প্রাণ ফিরেছে হোটেল মোটেল, সৈকতসহ পর্যটন কেন্দ্রে

‘পানি আর কাঁদায় একাকার পর্যটন শহর কক্সবাজার’

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, নিউজ কক্সবাজার ।।

করোনা ভাইরাসের প্রভাবে দীর্ঘ পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, হোটেল মোটেল, গেস্ট হাউস ও পর্যটন স্পটগুলো আজ সোমবার থেকে সীমিত আকারে খুলে দেয়া হয়েছে। এতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমনও ঘটেছে কক্সবাজারে।
তবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জল আর কাদায় একাকার হয়ে গেছে কক্সবাজার পৌর শহরের রাস্তাঘাট। দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ চলার কারণে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে পাশাপাশি কলাতলি হোটেল মোটেল জোন সড়কসহ শহরে প্রধান সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। নালাগুলোর অবস্থা আরো নাজুক।
সামান্য বৃষ্টিতেই কাঁদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো পর্যটন শহর। ভাঙ্গা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পর্যটক, শিক্ষার্থীসহ পৌরবাসী।
করোনা কালে সংস্কার কাজ বব্ধ থাকা, ঠিকাদারদের গাফিলতি আর পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। তবে পৌর মেয়রের দাবী, আগামী কিছুদিনের মধ্যে পৌর এলাকার সকল সড়ক চলাচলের উপযোগী করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে প্রধান সড়কসহ শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল সড়কটির এখন বেহাল দশা। রাস্তাটিতে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দের কারণে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একই দশা ব্যস্ততম প্রধান সড়ক, পৌর এলাকার মডেল থানার পেছনের সড়ক, এন্ডারসন সড়ক, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সড়ক, গার্ল হাইস্কুল সড়ক, মধ্যমবাহারছড়া সড়ক, গোলদীঘির পাড় সড়ক ও রুমালিয়ারছড়াসহ বেশ কয়েকটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছ।
লিংক রোড থেকে শহরের হলিডে মোড় পর্যন্ত সড়ক চার লাইনে প্রসস্থ করণের কাজ চলমান। কলাতলি হোটেল মোটেল জোনে সড়কের উভয় পাশের নালা সংস্কার কাজ চলছে দায়সারাভাবে। একটু বৃষ্টি হলেই পানি চলে আসে রাস্তার উপর। ফলে প্লাবিত হয় এলাকা। পানিবন্দী আর ভাঙ্গাচোরা এসব সড়কদিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পর্যটকসহ পৌরবাসী।
ক্ষতিগ্রস্ত এসব সড়ক মেরামতে এক বছর আগে টেন্ডার হয়। কাজও শুরু করে পৌরসভা কতৃপক্ষ। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা কাজ শুরু করেন অনেক দেরিতে। করোনা সংকটসহ নানা অজুহাতে কাজ বন্ধ রাখায় ক্ষোভের শেষ নেই স্থানীয়দের।
কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান আশারবাণী শুনিয়ে বলেন, আগামী কিছু দিনের মধ্যে পৌর এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি ও সড়কগুলোকে চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে।
কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর আলম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো টেন্ডার হয়েছে। দ্রুত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, আজ সোমবার থেকে করোনায় কাবু পর্যটন শহরটিতে ফের প্রাণ ফিরেছে। করোনায় বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে কক্সবাজার শহরকে সফল বলে বিবেচনা করা হয়। করোনা সংকট কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু হয়েছে। কমেছে প্রতিদিনের আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা। ফলে বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে সমুদ্র সৈকত, রেস্টুরেন্ট, হোটেল,মোটেল, গেস্ট হাউস, শপিংমল, সেলুনসহ সব  দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সবক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্বের বিধান মেনে চলতে হবে। গণপরিবহন ও কেনাকাটাসহ সব জনসমাগম স্থানে মাস্ক ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাস্তায় বেরিয়েছে মানুষ। অফিস খুলেছে। শিথিল করা হয়েছে করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ।
কক্সবাজার করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছে কক্সবাজার স্বাস্থ্য বিভাগ। ১৭ আগষ্ট থেকে জনসমাগমের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়া হবে। ওই সময় থেকে একসঙ্গে ১০ জন মানুষ একত্রিত হওয়ার অনুমতি পাবেন। ধর্মীয় উপাসনালয় গুলোতে অনির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষ সমবেত হতে পারবেন। একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে অন্তত দেড় মিটার অর্থাৎ ৫ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
গত ৫ মাসে এখানে কাজ হারিয়েছেন ২ লাখেরও বেশি মানুষ। কর্মহীন মানুষদের কাজে ফিরিয়ে নিতে লকডাউন শিথিল করে সোমবার থেকে সীমিত আকারে কক্সবাজারের হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্ট সহ পর্যটন শিল্প সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র কক্সবাজার পৌর এলাকার পর্যটন শিল্প সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান সমুহ খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির জুম কনফারেন্স সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, জেলার পর্যটন শিল্পের সাথে বিভিন্নভাবে প্রায় ২ লাখ মানুষ জীবিকা জড়িত। তাদের জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে সীমিত আকারে পর্যটন শিল্প খুলে দেওয়ার জন্য এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে স্বাস্থবিধি কঠোরভাবে মেনে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পর্যটন শিল্প খুলতে হবে। মেনে চলতে হবে, এ বিষয়ে প্রণীত কর্মপন্থার সকল নিয়মাবলি।

আপনার মন্তব্য দিন