টেকনাফ বাহারছড়ায় সেই হাতি শাবকের মা’র মরদেহ উদ্ধার

নিউজ কক্সবাজার রিপোর্ট ।।

কক্সবাজারের টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুরের লোকালয় থেকে উদ্ধার হওয়া হাতি শাবকের মা হাতির সন্ধান মিলেছে, তবে জীবিত নয় মৃতদেহ।
রইক্ষ্যং বনবিট ও শামলাপুর বনবিটের মধ্যবর্তী থৈংগ জোরা নামক স্থানে মা হাতির মরদেহ দুইদিন ধরে পড়ে আছে। ১৩ মার্চ হাতির মরদেহ দেখতে পেয়ে বনবিভাগকে খবর দেন স্থানীয়রা। ১৪ মার্চ মৃত হাতির ময়নাতদন্তের পর পুঁতে ফেলা হয়েছে, জানান বনবিভাগ।
গত ১০ মার্চ টেকনাফের শামলাপুর হোয়াইক্যং ঢালায় হাতি খোলার মাঠ নামক স্থান থেকে প্রায় তিন মাস বয়সী হাতি শাবক উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে হাতি শাবকটি স্থানীয় বনকর্মীদের হেফাজতে দেয়া হয়। ওই সময় মা হাতিকে বনের বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও সন্ধান পায়নি।
পরদিন হাতির শাবকটিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু সার্ফারি পার্কে পাঠানো হয়। হাতি শাবকটি সেখানে সবল ও সুস্থ আছে বলে জানান বনবিভাগ।
এদিকে, শনিবার ১৩ মার্চ কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জের আওতাধীন রইক্ষ্যং ও শামলাপুর বিটের মধ্যবর্তী টেকনাফ বাহারছড়া থৈংগ জোরা নামক স্থানে মরা মা হাতিটির নিতর মৃত দেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বনবিভাগকে খবরটি জানানো হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দারা ও সিপিজির সদস্যরা জানান, মা হাতির দেহে বুকের মধ্যখানে গুলির চিহ্ন রয়েছে। ক্ষত স্থানে
কলাগাছের টুকরা ডুকানো রয়েছে। মৃত দেহ থেকে পচাঁগন্ধ বের হচ্ছে। হয়তু হাতি শাবক উদ্ধারের আগেই মা হাতিকে মেরে ফেলা হয়েছিল। এজন্য হয়তু হাতি শাবক লোকালয়ে চলে এসেছিল।
তারা আরও জানান, ধারণা করা হচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা মা হাতিকে গুলি করে মেরেছে। হাতির মৃত দেহের বিষয়ে বনবিভাগের লোকজনকে জানান স্থানীয়রা।
বনবিভাগের শামলাপুর বনবিট অফিসার কেএম ফেরদৌস ও হোয়াক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মতিন১৪ মার্চ রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে হাতির মরদেহ উদ্ধার করেন।
স্থানীয় শামলাপুর বনবিট কর্মকর্তা ফেরদৌস জানান, মা হাতির বয়স আনুমানিক ৬০ বছর হবে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া হাতিটি পাহাড় থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছে। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই।
দক্ষিণ বন বিভাগের হোয়াইক্যং রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মতিন বলেন, দুপুরের দিকে মৃত অবস্থায় একটি হাতি দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে বন বিভাগের লোকজন গিয়ে হাতির মৃতদেহটি উদ্ধার করেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের চিকিৎসক এসে হাতিটির ময়নাতদন্ত করার পর রোববার বিকালে তা পুঁতে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যেখানে হাতি, হরিণ, শুকর, বন মুরগসহ বন্য প্রাণী অবাধ বসবাস ছিল, সেসব জায়গা প্রভাবশালী দখলদাররা দখলে নিয়ে চাষের জমি তৈরি করেছে। বনের ভিতর পানের বরজ ও ধান চাষ করেছে। হাতি চলাচলে পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। চলাচলের সময় বিভিন্ন ভাবে শারিরীক নির্যাতন করা হয় হাতিকে। এমন কি অবৈধ অস্ত্রের গুলি দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটছে।একই ভাবে ইতোপূর্বে উদ্ধার হওয়া হাতি শাবকটির মাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সিপিজির সদস্যরা জানিয়েছেন, হোয়াইক্যং রেঞ্জ অফিসার আব্দুল মতিন দখলদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে বন দখলে প্রত্যেক্ষ পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন।

আপনার মন্তব্য দিন