স্বামীর লজ্জা তো আমারও লজ্জা: অপু বিশ্বাস

প্রশ্ন: নানা ঘটনাই এগিয়ে যাচ্ছে আপনার সময়। আমরা বরং সরাসরি প্রসঙ্গে আসি।
অপু বিশ্বাস: হ্যাঁ, ঠিক আছে।
প্রশ্ন: আপনি প্রথমে বলেছিলেন তালাকনামা চিঠি পাননি। পরে জানলাম, এটা পেয়েছেন। এটা আসলে কবে পেয়েছেন?
অপু বিশ্বাস: গতকাল (বুধবার)।
প্রশ্ন: তালাকনামা দুটি অভিযোগ আছে। আপনি সন্তানের প্রতি উদাসীন। এ জন্য সন্তান আব্রাম খান জয়কে গৃহপরিচারিকার কাছে রেখে কলকাতা গিয়েছিলেন। আর একটি হলো…
অপু বিশ্বাস: (থামিয়ে দিয়ে) শাকিব নিজেও জানে সন্তান আমি কার কাছে রেখে গিয়েছিলাম। শেলি আপার পরিচয়ও সে ভালো করেই জানে। তিনি (শেলি) আমাদের পরিবারের সদস্য। তাকে গৃহপরিচারিকা বলাটা অন্যায়। উনি আমার পরিবারের কোনও অংশে কম নন। তিনি হয়তো অন্য ধর্মের হতে পারেন। কিন্তু সত্যি বলতে, আমার মা, বাবা, আত্মীয়-স্বজনকে যতটা বিশ্বাস করি ততটা পরিমাণ বিশ্বাস করি তাকেও। উনি আমার কাছে বড় বোন। আমি ক্লাস থ্রিতে যে স্কুলে ভর্তি হতে পেরেছি সেটা তার সুবাদেই হয়েছে। তিনি ওইসময় গাইড না করলে সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারতাম না। তাহলে তাকে আপনি কি বলবেন? আমি তাকে বলি, তিনি আমার বড় বোন, অভিভাবক।

প্রশ্ন: সেদিন (১৭ নভেম্বর) আপনার বাসায় আসলে আর কেউ ছিলেন না?
অপু বিশ্বাস: আমার বাবা নেই। বাবার মৃত্যুর পর মা আরও ধর্মপরায়ণ হয়েছেন। মা পূজার কারণে গ্রামে যেতে চান। মা বললেন, ‘শেলি যেহেতু আছে, আমি দশ দিনের জন্য পুজোটা সেরে আসি।’ এ সময়টাইতেই দুর্ঘটনাটা ঘটে। আমি বাথরুমে মেজর আঘাত পাই।
শাকিব ও তার পরিবারের কাউকে তো সহজে পাওয়া যায় না। শাকিবের চাচাতো ভাই মনিরের সাথে কথা হয়, সেটা মনির চাইলে তার (শাকিব) সাথে কথা হয়। আমার চাওয়াটা তাদের কাছে পৌঁছায় না। আমি চাইলে ফোন ধরেন না, ব্যাকও করেন না সময় মতো।
প্রশ্ন: আপনি যখন কলকাতায় গিয়েছেন তখন সাথে আপনার ‘বয়ফ্রেন্ড’ ছিলেন- এমন অভিযোগ শাকিব খান তুলেছেন।
অপু বিশ্বাস: এটা শুনে আমি অনেকক্ষণ হেসেছি। আসলে কলকাতায় না, আমি গিয়েছিলাম শিলিগুড়িতে। আমার বাচ্চাও হয়েছে শিলিগুড়িতে। আর বয়ফ্রেন্ড!
প্রমাণ ছাড়া অহেতুক অভিযোগ করলে হাসি ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। যেদিন সত্য উন্মোচিত হবে, সেদিন অভিযোগকারীরা লজ্জা পাবে। এখানে অভিযোগকারী আমার নিজের স্বামী। স্বামীর লজ্জা তো আমারও লজ্জা! এখন কেউ যদি ভিসার কপি দেখতে চায় আমি সেটাও দেখাতে পারব। এখন ডাক্তারের সার্টিফিকেট নিয়ে শাকিব কথা তুলছে, তো সময় মতো সেটাও পেয়ে যাবে।
আর একটা কথা। আমি আগে কলকাতা, এরপর শিলিগুড়ি গিয়েছি। সেখানে বাঘডোগরা নামের একটা এয়ারপোর্ট আছে। চাইলে সব কাগজই আমি সামনে আনতে পারব।
তালাকনামায় তার (শাকিব) দুটি অভিযোগই হাস্যকর ও ভিত্তিহীন।
বলে রাখি, আমার কোনও বয়ফ্রেন্ড নেই। আর একজন মা কখনও সন্তানকে অনিরাপদ রেখে যেতে পারে না।

প্রশ্ন: এক নায়ককে ঘিরে প্রশ্নটা উঠেছে। বলা হচ্ছে, সে নাকি আপনার প্রেমিক!
অপু বিশ্বাস: আপনি বাপ্পীর (বাপ্পী চৌধুরী) কথা বলছেন তো? সে আমার কাছে অত্যন্ত আদরের ছোট ভাই। এখন যে বা যারা কথা তুলছে তাদের মানসিক ডাক্তার দেখানো উচিত। এটা ঠিক তার সঙ্গে একটা কাজের কথা পত্রিকায় এসেছে। আবার তার সঙ্গে একটা ফটোশুটও হয়েছে। এতেই এত সব রটে গেল!
প্রশ্ন: বিয়ের পরও নতুন যে নামে আপনি এসেছেন, তা নাকি বলতে চাইতেন না- এমন অভিযোগও আছে।
অপু বিশ্বাস: সবাই আমাকে অপু বিশ্বাস নামে চেনেন। মিডিয়ায় এটাই আমার পরিচিতি। এ জায়গায় নতুন করে পরিচিতি করাতে গেলে অনেক ঝামেলার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। কী পরিমাণ ঝামেলা তা অনেকেরই ধারণা নাই।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিক আপনি বলছেন শাকিব খান জোর করে আপনাকে ধর্মান্তরিত করিয়েছে। এর আগে কিন্তু এর বিপরীত কথা আপনি বলেছিলেন।
অপু বিশ্বাস: দেখুন, আমার ধর্মের লোককে বিয়ে করতে হলে নিশ্চয়ই ধর্ম পরিবর্তনের প্রশ্ন উঠত না। আমাদের বিয়ের পরে শাকিব ধর্ম পরিবর্তনের জন্য জোরাজুরি করে। জোর করা মানে তো মারধর করা নয়। তার ইচ্ছেতে এবং সংসার সুখে রাখার জন্য আমি তার কথাটা মেনে নিয়েছি।

প্রশ্ন: আইনিভাবে লড়াই নিয়ে কী ভাবছেন?
অপু বিশ্বাস: আমি মামলায় বিশ্বাসী নই। আর সংসার, স্বামী আদালত পর্যন্ত যাক এটা আমি চাই না। এতে সম্পর্ক আরও অবনতি হয়। আমি চাই, আমাদের সম্পর্কের ভেতর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হস্তক্ষেপ করুক। কারণ তিনি একজন মমতাময়ী মা। আর এটা এখন জাতীয় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি এর সুস্থ সমাধান চাই।

আপনার মন্তব্য দিন