রামুতে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার ঘটনায় ১০ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ : আতংকে নির্যাতিত পরিবার

আনোয়ার হোসেন, রামু থেকে।।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ে ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনার ব্যাপারে রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরেও থানা পুলিশ গত ১০ দিন পর্যন্ত রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। থানা পুলিশ কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে নির্যাতিত ওই ছাত্রীর পরিবার।
জানাগেছে, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের থোয়াইংগা কাটা এলাকায় ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রী গত ৬ ফেব্রুয়ারী রাত সাড়ে ৮ টার দিকে প্রকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বাহিরে বের হন। এসময় আগে থেকেই উৎপেতে থাকা সালমান নামের বখাটে এক যুবক তাকে পেছন থেকে জোরপূর্বক মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। এসময় ওই ছাত্রী চিৎকার দিলে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে পৌছলে ধর্ষণের চেষ্টাকারী বখাটে সালমান পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা রামু থানায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে, ৭ ফেব্রুয়ারী এবিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলে বখাটে সালমানের আশ্রয় ও পশ্রয় দাতা খুনিয়াপালং ইউনিয়নের থোয়াইংগা কাটা ১নং ওয়ার্ড এলাকার মো. শফির ছেলে আবদুল হক প্রকাশ মুনিয়া ঘটনাটি আপোষ মিমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে থানা থেকে ফেরত নিয়ে আসেন। কিন্তু পরে কোন ধরনের পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো ওই ছাত্রীর পরিবারকে শাসানোর চেষ্টা করে বখাটে সালমান ও আবদুল হক প্রকাশ মুনিয়া।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর বাবা মোস্তাক আহমেদ জানান, তার মেয়ের শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগে তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে বাদী হয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রামু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অদ্যাবধি কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। একারণে হতাশায় পড়ে গেছেন তিনি ও তার পরিবার।
রামু থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয় জানার পর বখাটে সালমান ও তার সহযোগীরা প্রতিনিয়ত তাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে পুরো পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বলে জানান মোস্তাক আহমেদ ।
ওই ছাত্রীর মা জানিয়েছেন, সালমান নামের বখাটে যুবক স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীতে পড়ুয়া ওই ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া আসার সময় উত্যক্ত ও প্রতিনিয়ত কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এঘটনাটি তার মেয়ে তাকে অনেক বার নালিশ দিয়েছে। এব্যাপারে বখাটে সালমানকে অনেক বার সর্তকও করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ক্ষুব্ধ বখাটে সালমান গত ৬ ফেব্রুয়ারী রাতের আধাঁরে তার সর্বনাশ করতে চেষ্টা চালিয়ে ছিল।
এব্যাপারে অভিযোগের তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রামু থানার এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে ছেলের পক্ষ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উভয় পক্ষ নিয়ে আগামীকাল বসে, আসল ঘটনা উদঘাটন করা যাবে।
এব্যাপারে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজমিরু জ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অতি শীঘ্রই সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তার স্হানীয় ঠিকানা টেকনাফ তার পুরো পরিবার সে তার মামার কাছে তাকে বর্তমান ঠিকানায় একবছর যাবত,তার মামার অনেক টাকা আছে সবাই মাদক কারবারি
এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, বখাটে সালমানের বাড়ী টেকনাফে।
টেকনাফে তার পুরো পরিবার মাদক কারবারি। রামু খুনিয়া পালং এলাকায় সে তার মামার বাড়ীতে গত এক বছর ধরে থাকেন। তার মামাও ইয়াবা কারবার করে এখন অনেক টাকার মালিক। তার আত্মীয় স্বজনও সবাই মাদক কারবারি বলে জানা গেছে।

 

 

আপনার মন্তব্য দিন