সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
Homeচকরিয়াসরিষা চাষে বাম্পার ফলনে নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

সরিষা চাষে বাম্পার ফলনে নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা

মো: নাজমুল সাঈদ সোহেল,
চকরিয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি:

যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদে ভরপুর। মৌমাছিদের মৌ মৌ গন্ধে গুনগুন শব্দে মুখরিত সরিষার মাঠগুলো। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন পেয়েছে কৃষকেরা। বলছিলাম চলতি মৌসুমে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় দিগন্ত জুড়ে ফুটিয়ে তোলা ব্যাপক সরিষার চাষের কথা।

একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন উপজেলার অন্তত আড়াই হাজার কৃষক আর অপরদিকে সর্বসাধারণের কাছে হয়ে উঠেছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে রবি ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় ৫০০ হেক্টর (১২৫০ একর) জমির মধ্যে সাহারবিল ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর, পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে একশত হেক্টর, বদরখালী ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর, চিরিঙ্গা ইউনিয়নে ৫০ হেক্টর ও ডুলাহাজারা ইউনিয়নে ৬০ হেক্টর ও চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ১০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এবছর প্রায় ৭৫০ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম নাছিম হোসেন বলেন, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম ও দাম ভালো পাওয়ায় সরিষা চাষে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। চলতি মৌসুমে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়া সরিষা চাষের উপযোগী হওয়ায় গত বছরের মতো এবারও সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাষ শুরু করার আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পেে আওতায় সরিষা চাষে জড়িত কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে সার বীজ বিতরণ ও আর্ন্ত পরিসয্যা সহযোগিতা হিসেবে মুজুরি খরচ নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। উপজেলার অন্তত আড়াই হাজার কৃষক সরিষা চাষে সরকারি সহায়তা পেয়েছেন।

কৃষিবিদ এসএম নাছিম হোসেন আরও বলেন, সরিষা চাষে বাড়তি জমির প্রয়োজন হয়না। শীতের শুরুতে আমন ধান ও সবজি কাটা শেষ হওয়া মাত্র সময়ে সরিষা আবাদ করা হয়। দুইমাসের মধ্যে সরিষা তুলে নিয়ে একই জমিতে পুনরায় বোরো চাষ শুরু করেন কৃষকেরা। অর্থাৎ সরিষা উৎপাদনের কারণে একবছরে তিন ফসলী জমি এখন চার ফসলীতে রূপান্তরিত হয়েছে। সরিষা চাষে কৃষকরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি পরিবারের জন্য সরিষা তেলের ঘাটতি পুরণ করতে সফল হচ্ছেন কৃষকেরা।

চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের কৃষক এহেছানুল করিম বলেন, আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ কম। জমিতে বেশি পরিশ্রম করা লাগেনা। কম সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়া যায় এবং তাতে লাভও হয় বেশি।

সাহারবিল ইউনিয়নের কোরালখালী এলাকার কৃষক আবু বক্কর বলেন, এবার ৪০ শতক জমিতে সরিষার চাষ করেছি। আমার জমির লাগোয়া অন্যান্য মালিকরাও সরিষা চাষ করায় পুরো বিল জুড়ে যেন হলুদের সমাহার।এছাড়াও চকরিয়া- মহেশখালী সড়কের পাশ ঘেঁষে চাষকৃত জমি হওয়ার বিকেলে অনেক দর্শনার্থী আসেন এবং হলুদের মাঝে অনেকে ফটোসেশানে ব্যাস্থ সময় কাটান। এতে আমার ভাল লাগে পাশাপাশি একজন প্রান্তিক কৃষক হিসেবে নিজেকে গর্ববোধ করি।

সরিষার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে চাইলে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা.শোভন দত্ত বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম সরিষায় খাদ্যশক্তি রয়েছে ৬৬ ক্যালরি,শর্করা ৭.৭৮ গ্রাম, আমিষ ৩.৯৫ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ৩.২ গ্রাম,সোডিয়াম ১১২০ মিগ্রা,পটাশিয়াম ১৫১ মিগ্রা,ক্যালসিয়াম ৮%, আইরন ১০% ইত্যাদি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments