প্রকাশিত সংবাদের এনাম মেম্বারের প্রতিবাদ

“টেকনাফের নাজির পাড়ায় পরাজিত প্রার্থীর স্বজনদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুর” শিরোনামে গত শুক্রবার “টেকনাফ টুডে’তে” প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এনামুল এক প্রকাশ এনাম মেম্বার। 

সংবাদটিকে ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি প্রতিবাদে বলেন , ‘সংবাদটি অসত্য, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংবাদে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইউপি সদস্য এনাম মেম্বারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা গোয়েবলসের মিথ্যাচারকেও হার মানায়।  বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে যেসব ষড়যন্ত্র চলছে- এ যেন তারই অংশবিশেষ।’

আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আলী আহমদ ও তার ভাতিজা একরাম ও তার বাহিনী নির্বাচনের শুরু থেকে আমাকে ও আমার কর্মীদেরকে প্রচার-প্রচারণায় বাঁধা দেয়। হুমকি ধমকি দিয়ে এলাকায় একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দেয়। এসব বিষয় আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করেছি। 

সর্বশেষ গত ২৩ সেপ্টেম্বর একরাম বাহিনীর প্রধান একরাম আমার বড়ভাই সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ চান মিয়া (৩২) কে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর করে অপরণ করে নিয়ে যায়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।  এর আগে নাজির পাড়ার এক যুকবকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তার হদিস এখনো পাওয়া যায়নি।  

আমি মনে করি, নির্বাচনে আমার বিপুল ভোটে জয়লাভ তাদের গাত্রদাহ হয়েছে। এই জয় তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেনা। শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে মূলত তারা এসব হামলা করছে। আমি শান্তিপ্রিয় মানুষ। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে এসব বিষয় আইনীভাবে মোকাবেলা করবো। আমার কর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ করেছি এবং সে সাথে এলাকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

উল্লেখ্য, ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করলেও লড়াই হয় মুলত আলী আহমদ (তালা) ও এনামুল হকের (ফুটবল) সাথে। বড় হাবিব পাড়া সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। এখানে এনামুল হক ১৩৮৩ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলী আহমদ ১০৫১ ভোট পায়। ৩৩২ ভোটে জয়লাভ করে দ্বিতীয়বারের মতো ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এনামুল হক। 

অন্যান্য প্রার্থীরা হলো- আবদুল আমীন (টিউবয়েল), নুরুল আলম (বৈদ্যুতিক পাকা), নুরুল হক (ঘুড়ি), মোহাম্মদ ইব্রাহিম (মোরগ) এবং মোহাম্মদ মার্কিন (আপেল)। 

বড় হাবিবপাড়া, নাজিরপাড়া, মৌলভীপাড়া, খাংকারপাড়া এবং শীলবনিয়াপাড়া নিয়ে ৮ নং ওয়ার্ড গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩২০৭।

এর আগে, ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২২মাস কারাবন্দী অবস্থায় বিপুল ভোটে জয়লাভ করে প্রথম ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এনামুল হক।

আপনার মন্তব্য দিন