সাগর ও স্থল পথে রোহিঙ্গারা কক্সবাজারে অনুপ্রবেশের চেষ্টা

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন ॥ 

সাগর ও স্থল পথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে শতাধিক রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গারা টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পেরে সাগর পথে কক্সবাজারের অন্যান্য উপজেলায় ঢোকার চেষ্টা করতেছে।

এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পালংখালী আঞ্জুমানপাড়া ও টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় মসজিদে জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়।

উখিয়ার পালংখালী আঞ্জুমানপাড়ার ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তের একাধিক সূত্রে খবর আসে বেশ কিছু রোহিঙ্গা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে। এমন খবরে কয়েকটি মসজিদে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাতে কিছু সংখ্যক স্থানীয় লোকজন সীমান্তের পাইশাখ্যালিতে অবস্থান করে। ওপারের প্যারাবনের ভেতরে বেশকিছু মানুষের গুঞ্জন শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন তারা।

আরাকান বিদ্রোহী কয়েকটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ এসব রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে নিয়ে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। এই করোনাভাইরাস সঙ্কটের সময় নতুন করে কোনো রোহিঙ্গা ঢুকতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

উখিয়া ফালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, আঞ্জুমানপাড়ার মেদির খাল নামক সীমান্তে শতাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টায় আছে। যাদের মধ্যে অনেকে করোনা আক্রান্ত বল জেনেছি।

ফলে চিকিৎসার জন্য এপারে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাত্রিকালীন পাহারা বসানো হয়েছে। প্রশাসনও সতর্ক রয়েছে।

উখিয়া সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গাদের একটি দল বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের বিষয়টি শুনেছেন জানিয়ে কক্সবাজার বিজিবি ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, আঞ্জুমানপাড়ার বিজিবি সদস্যদের সীমান্তে টহলে রাখা হয়েছে। নতুন করে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হক মীর বলেন, রোহিঙ্গারা টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পেরে সাগর পথে কক্সবাজারের অন্যান্য উপজেলায় ঢোকার চেষ্টা করতেছে। সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া, রহমতেরবিল, বালুখালী, ঘুমধুম ও তুমব্রু টেকনাফের উলুবনিয়া, কাঞ্জরপাড়া, উনচিপ্রাং, হ্নীলা, চৌধুরীপাড়া, জালিয়াপাড়া, শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল। বর্তমানে টেকনাফ ও ঊখিয়ার ৩৪ টি ক্যাম্পে ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।

আপনার মন্তব্য দিন