নতুন রূপে পাঁচলাইশ মডেল থানা : ভীতি দূর করে আন্তরিক সেবা

কামরুজ্জামান রনি, চট্টগ্রাম:-

স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশু বাচ্চাকে কোলে নিয়ে সুফিয়া বেগম থানার প্রবেশ পথেই দাঁড়িয়ে গেলেন। অশ্রুভেজা চোখ মুছে থানার ভেতরের বুলিয়ে নিলেন। সেখানে দ্বায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে কৌতুহলী সুরে জিজ্ঞাস করলেন, আচ্ছা এটা কি আসলেই পাঁচলাইশ মডেন থানা? “হ্যা সূচক জবাব দিয়ে পুলিশ সদস্য সুফিয়া বেগমকে নারী-শিশু ডেস্কটা দেখিয়ে দিলেন। সেই ডেস্কে দ্বায়িত্ব পালন করছিলেন একজন নারী অফিসার ও নারী কনস্টেবল। এমন নারী ও শিশু বান্ধব পরিবেশ পেয়ে সুফিয়া বেগম বেশ স্বাচ্ছন্দে জানালেন তার অভিযোগের কথা।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পাঁচলাইশ মডেল থানার আধুনিক সুন্দর মনোরম পরিবেশ দেখে সুফিয়া বেগমের মত অনেক সেবা প্রার্থীরা চমকে যায়। আগে যেখানে “কানাও থানার সামনে যায় না” এমন কথার প্রচলন ছিলো, আজ সেই থানার বদলে যাওয়া রূপ দেখে সেবা প্রার্থীদের চমকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে শুধু অবকাঠামোগত নতুন সাজের জন্যে নয়, সেবা প্রার্থীরা থানা পুলিশের সার্ভিস পেয়ে বেশ সন্তুষ্ট।

পাঁচলাইশ মডেল থানাটি দেশের অন্যতম সুসজ্জিত, আধুনিক ও পরিপাটি মডেল থানা হিসেবে পরিবর্তিত হয়েছে। সেবা প্রার্থীদের সেবা দেয়ার জন্য আধুনিক ভাবে নির্মিত সার্ভিস ডেলিভারি সেন্টারে দ্বায়িত্ব পালন করছেন ডিউটি অফিসার। থানায় আগত সেবা প্রার্থীদের জন্য মনোরম পরিবেশ বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্যাতিত-নিপীড়িত নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বয়স্কদের জন্য একজন অফিসার ও নারী কনস্টেবলের সমন্বয়ে নারী-শিশু, বয়স্কও প্রতিবন্ধী ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। থানায় নারী অফিসার এবং নারী কনস্টেবলদের জন্য আলাদা নারী কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় আসামিদের জন্য পৃথকভাবে নতুনরূপে পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক হাজতখানা স্থাপন করা হয়েছে।

আগত লোকজনের বিভিন্ন অভিযোগ, তদন্ত কিংবা আইনী প্রয়োজনে থানার অফিসারেরা যাতে সেবা প্রার্থীদের কথা শুনে তাদেরকে সেবা দিতে পারে সেই জন্য নতুনভাবে সাব-ইন্সপেক্টর কক্ষ সাজানো হয়েছে। সেই সাথে আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে রাখা হয়েছে পৃথক কক্ষ। এই অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের দ্বায়িত্বশীল ও মানবিক পুলিশিং এর বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে মনিটরিং করছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

নতুন রূপে, নতুন সাজে সাজানো পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল কবির বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, আমাদের মাননীয় পুলিশ কমিশনার সালেহ মোঃ তানভীর মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় নতুনরূপে পাঁচলাইশ থানাকে বাস্তবে একটি আধুনিক মডেল থানায় রূপ দেয়া হয়েছে। শুধু অবকাঠামো গত সৌন্দর্য বর্ধনে আমরা সীমাবদ্ধ থাকিনি। থানার নথি পত্র এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাগজপত্র সুন্দরভাবে গ্রহণ এবং ডেসপাস করার জন্য এবং থানার নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য জুনিয়র সেরেস্তা আধুনিক রূপে স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও থানায় সকল অফিসারদের কক্ষ নতুনরূপে সাজানো হয়েছে। এছাড়াও থানায় আগত অতিথি এবং সেবা প্রার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি ও আপ্যায়নের জন্য আলাদা পেন্টি কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।”

অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল কবির আরো জানান, থানায় আগত সেবা প্রার্থীদের সাথে সুন্দর এবং আন্তরিক আচরণ করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেবা প্রার্থীদেরকে দ্রুত সেবা প্রদানের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত করা হবে। মানুষ সহযোগীতা পাওয়ার জন্যে থানায় ছুটে আসে, তাই আমাদের লক্ষ্য এসব লোকজনদেরকে অবশ্যই সন্তুষ্টচিত্তে সেবা প্রদান করা।

আপনার মন্তব্য দিন