ভূঁয়া ফেসবুক পোষ্টে ‘লাইক-কমেন্ট’ না করেও আইসিটি মামলার আসামি ৩ যুবক

“ওসি মুনীর উল গীয়াসের শাস্তি ও প্রত্যাহার দাবী”

স্পেশাল করেসপনডেন্ট,
নিউজ কক্সবাজার ডটকম।।

‘শফিক খান’ নামের একটি ভূঁয়া ফেসবুক আইডি। এই ফেইক আইডি থেকে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে মানহানিকর ও অনৈতিক পোষ্ট তাঁর সুনাম ক্ষুন্ন করা হচ্ছে। কিন্তু ‘শফিক খান’ নামের ওই আইডি’র সাথে ওবাইদুল হোসেন, এম.এ মোনাফ সিকদার ও গুরা মিয়ার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। ওই আইডির কোন পোষ্ট তারা লাইক-শেয়ারও করেননি। এমনকি ওই আইডির সাথে কোন ধরণের মিচুয়াল ফ্রেন্ডও নাই। অথচ ‘শফিক খান’ নামের অজ্ঞাত ওই ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ করা মামলায় আসামি করা হয়েছে ওই তিন যুবককে।

মামলাটিতে ভূঁয়া ফেসবুক আইডি ‘শফিক খান’ ছাড়াও আরও ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ওবাইদুল হোসেন, এম.এ মোনাফ সিকদার ও গুরা মিয়ার নাম যথাক্রমে ৪, ৫ ও ৬ নাম্বারে রয়েছে।

‘মিথ্যা মামলা’র শিকার ওই আসামিদের পরিচয় হলো ওবাইদুল হোসেন মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, এম.এ মোনাফ সিকদার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি ও গুরা মিয়া কক্সবাজার শহরের গাড়ীর মাঠ এলাকার ব্যবসায়ী।
 রোববার (২ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই তিন ‍যুবক অভিযোগ তুলেছেন, কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস ১০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা ওই মামলায় তাদের আসামি করেছেন। কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান এই মামলায় সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন।
তাদের দাবি, কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন এলাকার তাদের আত্মীয় ও ঘনিষ্টজন রিদুয়ান ছিদ্দিকের মালিকানাধীন আবাসিক হোটেল ‘স্বপ্ন রিসোর্ট’টি অন্যজনকে জবরদখল করিয়ে দেয়ার জন্য এই মামলা রুজু করেছেন কক্সবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াস।
যদিও মামলাটির বাদী কক্সবাজার পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম। গত ২৫ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি রুজু করা হয়।
মামলাটিতে আসামিদের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল ডিভাইস বা ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ফেইক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজসে আক্রমণাত্মক, মানহানিকর ভাবমূর্তি ক্ষুন্নকর, মিথ্যা, উস্কানিমুলক ছবিযুক্ত স্ট্যাটাস পোষ্ট করে তাতে লাইক, শেয়ার ও কমেন্টস করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টিকরতঃ আইনশৃংখলা অবনতি করাসহ সহায়তা’ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে মামলার ৪, ৫ ও ৬ নাম্বার আসামি ওবাইদুল হোসেন, এম.এ মোনাফ সিকদার ও গুরা মিয়া দাবি করেন, মামলার প্রধান আসামি ‘শফিক খান’ নামের ফেসবুক আইডির কোন পোষ্টে তারা কোন ধরণের লাইক-কমেন্টস করেননি। এমনকি কোন পোষ্ট শেয়ারও করেননি। ওই বিতর্কিত ফেসবুক আইডিটি কে চালায় তাও তারা জানেন না।
তাদের মতে, ‘বিতর্কিত’ ওসি শেখ মুনীর-উল-গীয়াস ও তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই মো. সগীর হোসেন পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের যোগসাজসে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাদের (তিন আসামি) হয়রানি করে হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে ‘জঘন্য মামলা’য় মিথ্যাভাবে আসামি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রলীগের কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি এম.এ মোনাফ সিকদার।
ওই লিখিত বক্তব্যে তারা ‘প্রকৃত বিষয়’ তুলে ধরেন। তাদের মতে, ‘গত ১৩ এপ্রিল দুপুর একটার দিকে কক্সবাজার হোটেল মোটেল জোনে আমাদের আত্মীয় ও ঘনিষ্টজন রিদুয়ান ছিদ্দিকের মালিকানাধীন ‘হোটেল স্বপ্ন রিসোর্ট’টি পুলিশের সাথে আতাঁত করে জবরদখলের চেষ্টা চালায় একাধিক ইয়াবা মামলার আসামি ও মেয়র মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্টজন মোঃ নাসির (পিতা- মৃত রিয়াজ, সাং- দক্ষিণ লরাবাগ, জালালাবাদ ইউনিয়ন, থানা- ঈদগাঁও, জেলা কক্সবাজার) গং।’
তারা বলেন, ‘আমাদের আত্মীয় রিদুয়ান ছিদ্দিকের প্রতি জুলুমের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ করি। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে হোটেল মালিক রিদুয়ান ছিদ্দিক জাতীয় সেবা নাম্বার ৯৯৯ এ ফোন করলে থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে গড়িমসি করেন। এক পর্যায়ে ঘটনার এক ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নাসির, সধুলসহ ৩ জন দুষ্কৃতিকারীকে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তুলেন। কিন্তু তাৎক্ষনিক মেয়র মুজিবুর রহমানের যোগসাজসে বিতর্কিত ওসি শেখ মুনির-উল-গীয়াসের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে ধৃত ৩ জন দুষ্কৃতিকারীকে ছেড়ে দেয় এবং তাদের কথামতো বিরোধীয় রিসোর্টে তালা মেরে চাবি ওসি সাহেবের নিকট জমা দেয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোটেল মালিক রিদুয়ান ছিদ্দিকের পক্ষে ১৮ জনকে আসামী করে ওসির বরাবর এজাহার জমা দেয়া হয়। ওসি ওই এজাহার নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করেননি। উপরন্তু মেয়র মুজিবুর রহমানের যোগসাজসে নাসির গং থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলমকে সংবাদদাতা হিসাবে খাড়া করে পরিকল্পিতভাবে জিআর-২৭৭/২০২১ নাম্বার মামলাটি মিথ্যাভাবে রুজু করেন।
তারা দাবি করেন, ওই মামলায় মিথ্যাভাবে তাদের আসামি করে আটকের জন্য পবিত্র রমজান মাসে বাসায় দফায় দফায় হানা দিচ্ছে পুলিশ।
তাদের ভাষায়, ‘বিতর্কিত ওসি আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করত: এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে রিসোর্টের চাবি নিজ হেফাজতে রেখে দিয়েছেন।’
তারা নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন। তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা এই মামলা থানা কর্তৃপক্ষ থেকে হস্তান্তর করে সিআইডি, পিবিআই, ডিবি কিংবা যে কোন নিরপেক্ষ এজেন্সিকে তদন্তভার দিলে প্রমাণ হবে তারা নির্দোষ।
তারা কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মুনীর-উল-গীয়াসের ‘অপকর্মে’র বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কক্সবাজার থানা থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আপনার মন্তব্য দিন