প্রবহমান খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

প্রবহমান খালে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পশ্চিম ছিরাদিয়া এলাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার নেতৃত্বে প্রবহমান খালে অবৈধভাবে কয়েকটি বাঁধ দিয়ে মৎস্য ঘের বানিয়ে মাছ চাষ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ ওই মৎস্য ঘেরে সমুদ্রের লোনা পানি ঢুকিয়ে মাছ চাষ করায় সেখানকার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

বাঁধের কারণে খালের পানি বের হতে না পারলে বর্ষায় পেকুয়া সদরে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রবল বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। মূলত বাঁধের কারণে এলাকার মানুষের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টির প্রতিবাদ জানিয়ে এরই মধ্যে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

জানা যায়, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বিলাহাছুরা ছিরাদিয়া এলাকার ‘মানার বাপের খাল’ নামে প্রবহমান খালটি প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা। এটি প্রবহমান একটি সরকারি খাল। খালটি দিয়ে বর্ষায় পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বৃষ্টি ও বন্যার পানি সমুদ্রের দিকে বের হয়ে যায়। যদিও বেশ কয়েক বছর যাবত পশ্চিম ছিরাদিয়া এলাকার আজম খান নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নেতৃত্বে কিছু স্বার্থান্বেষী লোক প্রবহমান ওই খালে কয়েকটি অবৈধ বাঁধ নির্মাণ করে বেশ কয়েকটি মৎস্য ঘের তৈরি করেন।

এ কারণে গত কয়েক বছর যাবত পেকুয়া সদর ইউনিয়নে পানি চলাচলে বিঘ্নতা দেখা দেয়। বর্ষার সময় বৃষ্টি ও আটকে থাকা পানি বের হতে না পেরে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দেয়। এতে কৃষকদের আমন চাষ, গ্রামীণ অবকাঠামো ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতিসহ পেকুয়া সদর ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড মইয়াদিয়া এলাকার কৃষক ফিরোজ আহমদ জানান, আজম খানদের দেওয়া ওই অবৈধ বাঁধগুলো কেটে দিয়ে প্রবহমান খালটি খুলে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মূলত সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণের সত্যতা পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, গত বছর এই খালের অবৈধ বাঁধগুলো কেটে দেওয়ার জন্য পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একটি আদেশও দিয়েছিলেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে অবৈধ বাঁধগুলো এখনো কেটে দেওয়া হয়নি। অবৈধ মৎস্য ঘেরের লোনা পানির কারণে পুরো এলাকায় এখন দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। গবাদি পশু, পাখি, হাঁস মুরগি পানি খাওয়ার সুপেয় পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি গাছপালাও বিবর্ণ হয়ে গেছে। ফলে পুরো এলাকা ক্রমশ দূষণের দিকে যাচ্ছে।

অভিযুক্ত আজম খান বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, ওই খাল দিয়ে এখন আর পানি বের হয় না। ওই মৎস্য ঘেরগুলোতে আমি একা নই, এলাকার অনেকেই আছেন। তারা এই মৎস্য ঘের দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূর্বিতা চাকমা বলেন, আমি এলাকাটি সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করে দেখেছি। আমি এরই মধ্যে তাদের নিয়ে বসেছি। এমনকি বর্ষার অতিবৃষ্টিতে ওই বাঁধ কেটে দিতেও বলা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.