বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন

ঢাকায় কারান্তরীণ মহেশখালীর ছালামত উল্লাহ খানের মৃত্যু

নিউজ কক্সবাজার ডটকম
  • আপডেট টাইম মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

ঢাকা প্রতিনিধি, ৩ নভেম্বর।।

কক্সবাজার জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ‍যুদ্ধাপরাধ মামলায় ঢাকায় কারান্তরীণ মহেশখালীর ছালামত উল্লাহ খান (৮৫) মারা গেছেন। মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ভোর ৬টা ৫৫ মিনিটে ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মরহুমের ছেলে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার জেলা এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মরহুম ছালামত উল্লাহ খান ২০১৫ সালের ৩ মার্চ যুদ্ধাপরাধের মামলায় আটক হয়ে ঢাকাস্থ কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তরীণ ছিলেন। সেখানে তিনি কিডনী, হৃদরোগ ও ফুসফুসে জনিত রোগে গুরতর অসুস্থ হলে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের অধীনে মুমূর্ষু অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মরহুম ছালামত উল্লাহ খান সেখানে মঙ্গলবার শেষ নিঃস্বাস ত্যাগ করেন।
ছালামত উল্লাহ খান মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালীর ফকিরাঘোনার মরহুম হামিদ বক্স ও মরহুমা সুয়াজান বিবি’র ছেলে।
এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার জানান, যুদ্ধাপরাধ ট্র্যাইব্যুনালের অনুমতিক্রমে তার পিতার মৃতদেহ কারাগার কর্তৃপক্ষ রিলিজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মঙ্গলবার বিকেলে মরহুম ছালামত উল্লাহ খান এর মৃতদেহ ট্রাইব্যুনাল ও জেল কর্তৃপক্ষের তত্বাবধানে ময়না তদন্ত করা হবে। এরপর মরহুম ছালামত উল্লাহ খান এর মৃতদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এডভোকেট গোলাম ফারুক খান কায়সার আরো জানান, তার পিতার মৃতদেহ কক্সবাজারে আনার পর প্রথমে কক্সবাজার শহরে ও পরে মহেশখালীর ফকিরা ঘোনায় দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা পর মহেশখালীর ফকিরা ঘোনা পারিবারিক কবরস্থানে ছালামত উল্লাহ খানকে তার পিতা-মাতার কবরের পাশে দাফন করা হবে। ছালামত উল্লাহ খান জীবদ্দশায় কক্সবাজার চেম্বর অব কমার্সের সভাপতি, মহেশখালী মাল্টিপারপাস সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহ বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুকালে ছালামত উল্লাহ খান স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৪কন্যা সন্তান সহ অনেক আত্মীয়স্বজন রেখে যান।
প্রসংগত, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ২০ রাজাকারের মধ্যে মামলা অন্যতম আসামী ছিলেন সালামত উল্লাহ খান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ মে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ১৬ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে এই মামলায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে কারাগারে থাকা অবস্থায় আসামিদের মধ্যে ১ জন মারা যান। এর পর মারাগেছেন সালামত উল্লাহ খান। বাকি ৫ জন কারাগারে রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাত্তরে মহেশখালী দ্বীপে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
তবে ওই এলাকায় এখনো ৭০ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ জন বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন। বাকিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।
আসামীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে মোট ঘটনা ১৩টি। এর মধ্যে হত্যার অভিযোগ ৯৪টি, নারী নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ অসংখ্য । মামলায় মোট একশ’ ২৬ জন সাক্ষী রয়েছেন।

 

 

আপনার মন্তব্য দিন

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো সংবাদ>>
© All rights reserved © 2017-2020 নিউজ কক্সবাজার ডটকম
Theme Customized By Shah Mohammad Robel