৪০ হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ভাসমান সেতু তৈরি করলেন নুর হোসেন চেয়ারম্যান 

শাহ্‌ মুহাম্মদ রুবেল, কক্সবাজার। 

টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ। দেশের সর্ব-দক্ষিণের জনবহুল একটি এলাকা। এখানে তিনটি ওয়ার্ডে (৭,৮ ও ৯) ১৩ টি গ্রামে ৪০ হাজার মানুষের বসবাস।  ২০১২ সালে জুলাই মাসে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে শাহপরীর দ্বীপ সড়কের পাঁচ কিলোমিটার অংশ জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শাহপরীর দ্বীপের সঙ্গে টেকনাফ উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

ফলে দীর্ঘ ৯ টি বছর এই দ্বীপের মানুষকে উপজেলা থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন জীবন-যাপন করতে হয়েছে। অনেকে ভিটে-মাটি বিক্রি করে অন্যত্র ঘর-বাড়ী করেছে। তারপরও মানুষের জীবন থেমে থাকে না। তারা বিভিন্ন উপায়ে উপজেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে। সেক্ষেত্রে পোহাতে হয়েছে অবর্ননীয় ভোগান্তি। 

কিন্তু বর্ষা আসলে এই ভোগান্তির মাত্রা দিগুন বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্ষাকালে তিন মাস একপ্রকার একঘরে থাকতে হয়। 

পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে নাফ-নদী। মাঝখানে এক বিশাল খাল। এই খাল পাড়ী দিয়ে দ্বীপবাসীকে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলায় আসতে হয়। সেক্ষেত্রে জোয়াড় ভাটার উপর নির্ভর করতে হয়। জোয়াড় আসলে নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে পারলে ও ভাটায় সম্ভব হয় না। ফলে, ব্যাহত হয় জীবন-যাত্রা। 

এবার একটু হলেও  স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দ্বীপবাসী। তাদের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন।   

বঙ্গোপসাগর এবং নাফ-নদীর মাঝখানে বিশাল খালের উপর নির্মাণ করেছে একটি ভাসমান সেতু। নিজস্ব অর্থায়নে ১৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৪ ফুট প্রশস্ত এ ভাসমান সেতুটি নির্মাণে দুই লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সোমবার (৭ জুন) বিকেলে সেতুটির উদ্বোধন করেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন। ভাসমান সেতুটি নির্মাণের পর থেকে দ্বীপবাসী কে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলাচল করতে দেখা গেছে। সরেজমিনে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়। 

প্রফেসর মোহাম্মদ রফিক। চাকরির সুবাদে কক্সবাজারে থাকতে হয়। মাটির টানে সুযোগ পেলে চলে আসেন শাহপরীরদ্বীপ নিজ বাড়ীতে। যাওয়া আসা তার কাছে সুখকর না হলেও ভাসমান সেতুটি নির্মাণ করায় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই যেন তীব্র গরমে এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি। অনেকটা এরকম অনুভূতি অন্যান্য দ্বীপবাসীর। 

এ বিষয়ে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, ‘দ্বীপের ৪০ হাজার মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে নিজস্ব অর্থায়নে দুই লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ভাসমান সেতু নির্মাণ করে দিয়েছি। অনন্ত বর্ষার দিনে দ্বীপের মানুষগুলো একটু হলে ও স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারবে। তবে এলাকাবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি পূরণে টেকনাফ-শাহপরীর দ্বীপের সড়কটি আগামী বছর জুনে শেষ হবার কথা রয়েছে।  এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন সহস্রাধিক লোক চলাচল করতে দেখে আমি আনন্দিত। যেকোন দুর্যোগ- দুর্দিনে শাহপরীরদ্বীপ মানুষের পাশে থাকার কথা ও জানান তিনি।

আপনার মন্তব্য দিন