রামুর বিতর্কিত অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারে কিশোরীকে গণধর্ষণ : ধর্ষক সৎ বাবা আটক

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এইচএম সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী বিতর্কিত অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারে এক কিশোরী গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষক দলের সাথে যোগ দিয়েছিল খোদ সৎ পিতা ও সহযোগী কটেজ মালিকও।
মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ভোররাতে অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারের নীচ তলায় এঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে রামু থানার ওসি তদন্ত অরুপ কুমার চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে রামু জোয়ারিয়ানালা মালাপাড়া মিতারছড়ার একটি বাড়ী (মোহসেনার বাড়ী) থেকে ভিকটিম (ধর্ষিতা) কে উদ্ধার ও গেং রেপে নেতৃত্ব দেওয়া সৎপিতা শাহ আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে সাইমন নামের এক সিএনজি অটোরিকশা চালক সোমবার রাতে ওই কিশোরীকে অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে ১৫”শ টাকায় রুম ভাড়া নেওয়া হয়। ভাড়া পরিশোধ করেন মো. কালু। সেখানে গ্যাং রেফের ঘটনা ঘটে।
ইতোপূর্বে রামুর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি অভিযান চালিয়ে মাদক, জুয়া ও নারীদের নিয়ে অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় বিতর্কিত অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারটি সীলগালা করেছিল।
জানা গেছে, রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এইচএম সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মদ, জুয়া ও নারীদের নিয়ে অবৈধ কার্যকলাপ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় করোনাকালিন ও রমজান মাসেও অবকাশ কটেজে নারী নিয়ে ফুর্তি করার জন্য রুম ভাড়া দেন খোদ মালিক নুরুল আবছার।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জোয়ারিয়ানালা নাদেরপাড়া এলাকার কিশোরী পরিবার থেকে আলাদা হয়ে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীতে থাকতেন।
বিয়ের আশ্বাসে জোয়ারিয়ানালা নাদেরপাড়া এলাকার মৃত শহীদ উল্লাহর ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. সাইমন ওই কিশোরী ( সংগত কারণে নাম পরিচয় গোপন রাখা হলো) কে জোয়ারিয়ানালায় আনেন।
সোমবার রাতে জোয়ারিয়ানালা এইচএম সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারের নীচতলায় ১৫শ টাকায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে রাতে অবস্থান করছিল সাইমন ও মো. কালু। তবে রুম ভাড়া পরিশোধ করেন মো. কালু নামের এক ব্যক্তি।
মঙ্গলবার ভোররাতে ওই কিশোরীর সৎ বাবা শাহ আলম উপস্থিত হন সেখানে। সাইমন, শাহ আলম ও মো. কালু মিলে পর্যায়ক্রমে গণ ধর্ষণ করে ওই কিশোরীকে।
ওই কিশোরীর চিৎকারে দ্বিতীয় তলা থেকে নিচে নেমে সামিল হন অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারের মালিক নুরুল আবছার। তিনিও ধর্ষণের চেস্টা করে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে তাদেরকে রুম থেকে বের করে দেয়া হয়।
পরে শারীরিক অসুস্থ হয়ে পড়া ওই কিশোরীকে গেং ধর্ষকেরা সিএনজি অটোরিকশা যোগে জোয়ারিয়ানালা মালাপাড়া মিতারছড়ার মোহছেনার বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে ঘটনাটি প্রকাশ পেলে স্থানীয় পূর্ব মুরাপাড়ার লোকজন রামু থানা পুলিশ ও সাংবাদিকদের খবর দেন। মঙ্গলবার বিকালে রামু থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরীর নেতৃত্বে এসআই আজাদসহ একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে
মোহছেনার বাড়ী থেকে ভিকটিম ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে।
এসময় গেং রেপের ঘটনায় মাস্টার মাইন্ড সৎ বাবা শাহ আলম (৩২)কে গ্রেফতার করা হয়। সে জোয়ারিয়ানালা নাদেরপাড়া মৃত আবুল হোসেনের ছেলে এবং ধর্ষিতার মায়ের দ্বিতীয় স্বামী।
গ্রেফতার হওয়া সৎ পিতা শাহ আলম তার স্ত্রীর আগের সংসারের মেয়েকে তিনজনে মিলে গনধর্ষের ঘটনাটি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এই গেং রেপের ঘটনায় জড়িতরা হলেন, জোয়ারিয়ানালা নাদেরপাড়া মৃত আবুল হোসেনের ছেলে সৎ পিতা শাহ আলম (৩৫), জোয়ারিয়ানালা নাদেরপাড়া এলাকার মৃত শহীদ উল্লাহর ছেলে সিএনজি অটোরিকশা চালক মো.সাইমন,
পুর্ব মোরাপাড়ার লেড়ু সওদাগরের ছেলে মো. কালু এবং সহযোগী অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারের মালিক নুরুল আবছার।
তাদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান রামু থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) অরুপ কুমার চৌধুরী।
রামু থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ভর্তি করানো হয়েছে বলে জানা গেছে ।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে,
জোয়ারিয়ানালার অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারে অসামাজিক কার্যকলাপ, মদ, জুয়ার আড্ডা, ইয়াবা সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হয়ে আসছিল।
সাবেক রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহা. শাজাহান আলি অভিযান চালিয়ে কমিউনিটি সেন্টারটির মালিক নুরুল আবছারসহ ৪ জনকে আটক করে জেল জরিমানাও আদায় করেছিল ভ্রাম্যমান আদালত। অভিযানে মাদক ও জুয়ার সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছিল। উক্ত অভিযানে এলাকায় কিছু দিনের জন্য স্বস্থি ফিরে এলেও ওই কমিউনিটি সেন্টারে আবারো অসামাজিক কার্যকলাপের আসরে এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। কমিউনিটি সেন্টারের মালিক নুরুল আবছার স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ জনগণ ভয়ে এর প্রতিবাদ করতেও সাহস পায়না। নুরুল আবছার কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার চিহ্নিত জুয়াড়িদের জড়ো করে জুয়ার আসর বসাতো এবং মদ ও নারীদের নিয়ে অবৈধ কার্যকলাপ চালাতো।
স্থানীয়রা জানায়, একদিকে করোনা কাল, অপরদিকে রমজান মাসেও প্রতিনিয়ত সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ওই বিতর্কিত অবকাশ কমিউনিটি সেন্টারে অপরিচিত লোকজনের আসা যাওয়া অব্যাহত ছিল।

আপনার মন্তব্য দিন