভাবক কৃষি বান্ধব নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গতবারের ন্যায় এবারও এমন সংকটময় মুহূর্তে নিরুপায় অসহায় কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছে। আজ অসহায় কৃষকের ধান কেটে সহযোগিতা করতে পেরে আমরা গর্বিত। 

কৃষক রহমত উল্লাহ জানান, ‘চলমান লকডাউনের কারণে জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছিলাম। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে ধানা কাটা শ্রমিক আসতে পারছে না। ফলে এলাকায় দেখা দিয়েছে ধান কাটা শ্রমিক সংকট। মাঠে পাকা ধানগুলো নষ্ট হওয়ার পথে খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আমার এমন অসহায়ত্বের কথা শুনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টাকা-পয়সা ছাড়াই আমার এক একর ক্ষেতের ধান কেটে বাড়িতে পৌছে দেন। আমি তাদের এ সাহায্যের কথা কখনো ভুলব না।’

আপনার মন্তব্য দিন