পেকুয়ায় বিএনপির ঘোষিত কমিটি নিয়ে বাণিজ্য

এমএস জুবাঈদ, পেকুয়া।

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিএনপির ঘোষিত কমিটি নিয়ে বাণিজ্যের দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। ঘোষিত কমিটি দু’ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতায় হয়েছে। এমন দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একটি অংশ ওই কমিটি পুর্নগঠনসহ কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবিও তুলেছেন।

কমিটি ঘোষণা নিয়ে বিএনপির পেকুয়ার একটি অংশ অসন্তোষ প্রকাশ করছে। ওই অংশের দাবি, আহ্বায়ক এম, বাহাদুর শাহ ও সদস্য সচিব ইকবাল হোছাইনের একক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কমিটি ঘোষিত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ঘোষিত কমিটিতে বিএনপির আদর্শিক নেতাদের বাদ দেয়া হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির প্রবীণ ও নবীনদের মধ্যে অনেকে জানিয়েছেন কমিটি ঘোষণা একক সিদ্ধান্তে হয়েছে।

এছাড়া তারা অনেকেই অভিযোগ করছে, বিএনপির চেতনা ও যেসব নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে দীর্ঘসময় যাবৎ লালন করছিলেন এদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দলের জনপ্রিয় ও আদর্শিক মানুষগুলোকে উপেক্ষা করে সেখানে কিছু বিতর্কিত ও দ্যোদুল্যমান ব্যক্তিকে ঘোষিত কমিটিতে বিভিন্ন পদে পদায়ন করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, গত একসপ্তাহ আগে পেকুয়ায় বিএনপির কমিটি ঘোষিত হয়েছে। এরই মধ্যে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট বিএনপির উপজেলা কমিটি পুনঃগঠন করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক এম. বাহাদুর শাহ ও সদস্য সচিব হয়েছেন পূর্বের কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন। এছাড়াও বিএনপির ইউনিয়ন কমিটিও ঘোষণা করা হয়। সদর ইউনিয়নে দুটি কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। পশ্চিম জোন ও পূর্ব জোন কমিটি পুণঃগঠিত হয়েছে। সাত ইউনিয়নের মধ্যেও ৬ ইউনিয়ন কমিটিও অনুমোদন হয়েছে। এসব ইউনিয়নে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। একজন আহবায়ক ও ৫ জন যুগ্ম আহবায়কসহ প্রত্যেক ইউনিয়নে ৩১থেকে ৭৫জন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে ঘোষিত কমিটি নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।

এ কমিটি ঘোষণার পর উপজেলা পর্যায়ের একটি অংশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। অপরদিকে ইউনিয়ন কমিটি নিয়েও রাজনৈতিক দল বিএনপিতে তৃণমূল পর্যায় থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সাবেক একজন বয়োজৈষ্ঠ্য নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেনি। কমিটি নিয়ে বাণিজ্য হয়েছে। যারা টাকা দিয়েছেন ওনারাই পুণঃগঠন প্রক্রিয়ায় পদায়ন হন। আমি নিশ্চিত বলছি, এখানে দু’নেতার পকেটে টাকা গেছে। চিংড়ি মাছও নিয়েছে অনেকের কাছ থেকে।

রাজাখালীর একজন তরুণ নেতা জানান, এখানে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মতের প্রতিফলন হয়নি। প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে সংগঠনকে। আমাদের প্রিয় নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদকেও তারা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমন কঠিন অবস্থার মধ্যে এর মধ্যেও কমিটি গঠন নিয়ে বিভক্তি। মগনামার একজন সিনিয়র বিএনপি নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি দুঃসময়ের মধ্যেও বিএনপিকে ধারণ করেছি। কিন্তু ঘোষিত কমিটিতে আমিসহ আরও অনেককে বঞ্চিত করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে বিএনপি পেকুয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদর ইউপির চেয়ারম্যান এম, বাহাদুর শাহ জানান, আসলে ইচ্ছা করে কাউকে বাদ দেয়া হয়নি। প্রত্যেক ইউনিয়নের জন্য আহ্বায়ক কমিটি আমরা অনুমোদন দিয়েছি। মাত্র দু’তিনমাস মেয়াদী এ কমিটি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন প্রক্রিয়ার সময় এখন যারা বাদ পড়েছে ওনাদেরকে পদায়ন করা হবে। আগের কমিটিতে যারা সভাপতি সম্পাদক ছিলেন তাদেরকে আহবায়ক ও যুগ্ম আহবায়ক করা হয়েছে। সিনিয়রদের মূল্যায়নের জন্য ঘোষিত কমিটিতে প্রত্যেক ইউনিয়নে ৫ জন করে যুগ্ম আহ্বায়ক রাখা হয়েছে। টাকা ও মাছ আদান প্রদানে কমিটি দেয়ার কথা বানোয়াট বলেছেন বিএনপি পেকুয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও সদর ইউপির চেয়ারম্যান এম. বাহাদুর শাহ জানান।

 

আপনার মন্তব্য দিন