সাধারণ মানুষের চিকিৎসক হতে চান সোহেল

ছবিঃ বাবা মায়ের সাথে সোহেল ।
শাহ্‌ মুহাম্মদ রুবেল, চট্টগ্রাম থেকে।
প্রথমতঃ অজপাড়া গাঁয়ে জন্ম,দ্বিতীয়তঃতখনকার মানুষ ধর্মান্ধ ছিল বলে ঐ সময় স্কুলে পড়ালেখা করলে ময়মুরুব্বিরা বলত তোরা দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার দল,তোরা কোনদিন বেহেশতে যাবি না,তোরা জাহান্নামির দল।যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় -কলেজে পড়া তো দূরের কথা অধিকাংশ মানুষ স্কুলও চিনত না । শত প্রতিবন্ধকতা,অভাব অনটন, অবিভাবকদের বাংলায় শিক্ষা -দীক্ষায় অনীহা ও নিম্নগামী শিক্ষার হারে সমস্ত টেকনাফ উপজেলা হতে হাতে গোনা যে কয়জন মেধাবী মূখ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে তার মধ্যে তিনি অন্যতম।
টেকনাফ উপজেলা সাবরাং ইউনিয়নের অঝপাড়া একগ্রামে বেড়ে উঠা সেই মেধাবী ছাত্র মোহাম্মদ সোহেল উদ্দিন এমবিবিএস (ব্যাচেলর অব মেডিসিন, ব্যাচেলর অব সার্জারি) পাশ করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। টেকনাফ না পুরো কক্সবাজার জেলাবাসীকে গর্বিত করেছে এই ছেলেটি।
ব্যবসায়ী বাবা কামাল আহমেদ এবং গৃহিণী মা খুইল্যা বানু দম্পতির ছোট ছেলে সোহেল। ৭ ভাই-বোনের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ সোহেল সদ্য এমবিবিএস পাস করেছেন।
সোহেল চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠ এবং চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান তিনি।
সোহেলের চিকিৎসক হওয়ার বীজ বপনের সময়টা কাটে অজপাড়া গ্রামের একটা ছোট বিদ্যালয়ে (কাটাবনিয়া ও কচুবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) পড়াকালীন সময়ে। এই বিদ্যালয়ে থেকেই প্রাথামিক পড়াশুনা শেষ করে তিনি। স্কুল জীবনে অসংখ্য সরকারি – বেসরকারি বৃত্তি ও পান তিনি।
তার এই সাফল্যের সংবাদে আনন্দ উৎসবের আমেজ বইছে বিভিন্ন এলাকায়। বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন সোহেল। বাড়িতে ছুটে আসছেন গর্বিত শিক্ষক, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা।
সোহেল বলেছেন, আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া এবং বাবা-মা, ভাই-বোন ও শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সকলের চেষ্টা ও দোয়ার কারণে আজ এতদূর আসতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে আমার মা এবং বোনের অনুপ্রেরণায় আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখা। ছোট বেলা থেকে মানুষের জন্য কিছু করার তীব্র চাহিদা মনের মধ্যে লালন করতাম। এই অর্থে আমি ডাক্তারি পেশাটা পছন্দ করি। কারণ সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়ার একমাত্র সুযোগ। আল্লাহ তায়ালা হয়ত আমার চিন্তাটা বাস্তবায়ন করার জন্য আমাকে এই সুযোগ দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করা। নিয়মিত মডেল টেস্ট দেওয়া, কোনোভাবেই এটি বাদ দেওয়া যাবে না। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সঠিক হয়নি সেগুলো বাসায় এসে আবার দেখে নেওয়া। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবসময় প্রার্থনা করা। সৎ ইচ্ছা পোষণ করা, যে কোনো পরিস্থিতিতে শক্ত থাকার মন মানসিকতা তৈরি করা। মা-বাবাকে সম্মান করা। সবার সাথে নম্র-ভদ্র আচরণ করা।
উল্লেখ্য, তিনি ঐতিহ্যবাহী বংশ জমিদার অলি আহমদের নাতি। সাধারণ মানুষের চিকিৎসক হতে দেশ বাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মোহাম্মদ সোহেল উদ্দিন।
আপনার মন্তব্য দিন