শ্রদ্ধাঞ্জলি…”মা”তোমার বিহনে.

।। বেলাল আজাদ।।
মা, তুমি খুব দ্রুতই চলে গেছো, তাতে আমার সীমাহীন মানসিক কষ্ট হচ্ছে! তুমি চলে যাওয়ার (৭এপ্রিল) পর থেকে আমার দিনগুলো বিষণ্নতায় ও রাতগুলো বিভীষিকাময় কাটে! আমার কথায় কথায় অশ্রু ঝরে, ক্ষণে ক্ষণে দম বন্ধ হয়ে যেতে চায়। তোমাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকাটাই দায়, তাই তোমার কাছে আসার পথ ও উপায় খুঁজে বেড়াই!
    তোমার শূন্যতায় আমি ভীষণ দূরাবস্থায়। আজ তুমি নাই তাই  আমারও কেউ নাই, তুমি বিহীন আমাকে আপনেরাই তাড়িয়ে বেড়ায়! তবে প্রতিবেশী-স্বজন জনে জনে-  আমার প্রতি তোমার প্রাণঢালা দোয়ার বয়ান গেয়ে বেড়াতয়। আমি হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে, পথের আগাগোড়ায় তোমাকে খুঁজে বেড়াই। আমার অবুঝ শিশুরাও দাদীর গরহাজিরায় মন মরা হয়ে সারাক্ষণ তোমার অপেক্ষায়।
মা, তুমি নাই, এ কথা ভাবা যায়?
চারপাশের সবাই, পরিচিত মহলে- তোমার সুনাম ভেসে বেড়ায়, তোমার অন্তর্ধানে করে হায় হায়। অনেকে শান্তনার বাণী শোনায়, “সবাইকে চলে যেতে হবে, আস্তে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে”। কিন্তু দিন যতই যায়, তোমার শূন্যতায় আরও বিহ্ববল, বিধ্বস্ত ও অস্থির হয়ে যাই। তোমার মত আদর-মমতা, বুঝ-জ্ঞান দেওয়ার মত, শাসন-বারণ করার মত জগতে আর কেউ নাই।
তোমার শেষ দিন গুলোতে আমার প্রতি আস্থা, সন্তুষ্টি ও পাশে থাকার কাকুতি এবং হাসপাতালে হাসপাতালে একান্তে-সানিধ্যে দিনাতিপাতে- আমার বিরহ-ব্যথ্যায় কয়েক গুণ ব্যাঘাত! ইচ্ছে করে, তোমার কবরে গিয়ে মাটি আকঁড়ে পড়ে থাকি। পরম মমতাময়ী মা তুমি ভালো থেকো ওপারে, তুমি আসো আমার স্বপনে-যাপনে ক্ষণে ক্ষণে, আমার বেঁচে থাকাই বৃথা তোমার বিহনে।।
বেলাল আজাদ: লেখক ও সাংবাদিক।
আপনার মন্তব্য দিন