টেকনাফে চাঞ্চল্যকর নুরুল হক হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারী সৈয়দ হোসনকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

ছবিঃ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সৈয়দ হোসন।

বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজ কক্সবাজার। 

টেকনাফ উপজেলার শাহ্‌পরীর দীপের কোনার পাড়ার ষাটোর্ধ্ব নুরুল হক হত্যার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও মূল পরিকল্পনাকারী সৈয়দ হোসন সহ মামলার প্রধান আসামিরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন নিহতের পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসী।

এতে নিহত নুরুল হকের বড় ছেলে মামলার বাদি শামশুল অভিযোগ করেন, ‘থানা পুলিশের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ আমার বাবার হত্যাকান্ডের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও মূল হত্যাকারীদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিহতের পরিবার উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে বলে জানান।

সবাই মনে করছিলো দুই একদিনের মধ্যে খুনিরা গ্রেফতার হবে কিন্তু এতোদিনেও খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থা হারাচ্ছে। এ সময় বাদি দ্রুত খুনিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

ছবিঃ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী সৈয়দ হোসন।

যদিও হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া মুল আসামি ও ইন্ধনদাতারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে এবং খুনের মোটিভ বা মুল রহস্য এখনো জানা যায়নি। বলতে গেলে হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া মূল অপরাধীদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ৫ দিন পার হলেও মুল খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাহিরে এবং খুনের উদ্দেশ্যে বা রহস্য অধরায় রয়েছে বলে স্থানীয়দের ক্ষোভ রয়েছে।

মামলার বাদি শামশুল হক কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, ৫ দিন পেরিয়ে গেছে। প্রধান আসামিরা এখনো গ্রেফতার হয়নি। আমি সকল আসামীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানাই’।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৮ নভেম্বর) বিকাল ৪ টার দিকে ছোট ছেলে-মেয়েদের মধ্যে খেলাধূলাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তদের সাথে নিহত নুরুল হকের সাথে ঝগড়াঝাটি হয়। এক পর্যায়ে মাগরিবের নামাজের আজান দিলে নিহত নুরুল হক মসজিদে নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ৫ টা ৪৫ মিনিটের সময় মোহাম্মদ ইয়াছিন প্রকাশ মার্কিনের নাতির নেতৃত্বে ও তার সহযোগী স্ত্রী হাসিনা বেগম সহ ৮/৯ জন লোক  ইয়াছিন নুরুল হককে ছুরিকাঘাত করে। খবর পেয়ে নিহতের দুই ছেলেসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। ছেলেরা তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এঘটনায় নিহতের বড় ছেলে শামশুল হক ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২/৩ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। যার মামলা নং ৩৮/৯৯৭,তারিখঃ-০৯/১১/২০২১। 

মামলার অন্য আসামীরা হল- মোহাম্মদ হোসেন প্রকাশ পুতিন্যার ছেলে মোহাম্মদ ইয়াছিন (৪০) ও মোহাম্মদ কেফায়েত উল্লাহ (২২), মৃত ছৈয়দ আকবরের ছেলে আলী হোসেন (৫০) ও মোহাম্মদ ছৈয়দ হোসেন প্রকাশ মুইন্না বাইট্যা (৩০) আব্দুর রহিম মিস্ত্রীর ছেলে নুর আলম (২৭) মৃত পেশকারের ছেলে মোহাম্মদ সিরাজ (৪২),সকলের বাড়ি শাহপরীরদ্বীপ কোনার পাড়া ও মাঝের পাড়া।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, আসামীদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আশা করি দ্রুত সময়ে গ্রেফতার হবে।’

আপনার মন্তব্য দিন