সোমবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
Homeকুতুবদিয়া৯ দিনেও বাড়ি ফেরেনি জেলে, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

৯ দিনেও বাড়ি ফেরেনি জেলে, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, কক্সবাজার

৯ দিন ধরে নিখোঁজ কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলার কুতুবদিয়া বাসিন্দা মো. রমজান আলী (৩৫)। তাঁকে মাছ ধরার কথা বলে সাগরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করছে পরিবার। নিখোঁজ রমজান আলী উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের রোমাইপড়া এলাকার মৃত শামসুল হকের ছেলে। তিনি চার সন্তানের জনক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৫ জানুয়ারি রাতে রমজান আলীকে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় স্থানীয় কাইমুল বশর, আবুল বশর ও ট্রলারের মাঝি মো. কালু। কথা ছিলো কাইমুল বশরের মালিকানাধীন সাগরতরী নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে সাগরে মাছ ধরার। ওই ট্রলারের ২৭ মাঝিমাল্লার সাথে ছিলেন ট্রলার মালিক কাইমুল বশরও। গত ৯ জানুয়ারি ট্রলারসহ তাঁরা বাড়িতে চলে আসে। কিন্তু তাদের সাথে বাড়ি ফেরেনি রমজান। পরে ট্রলার মালিক কাইমুল দাবি করে জেলে রমজান আলী সাগরে ডুবে নিখোঁজ হয়েছে।

ট্রলারে অন্যান্যরা জীবিত থাকলে এক জনের মৃত্যু হয় কিভাবে? এই প্রশ্নে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হয়, পূর্ব বিরোধের জেরে তাঁকে সাগরে হত্যা করা হয়েছে।

নিখোঁজ রমজানের ছোট ভাই মো. ইয়াছিন বলেন, সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে ট্রলার মালিক কাইমুল বশরের সাথে বড় ভাই রমজান আলীর বেতন নির্ধারণের বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তিনি তাদের সাথে মাছ ধরতে না যেতে চাওয়ায় তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে ৫ জানুয়ারি রাত ১১টার দিকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। কথা ছিলো কাইমুল বশরের ট্রলার করে সাগরে মাছ ধরতে যাবে। কিন্তু বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে আর কোন খবর পাওয়া যায়নি তাঁর। ট্রলার মালিকের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি আমাদের বিষয়টা অস্বীকার করে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মালেকের কাছে তারা দাবি করে সাগেরর পানিতে ডুবে আমার ভাই মারা গেছে।

ইয়াছিন আরও বলেন, শুরু থেকে ট্রলার মালিক আমাদের অস্বীকার করে আসছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে বিচার আশা করছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ট্রলারের মালিক কাইমুল বশর বলেন, সাগরে মাছ ধরার সময় ট্রলার থেকে পানিতে পড়ে যায় বলে জানিয়েছেন ট্রলারের মাঝি কালু। এখনো রমজান আলীকে সাগরে খুজাখুজি করছেন ট্রলারে থাকা অন্যরা। তবে এখনও তার কোন খোঁজ মেলেনি। বিষয়টি নিয়ে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির বলেন, জেলের ঘটনা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments