ময়লা ফেলা নিষেধ’ সেখানেই ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়!

ফয়সাল আজিম, স্টাফ রিপোর্টার।।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির সংলগ্ন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যাওয়ার রাস্তার পাশে বড় করে সাইনবোর্ডে লিখা- ‘এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষেধ’। এমন লিখা বিশেষায়িত দেশের অনেক স্থানেই দেখা যায়। চারপাশের পরিবেশটাকে সুন্দর রাখতে ও দূষণ এড়াতেই মূলত এমন নির্দেশিকা ঝুলানো হয়। কিন্তু কে শোনে কার কথা! সেই নিষেধাজ্ঞার থোরাই কেয়ার করে সেই স্থানটিতেই কিনা প্রতিদিন যথেষ্টভাবে ঢেলে রাখা হয় ময়লা-আবর্জনা।

এমনই এক ময়লার স্তূপ চোখে পড়ে ঈদগাঁও কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি মন্দির সংলগ্ন ঈদগাঁও পাবলিক লাইব্রেরি ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যাওয়ার রাস্তার পাশেই।

সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখা গেলো- পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষগুলোর ময়লার দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসছে। সবাই নাক-মুখ চেপে কোনও রকম দ্রুত সেই স্থানটি অতিক্রম করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেই স্থানটিতে এভাবেই ময়লা ফেলা হয় প্রতিদিন।

পচা খাবার ও ময়লা-আবর্জনার প্রচণ্ড দুর্গন্ধে দুষিত হচ্ছে সেখানকার পরিবেশ। বিঘ্নিত হচ্ছে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাফেরা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অঘোষিত এ ময়লার ভাগাড়টি এখানে থাকলেও ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা সংবলিত একটি সাইনবোর্ড লাগানো ছাড়া তেমন কোনও পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা। এতে বিপাকে পড়ছেন সর্বস্তরের মানুষ। বিশেষ করে ওই এলাকার হাজারো মানুষ। যারা দুর্গন্ধ আক্রান্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিয়েই দিনযাপন করতে বাধ্য হন যাতায়াতের তাগিদে।

রাস্তার বিশাল অংশজুড়ে আবর্জনা থাকায় চলার পথ হয়ে পড়েছে সংকুচিত। এতে পথচারীদের চলতে হয় গা ঘেঁষাঘেঁষি করে। দুর্গন্ধে যাত্রী দুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। তাছাড়াও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও।

এই পথ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী নাম প্রকাশ না করার সর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু জায়গাটায় আসলে অনেক অস্বস্তিকর। দুর্গন্ধে দমটা বন্ধ হয়ে আসে। কিন্তু আমাদের কষ্ট কে দেখবে বলেন। বহুদিন যাবত এখানে ময়লা ফেলানো হয়। এটা দেখারও যেন কেউ নেই!’

বাজার করতে আসা পথচারী জাহেদ এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘জনবহুল একটি এলাকার প্রধান রাস্তার পাশে এমন খোলামেলা ময়লার ভাগাড় থাকা কোনোভাবেই উচিত নয়। কারণ এতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠে।’ তিনি এটি অন্যত্র স্থানান্তরের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে জানতে, ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল হক চৌধুরী রিকু’র মোবাইলে একাধিক বার কল দেওয়া হলে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভবত হয়নি।

আপনার মন্তব্য দিন