পঙ্গু নারীর পা প্রতিস্থাপনে মরহুম এজাহার মিয়া ও মোজাহার মিয়া ফাউন্ডেশন 

নিজস্ব প্রতিবেদক। 

মরহুম এজাহার মিয়া ও মোজাহার মিয়া ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে পঙ্গু নারীর পা প্রতিস্থাপন করে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এনামুল হক (মেম্বার)। 

রশিদা বেগম। টেকনাফ সদর ইউনিয়নের শিলবনিয়া পাড়ার মৃত আব্দু রশীদের স্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। চার মেয়ে এক ছেলে স্বামী হারা এই নারীর। ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছে। 

বড় মেয়ের স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। তার পাঠানো টাকা সংসার চালানোর একমাত্র অবলম্বন। করোনা ভাইরাসের কারণে কাজকর্ম না থাকায় সে ও এক বছর যাবত টাকা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। নিরুপায় রশিদা বেগম কোন রকম সংসার চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। সবকিছু মোটামুটি ঠিকঠাক চলছিল। এর মধ্যে হঠাৎ তার ডায়াবেটিস অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ফলে তার বাম পায়ে পচন ধরে। 

চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তার বাম পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। নাইলে এর চেয়ে বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কার কথা জানান চিকিৎসকের পরামর্শে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তার বাম পা কেটে ফেলা হয়। 

এক পা হারা এই নারী চির জীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেন। সংসারে নেমে আসে অভাব-অনটন। এই দুয়ার সে দুয়ারে অনেক ঘোরাঘুরি করার পরেও মেলেনি কোন আর্থিক সহযোগিতা বলছিলেন রশিদা বেগম।

তার এমন অসহায়ত্বের কথা এলাকায় চাউর হয়েছিল। বিষয়টি সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল হকের দৃষ্টি এড়াতে পারেনি। তিনি সেই মহিলার খোঁজখবর নিলেন। তাকে তার স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি কয়েকজন পরিচিত চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করলেন। 

২০১৭ সালে ইউপি সদস্য এনামুল হকের বড় চাচা-চাচীর নামে “মরহুম এজাহার মিয়া ও মোজাহার মিয়া ফাউন্ডেশন” গঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে এলাকায় দরিদ্র মানুষের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়। টিউবওয়েল বসানো, টয়লেট নির্মাণ এবং দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিবাহতে সাহায্য করা হয়। এই যাবৎ একাধিক পরিবারকে এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাহায্য করা হয়েছে বলে জানা যায়। 

মরহুম এজাহার মিয়া ও মোজাহার মিয়া ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় এনামুল হকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রশিদা বেগমের বাম পা প্রতিস্থাপনে ব্যবস্থা করা হয়। সে লক্ষ্যে তিনি বর্তমানে মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হাসপিতালে চিকিৎসাধীন আছে।

চিকিৎসকরা জানিয়েছে, বর্তমানে তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রহীন। নিয়ন্ত্রণে আসলে তার অস্ত্রোপচার করা হবে। 

এ ব্যাপারে এনামুল হক ইউপি সদস্য বলেন, প্রথমে চিন্তা করছিলাম তাকে আর্থিক সহযোগিতা করবো। পরে চিন্তা করি আর্থিক সহযোগিতা করলে তার অস্থায়ী সমাধান হবে। তার দরকার স্থায়ী সমাধান। সে লক্ষ্যে তার বাম পা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করেছি। এভাবে মানবতার সেবাই কাজ করার জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। 

এভাবেই এগিয়ে যাবে মানবতা।

আপনার মন্তব্য দিন