রামু খুনিয়াপালংয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দুবৃত্তের হামলায় চা’দোকানদারসহ আহত-৪

মো. ওমর ফারুক পারভেজ, স্টাফ করেসপনডেন্ট ।।

ফিল্ম স্টাইলে দা, লাঠি, লোহার রডসহ অস্ত্র সশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বয়োবৃদ্ধ চায়ের দোকানদার মুমিন সৈয়দ সওদাগরসহ ৪ জনের উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়েছে একদল দুবৃত্ত। বুধবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নে বড় ডেপা স্টেশন চত্বরে মুমিন ছৈয়দ সওদাগরে চায়ের দোকানের সামনে এঘটনা ঘটেছে।

আহতদের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদের নেতৃত্বে ২০/ ৫০ জনের সংঘবদ্ধ দুবৃত্ত এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
আহতদেরকে উপস্থিত লোকজন উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ার খবর পেয়ে রামু থানার এসআই আজাদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ২০/৫০ জনের একদল সংঘবদ্ধ দুবৃত্ত , লাঠি, লোহার রডসহ অস্ত্র সশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে খুনিয়াপালং বড় ডেপা স্টেশন চত্বরে মুমিন ছৈয়দ সওদাগরের চায়ের দোকানের সামনে উপস্থিত হন। এসময় কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই চায়ের দোকানের ভিতর থেকে মুমিন ছৈয়দ সওদাগরকে টেনে হিচড়ে বাহিরে এনে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। আহত মুমিন ছৈয়দ সওদাগর পুর্ব ধেছুয়া পালং জুম কাটা, ৪নং ওয়ার্ড খুনিয়াপালং এলাকার মৃত সোলতান আহম্মদের ছেলে। এসময় মুমিন ছৈয়দ সওদাগরকে দুবৃত্তদের কবল থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে মারধর করা হয় শওকত আলী (৫০) পিতা-মৃত আমির হামজা,সাং-পুর্ব ধেছুয়া পালং জুম কাটা,৪নং ওয়ার্ড,
নুর আহাং, পিতা- ঠান্ডা মিয়া,
আবুল কাশিম ড্রাইভার, পিতা-মো. ইসমাইল। সাং-পূর্ব ধেছুয়াপালং, বড় ডেপা, খুনিয়াপালংকে । এতে তারাও আহত হয়েছেন। এসময় মুমিন ছৈয়দ সওদাগরের চায়ের দোকানের ক্যাশ বাক্সের টাকাসহ মালামালও লুট করা হয়।

আহতদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
আহতদের পরিবারের সদস্যরা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন এই হামলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন ও সরাসরি হামলায় অংশ নেন খুনিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ।
স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ায় খবর পেয়ে রামু থানার এসআই আজাদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রামু থানার এসআই আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খুনিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদের নেতৃত্ব এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় খোদ আবদুল মাবুদও সরাসরি অংশ নিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার আসল কারণ জানাতে পারেননি তিনি।
স্থানীয়রা জানান, চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদের নেতৃত্বে রোজা ও করোনা কালিন সময় এধরনে ন্যাক্কারজনক ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এব্যাপারে আবদুল মাবুদ চেয়ারম্যানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য চেস্টা করেও তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য দিন