রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‍‍‌‌‌‌‌‍’বাড়ি চলো’ ক্যাম্পেইন চলছে

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‍‍‌‌‌‌‌‍’বাড়ি চলো’ ক্যাম্পেইন চলছে

বিশেষ প্রতিনিধি

“এখন সময়, আসুন ঘরে যাই” স্লোগানে প্রত্যাবাসন অভিযান গো-হোম ক্যাম্পেইন কর্মসূচি পালন করছে রোহিঙ্গারা।

রবিবার (১৯ জুন) সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার অন্তত ১২ টি পয়েন্টে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে ।

“নির্যাতিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়’ ব্যানারে ৩০টি ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা ব্যানার, প্ল্যা-কার্ড, ফেস্টুন নিয়ে নির্দিষ্ট স্হানে জড়ো হয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে । সে লক্ষ্যে শনিবার দিনে ও রাতে ক্যাম্পের ব্লকে ব্লকে প্রচার ও মাইকিং করা হয়েছে। রোহিঙ্গা মাঝিদের বরাত দিয়ে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও এর পেছনে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা কোন এনজিও সংস্থা বা অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। নাম সর্বস্ব একটি ব্যানারে এত গুলো ক্যাম্পে হঠাৎ এ ধরনের কর্মসূচির রহস্যেরও জন্ম দিয়েছে।

এদিকের রোহিঙ্গাদের সমাবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কিনা তা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ও সংশ্লষ্টরা নিশ্চিত করেন নি ।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট ক্যাম্পে প্রথমবারের মতো বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস প্রধান মাস্টার মুহিবুল্লাহর নেতৃত্বে । পরে তিনি সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হন। কিন্তু এবারের সমাবেশে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেই বিষয়টি এখনো গোপন রাখছে রোহিঙ্গারা।

ইতোমধ্যে “আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি পিস ফর হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)” সংগঠনের লোগো লাগানো ১৯টি দাবি উল্লেখ করে একটি লিফলেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই লিফলেট সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নন বলে জানিয়েছেন এআরএসপিএইচ মুখপাত্র মোহাম্মদ। তাহলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংঘবদ্ধভাবে কারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন বা তাদের পেছনে কারা? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র।

এদিকে গো-হোম ক্যাম্পেইন এর “নির্যাতিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়’ নামের একটি কর্মসূচি কার্ড সামাজিক মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। এতে আটটি ভেন্যু রোহিঙ্গাদের অংশ নিতে বলা হয়েছে। তা হচ্ছে উখিয়ার ৯, ১০, ১১, ১২ ও ৮ ইস্টের রোহিঙ্গারা ৯ নং ক্যাম্পে, ১৪, ১৫ ও ১৬ নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা ১৪ নং ক্যাম্পের ই/৩ ব্লকে, ১৩ ও ১৯ নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের ১৩ নং ক্যাম্পে , ৫ , ২০, ২০ এক্সটেনশন, ১৭ ও ৮ ওয়েস্টের রোহিঙ্গাদের ১৭ নং ক্যাম্পে, ৬, ৭, ২ ডব্লিউ ও ডব্লিউ-২-ই এর রোহিঙ্গাদের ২-ডব্লিউ ক্যাম্পে, ৩, ১-ওয়েস্ট ও ১-ই ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের ১-ওয়েস্টে, ৪ ও ৪ ওল্ড ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের ৪ নং ক্যাম্পে ও ১৮ নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের নিজ ক্যাম্পে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এই লিফলেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ” আরাকানের সাথে আমাদের মিল, এটিই আমাদের মাতৃভূমি।”

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফের ২২ নং উনছিপ্রাং, ২১ নং চাকমারকুল, ২৪ নং লেদা ও ২৬ নং শালবাগানে একি ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের এ ধরনের কর্মসূচি বিষয়ে অবগত রয়েছেন জানিয়ে ৮ এপিবিন এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন বলেন, কোন কোন স্থানে কি ধরনের কর্মসূচি চলছে সে সব জায়গায় যথাযথ ভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.