পেকুয়ায় ভিজিডির উপকারভোগীদের সঞ্চয়ী অর্থ লোপাটের অভিযোগ  

এম.জুবাইদ,প্রতিনিধি.পেকুয়া(কক্সবাজার) :

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ভিজিডির তালিকাভূক্ত ১৯০ জন উপকারভোগী নারীর সঞ্চয়ের অর্থ লোপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হতদরিদ্র এ সব উপকারভোগী নারীর ২ বছরের সঞ্চয়ের ৯ লক্ষ ১২ হাজার টাকা আত্মসাৎ হয়েছে বলে ভূক্তভোগীরা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে টাকা উদ্ধার পেতে ভিজিডির আওতাভূক্ত রাজাখালী ইউনিয়নের হতদরিদ্র নারীরা ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভিজিডির তালিকাভূক্ত ১৯০ জন নারীর জামানত মোট ৯লক্ষ ১২ হাজার টাকা উদ্ধার চাওয়া হয়েছে।

এমনকি টাকা আত্মসাৎ জন্য রাজাখালী ইউপির সচিব ও ইউপির চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুরের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মোহাম্মদ আলীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা পেকুয়ার ইউএনও মোতাছেম বিল্যাহর সাথে দেখা করেছেন। এ ব্যাপারে পেকুয়ার ইউএনও মোতাছেম বিল্যাহ এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

তিনি জানান, রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভূক্ত বেশ কিছু ভিজিডির উপকারভোগী নারী এ সম্পর্কিত বিষয়ে আমাকে অবগত করেন। আমি মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের নির্দেশনা দিয়েছি। রাজাখালী ইউপির সচিবকে আমি ফোন দিয়েছি তবে সে ফোন রিসিভ করেননি।

সুত্র জানায়, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০ অর্থবছরে সরকার রাজাখালী ইউনিয়নে ১৯০ জন মহিলাকে ভিজিডির তালিকাভূক্ত করেন। প্রতিজন নারী প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে খাদ্যশস্য পেয়ে থাকে। ২৪ মাস মেয়াদকালীন সময় পর্যন্ত তারা সরকার থেকে ভিজিডির আওতায় খাদ্যশস্য পান। এ দিকে ভিজিডির তালিকাভূক্তি নারীদের প্রত্যেকের অনুকুলে সঞ্চয়ী জামানত সিষ্টেম রয়েছে। ওই নিয়মের ভিত্তিতে প্রতিজন নারী মাসওয়ারী ২শ টাকা সঞ্চয়ী জামানাত দেন।

ইউপির সচিব ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী সঞ্চয়ের টাকা আদায় করে। প্রতিবার চাউল অথবা খাদ্যশস্য উত্তোলন সময়ে উপকারভোগীদের কাছ থেকে সঞ্চয়ের ২শ টাকা জামানত নেওয়া হয়। ২০১৯ থেকে ২০২০ দুই অর্থ বছরে প্রতিজন উপকারভোগী মাসিক ২শ টাকা হারে প্রতি জন নারী সঞ্চয়ী টাকা ৪,৮০০ টাকা।

সেই হিসেবে ১৯০ জন উপকারভোগীর ৯ লক্ষ ১২ হাজার টাকা সঞ্চয়ী রয়েছে। ভিজিডির ২ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই সঞ্চিত টাকাগুলি উপকারভোগীদের অনুকুলে ছাড়করণ করা হয়। এ দিকে ২ অর্থ বছরের ভিজিডির মেয়াদকাল ৬ মাস আগে শেষ হয়েছে। তবে উপকারভোগীরা এখনও সঞ্চিত টাকা ফেরত পাননি।

তারা টাকা ফেরতের জন্য একাধিকবার পরিষদে গিয়েছেন। চেয়ারম্যান ও সচিবের কাছে গিয়ে কোন ধরনের সুরাহা পাননি। এতে করে হতাশাগ্রস্ত উপকারভোগী নারীরা ইউএনও কাছে লিখিত অভিযোগ পৌছান। জসিম উদ্দিনের স্ত্রী বুলবুল আক্তার, কামাল হোসেনের স্ত্রী বেবী আক্তার, আবদুল মোতালেবের স্ত্রী রোকসানা ও উপকারভোগী সানজিদা ইয়াসমিনসহ আরো অনেকে জানান, সচিব ও চেয়ারম্যানের এপিএস আলীকে আমরা সঞ্চয়ের টাকা জমা দিয়েছি।

চাল নেওয়ার সময় মাসিক ২শ টাকা দিয়েছি। আমরা প্রতিজন ৪৮শ টাকা সঞ্চয়ী দিয়েছি। এখন টাকাগুলি আত্মসাতের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমাদের জন্য এ টাকা অনেক বড়। রাজাখালী ইউপির ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, অনেক মহিলা এ বিষয়ে আমাদেরকে বিরক্তি করছে। আসলে এরাতো গরীব। টাকাগুলি না পেলে আমাদের বদনাম হবে। ইউপির ৯নং ওয়ার্ড সদস্য বাদশা মেম্বার জানান, দ্রুত সময়ে সঞ্চয় ওদের হাতে পৌছে দিতে হবে।

কেন বিলম্ব হচ্ছে এ নিয়ে রহস্য আছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাকের হোসেন জানান, কিছু টাকা আমাদের হাতে আছে। তবে টাকার বড় অংক ইউনিয়ন পরিষদ জানবে কোথায় রয়েছে।

ইউপির চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুরের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মোহাম্মদ আলী জানান, আসলে তারা কেন আমার নাম বলছে। আমি পরিষদের দায়িত্বশীল কেউ নই। সচিব ও গ্রাম পুলিশ সঞ্চয়ের টাকা জমা নিয়ে থাকেন।

ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর জানান, টাকা কোথায় আছে সেটি বের করবো। অবশ্যই সঞ্চয়ের টাকা মহিলাদের কাছে ফেরত দেব।

আপনার মন্তব্য দিন