পেকুয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় একজন আহত

এম.জুবাইদ, পেকুয়া (কক্সবাজার)

পেকুয়ায় যুবলীগের সভাপতির বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় মুহাম্মদ ইদ্রিস (২৯) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে আহত করে সন্ত্রাসীরা। আহত ইদ্রিসকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জানা যায়, ইদ্রিস আবুল কাসেমের ছেলে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। উপজেলা রাজাখালী ইউনিয়নের রব্বতআলী পাড়াস্থ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রিয়াজ খান রাজু ও তার চাচার বাড়িতে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে আভিযোগ পাওয়া যায়।

আহত ইদ্রিস বলেন, রাত ১১টার দিকে রাজাখালীর সবুজ বাজারস্থ আমার মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যাই। প্রচুর গরমে বাইরে হাটতে বের হয়ে দেখতে পায় রাজাখালীর টেকঘোনা এলাকার ছৈয়দুল হকের ছেলে- নেজাম উদ্দিন, রফিকের ছেলে মানিক, ছৈয়দ মিয়ার ছেলে সাহাব উদ্দিন, মাহবুব আলম, তারেক ও রহিমসহ সংঘবদ্ধ প্রায় ২০/২৫ জনের একদল সন্ত্রাসী আমাদের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে।

ওই সময় আমার চিৎকারে আমার ভাই রাজাখালী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রিয়াজ খান রাজু ঘর থেকে বের হলে দুইজনকে প্রাণে হত্যার চেষ্টা চালায়। ওই সময় ভাই প্রাণে রক্ষা পেলেও আমাকে কুপিয়ে জখম করে চলে যায় তারা।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রিয়াজ খান রাজু বলেন, মদ ও ইয়াবা সেবী সন্ত্রাসী নেজাম উদ্দিন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ট। দোকান, ঘরবাড়ি ও রাস্তায় চলাচলকারী লোকজনের কাছ থেকে চুরি ও ছিনতাই হলো তাদের প্রধান পেশা। এছাড়াও স্থানীয়রা বসতঘর তৈরি করলে তাদেরকে চাঁদা দিতে হয়।

এর আগে প্রবাসী আলী হোসেনের কাজ থেকে চাঁদাদাবী করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শাহাদাত হোসেন নামে এক ব্যক্তি ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এছাড়াও গত কিছুদিন আগে নেজাম উদ্দিন গং অবৈধ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে এক পরিবারের উপর হামলা চালালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

তিনি আরও বলেন, তাদের এমন অপকর্মে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করে আহত করে। সবুজ বাজারে মদ ও ইয়াবা সেবন করে চুরি ছিনতাই শুরু করলে আমার চাচাতো ভাই ইদ্রিসসহ আমরা তার প্রতিবাদ করলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে রাতের আধারে বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় তারা।

এঘটনার পরপরই পেকুয়া থানার এএসআই জসিম একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহতকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ায় ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় এজাহার দিতে পারেনি বলেও জানান রিয়াজ খান।

পেকুয়া থানার এএসআই জসিম উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। প্রাথমিকভাবে তদন্ত করেছি।

এ ব্যাপারে পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) কানন সরকার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম।

এখনো পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ পায়নি অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মন্তব্য দিন