মিয়ানমারের গরু আসা বন্ধ, হু হু করে বাড়ছে দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

হু হু করে বাড়ছে কক্সবাজারের টেকনাফে কোরবানি পশুর দাম। সীমান্ত দিয়ে সরকার পশু আমদানি বন্ধ ঘোষণায় এমন পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশে সর্ব দক্ষিণের একমাত্র মিয়ানমার কেন্দ্রিক করিডোর ব্যবসায়ীসহ পশু ক্রেতারা। তাদের ধারণা, এই হারে গবাদিপশুর দাম বৃদ্ধি পেলে অনেকেই কোরবানি নিয়ে সংকটে পরবে।

এদিকে দেশের খামারিদের লোকসানের কথা চিন্তা করে গত শুক্রবার থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র করিডোর টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দেয় সরকার। এর পর পরই উখিয়া-টেকনাফ তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের কোরবানি পশু সংকটের কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি হাট বাজারে দুই-তিন গুন দাম বৃদ্ধি পেয়েছে গবাদিপশুর।

এ বিষয়ে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরের আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘হঠাৎ করে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলে সংকট দেখা দিয়েছে। তাছাড়া হাট বাজারের হু হু করে পশু দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থায় সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।’

জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ চৌধুরী দৈনিক অধিকারকে বলেন, ‘দেশের খামারিদের উৎসাহ প্রদানের পাশাপাশি করোনা সংক্রমণকে মাথায় রেখে সরকারের নির্দেশে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কেউ আইন অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি হাট বাজারগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।’

জানা যায়, কক্সবাজার জেলায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাসহ ৩৫ লাখ মানুষের বসতি। অধিকাংশ মানুষের কোরবানির পশু নির্ভরশীল মিয়ানমার থেকে আসা গবাদিপশু উপর। এছাড়া মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু বন্ধ হওয়ায় হাট বাজারে পশু দাম দুই-তিন গুন বেড়েছে। ফলে অঞ্চলের প্রায় দশ হাজার মানুষ কোরবানি পশু নিয়ে চিন্তিত রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সর্বশেষ চলতি মাসে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুইদিনে মিয়ানমার থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গরু-মহিষ আসছে ৩ হাজার ১৩০টি। তার বিপরীতে সরকার ১৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা রাজস্ব পেয়েছেন। এর আগে গত মে ও জুন এ দুই মাসে মিয়ানমার থেকে ২৫ হাজার ৮৬৮টি গরু ও ৪ হাজার ২৫৮টি মহিষ আমদানি করা হয়েছে। আর আমদানি বাবদ এক কোটি ৫০ লাখ ৬৩ হাজার টাকা রাজস্ব আয় করেছে শুল্ক বিভাগ।

সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি জানান, ‘মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আসা বন্ধ হওয়ায় তার অঞ্চলে প্রায় দশ হাজার মানুষ কোরবানির পশু নিয়ে চিন্তায় রয়েছে। তার উপর এখানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের বসতি। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে খামারিদের সংখ্যা কম।’

তিনি জানান, ‘লকডাউনের কারণে ঢাকাসহ উত্তর অঞ্চল থেকে খামারিরা এদিকে গবাদিপশু আনছে না। এতে হাট বাজারে পশুর দাম আকাশ ছোঁয়ার মত। এই অবস্থায় কক্সবাজারসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে কোরবানি পশুর সংকট দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় বিশেষ বিবেচনায় মিয়ানমার সীমান্তের এক মাত্র করিডোর খুলে দিয়ে এ সংকট নিরসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি।’

গবাদিপশু ব্যবসায়ী আবু ছৈয়দ জানান, ‘মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ থাকায় সংকট চলছে। ইতোমধ্যে হাট বাজারগুলোতে গরু-মহিষের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে একমন গরুর মাংস ৩০ হাজার দামে কোরবানি পশু বিক্রি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত পশু না থাকায় অনেক মানুষ পশু কোরবানি দিতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। এসব মানুষের কথা চিন্তা করে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু বন্ধ খুলে দিতে প্রধানমন্ত্রীসহ সকল সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

আপনার মন্তব্য দিন