মানবতার টানে কক্সবাজারের তরুণী তৃষ্ণা দে বিয়ে করলে গোপালগঞ্জের হুইল চেয়ারে বসা যুবককে

ফয়সাল আজিম, স্টাফ রিপোর্টার।।

তৃষ্ণা দে’র বাড়ি পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার জেলায় হলেও থাকেন চট্টগ্রামে। মানবতার টানে চট্টগ্রাম থেকেই গোপালগঞ্জে গিয়ে হুইল চেয়ারে বসা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি মনটোশকে বিয়ে করে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কক্সবাজারের মেয়ে চট্রগ্রামের বাসিন্দা তৃষ্ণা দে।
২০১৫ সালের দিকে মাস্টার্স শেষ করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্টানে চাকরিতে যোগ দিলেন মনটোশ।পরিবারের পছন্দমত ঠিক হয় বিয়ে গোপালগঞ্জের এক মেয়ের সাথে।
দুর্ভাগ্যবশত হঠাৎ একদিন তাল গাছ থেকে পড়ে গিয়ে মেরুদন্ডের কশেরুকা ভেঙ্গে যায় মনটোশের। চিকিৎসক বলেন তিনি আর কখনো পুরোপুরি সুস্থ হবেননা, হুইল চেয়ারই তার চলা ফেরার একমাত্র মাধ্যম। সুন্দর হাসি খুশি পরিবারে নেমে আসে কালো মেঘের ছায়া। যার সাথে পরিবারের পছন্দমতো বিয়ে ঠিক হয়েছিল সে ও দূরে ঠেলে দিয়েছে তাকে। একবারের জন্যও দেখতে আসেনি কেমন কাটছে মনটোশের জীবন।
এমন পরিস্থিতিতে একদিন তার ছোট ভাই সুব্রত একটি গ্রুপে তার দাদার জীবনের সব কিছু উল্লেখ করে পাত্রী চাই বলে পোস্ট করলে মানবতার ফেরিওয়ালা তৃষ্ণা দে’র চোখে পড়ে। তৃষ্ণা দে সেই পোস্টে কমেন্ট করেন আমি আপনার দাদার পাশে থাকতে চাই বলে। কথা দিয়েছেন কালী পূজোর দিন দেখা করবেন করেছেনও। সবকিছু মেনে নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ করেন তৃষ্ণা দে। তাই তার শ্বশুর বাড়ির লোক তার এমন কান্ডে অবাক হয়ে সাক্ষাৎ দেবীর আগমন বলছেন তৃষ্ণা দে কে।
এ প্রসঙ্গে তৃষ্ণা দে তার ফেসবুক ওয়ালে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করলে, মুহুর্তের মধ্যে তার পোস্টে হাজার হাজার লাইক,কমেন্ট, ও শেয়ার হয়। তার পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
সুব্রত (আমার দেবর) ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর একটা গ্রুপে তার দাদার সব উল্লেখ করে একটা পোস্ট করে।
আমি আগে থেকেই ডিসিশন নিয়েছিলাম কখনো বিয়ে করবো না। কিন্তু ওই পোস্ট দেখে জানি না সেদিন রাতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। আর তার পোস্টের রিপ্লাই করি। সেদিন রাত হয়ে যাওয়ায় পরের দিন সুব্রত মোবাইলে আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে। সেদিন ছিলো কালীপূজা।
হয়ত এ কারনেই তারা বলে আমাকে দেবী পাঠিয়েছেন।
কিন্তু আমি দেবী নই। আমার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে হয়ত ভগবান প্রদত্ত সাহস ছিলো। তা বলে আমি কখনই নিজেকে ভগবান বা দেবীর সমতুল্য মনে করি না।
আমার এই সিদ্ধান্তে পরিবারের সম্মতি পাই নি অনেক চেষ্টা করেও। হয়ত উনাদের জায়গায় আমি থাকলেও কখনোই সম্মতি দিতাম না। অন্তত মা বাবা কে কষ্ট দিয়ে কেউ দেবী হতে পারে না।
আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে মানুষ পূজার বিরোধী। তাই আমি সুব্রত কিংবা তার আত্মীয় স্বজনদের কাছে সব সময় বলেছি আমাকে দেবতাজ্ঞানে পূজা না করে মানুষ জ্ঞানে ভালোবাসতে।
আমি দেবী নই। রক্ত মাংসের মানুষ। ভুল ত্রুটির উর্ধে নই।
বিয়ের পরেও যদি আমার স্বামী এমন কোন দূর্ঘটনার স্বীকার হলে আমি তখনো তার এবং তার পরিবারের পাশে থাকতাম।
আপাতত কমেন্ট ব্লকে আছি তাই আপনাদের রিপ্লেই দিতে পারছি না। তবে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আমাদের শুভ কামনা জানানোর জন্য।
জীবনে কিছু অন্তত করেছি তাই হয়ত একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে আমার।
এখনো তাদের জন্য কিছুই করতে পারি নি।
আমার জন্য আশীর্বাদ করবেন ভগবান যেন আমাকে শক্তি সাহস ধৈর্য্য দেন।
আমাদের জন্য আশীর্বাদ করবেন ভগবান চাইলে আর আপনাদের আশীর্বাদ থাকলে পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব।

আপনার মন্তব্য দিন