‘শতবর্ষে বঙ্গবন্ধু’

।। বাহাউদ্দীন বাহার।।

সাধারণ মানুষকে ভালোবাসতেন বলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চর্তুথশ্রেণির কর্মচারীদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য ১৯৪৯ সনের ২৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এক চরমপত্র দেয়। তাকেসহ পাঁচজনকে পনের টাকা জরিমানা দিয়ে এবং অভিভাবক মারফত মুচলেকা দিয়ে ছাত্রত্ব রক্ষার জন্য বলা হয়। কিন্তু আজন্ম প্রতিবাদী ও আপসহীন বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন ।

কিন্তু কর্মচারীদের দাবি আদায়ের আন্দোলন থেকে সরে না আসায় ১৯৪৯ সনের ১৮ এপ্রিল তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হিসেবে বহিষ্কার করা হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “সাত কোটি বাঙালির ভালবাসার কাঙাল আমি। সব হারাতে পারি কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ভালবাসা হারাতে পারবো না।

তিনি বলেছিলেন, “আমার সেলের পাশে আমার জন্য কবর খোঁড়া হয়েছিল। আমি প্রস্তুত হয়েছিলাম, বলেছিলাম আমি বাঙালি আমি মানুষ, আমি মুসলমান।

মুসলমান একবার মরে দুই বার মরে না। আমি বলেছিলাম আমার মৃত্যু আসে যদি আমি হাসতে হাসতে যাবো, আমার বাঙালি জাতকে অপমান করে যাবো না, তোমাদের কাছে ক্ষমা চাইবো না।”

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে এই বাংলাদেশের আছে নানা অর্জন, আছে নানা চ্যালেঞ্জ। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছিল দেশের তরুণ সমাজ।

কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে, গড়ে তুলেছে ‘মুজিব বাহিনী’। ধ্বংস করেছে হানাদার বাহিনীর একের পর এক পরিকল্পনা। এনে দিয়েছিলেন গৌরবময় বিজয়। দিয়েছে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রত্যয়। কষ্টার্জিত এই বিজয় তাই আমাদের অস্তিত্ব, এগিয়ে যাবার প্রেরণা। কোনভাবেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই মহান মুক্তিযুদ্ধের।

বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক সেই চেতনা আর দেশান্তবোধ। আর আমাদের বিজয় সেদিনই সফল হবে, যেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা বাংলার ১৬ কোটি মানুষের মুখ হাসি ফুটাবে। সেদিন থাকবে না কোনো দুর্নীতি, থাকবে না কোনো অনাহারী, থাকবে না অশিক্ষিত মানুষ।

পৃথিবীর মানচিত্রে লাল সবুজের বাংলাদেশ হবে নবজাগরণে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ। বিজয়ের সমুন্নতায় সামগ্রিকভাবে আমাদের আরো অনেক বেশি তৎপরতা প্রয়োজন। সর্বোপরি স্বাধীনতার সম্পূর্ণ সুফল পেতে আমাদের একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, নিজেদের অধিকার নিয়ে সচেতন হতে হবে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লাখ লাখ বাংলাদেশিও নানাভাবে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর নানা আয়োজনে একাত্ম হবেন। অর্থাৎ বলা যায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী একটি ‘ বৈশ্বিক ইভেন্ট’। মুজিববর্ষ সারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশ, বাঙালি জাতি আর এর মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে নতুন করে চেনানোর একটি বড় উপলক্ষ হতে পারে। জন্মশতবার্ষিকী তে বঙ্গবন্ধু যে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অশিক্ষামুক্ত এবং শোষণ-বঞ্চনাহীন সমাজ, অশিক্ষা ও দারিদ্র্য দূর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে।

 

 

লেখক-বাহাউদ্দীন বাহার,
সাবেক ছাত্রনেতা ও মানবিক-উন্নয়ন কর্মী
baharcou2009@gmail.com

আপনার মন্তব্য দিন