বন্যার পানিতে বিলীন হল সড়ক, চলাচলের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো!

এম.জুবাইদ, পেকুয়া(কক্সবাজার) 
কক্সবাজারের পেকুয়ার টৈটং ইউনিয়নের ডালার মুখ, হারকিল্লার ধাঁরা, রমিজ পাড়া, মাঝের পাড়া, দরগা মোড়া, সোনাইছড়ি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে পড়েছে এ বাঁশের সাঁকো। পাহাড়ি জনপদের এসব মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ডালার মুখ-হাজী বাজার সড়ক। সম্প্রতি পাহাড়ি ঢলে সড়কের মাঝের পাড়া অংশের প্রায় দুইশ মিটার সড়ক পানিতে বিলীন হয়ে যায়। এতে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পাঁচ গ্রামের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঝের পাড়া গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সোনাইছড়ির পাহাড়ি ছড়া। ছড়ার ওপর রয়েছে একটি ব্রীজ। অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ের প্রবল ঢলের পানি ছড়ায় কানায় কানায় ভরপূর হয়। এতে সেতুর দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। ঢলের প্রবল স্রোতে ওই রাস্তার ভাঙন দুইশ মিটার দৈর্ঘ্যের খাদে পরিণত হয়।  জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় ভাঙনের ওপর বাঁশ-গাছ দিয়ে সাঁকো তৈরি করছে। এ সাঁকো দিয়ে পারাপার করে গন্তব্যে যাচ্ছেন মানুষ। তবে সাঁকো পারাপারে নারী-শিশু ও বয়স্কদের অসুবিধা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ পারভেছ বলেন, ওই পাহাড়ের সাধারণ মানুষ সবজি, লাকড়ি,পানসহ নানা কৃষিজ পণ্য, বনজ সম্পদ আহরণ করে। এ সড়ক দিয়ে হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাছাড়া দু’টি নূরানী মাদ্রাসা ও মসজিদ-মক্তবে যাতায়াতে এ সড়ক ব্যবহার করা হয়। সড়কের অংশটি বানের পানিতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
টৈটং ইউপি সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, এ সড়ক বিলীন হওয়ায় বর্তমানে পাঁচটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী কমল কান্তি পাল বলেন, সড়কটির ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ নির্ণয় করা হয়েছে। এটি দ্রুত সংস্কারে জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জনসাধারণের দুর্দশা লাঘবে অতিবৃষ্টির পানিতে বিলীন হয়ে যাওয়া সড়কটি দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার নিদের্শ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। 
আপনার মন্তব্য দিন