কক্সবাজারেও ভিন্ন আবহে ঈদুল ফিতর উদযাপিত

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

কোভিড-১৯ এর পরিপ্রেক্ষিতে সারাদেশের মতো কক্সবাজারেও এবার ভিন্ন আবহে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বৈরি আবহাওয়া না থাকলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি রোধে এবার কোথাও ঈদগাহ কিংবা খোলা ময়দানে ঈদের জায়ামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন মসজিদে আয়োজন করা হয়েছে একাধিক জামাতের। মসজিদের অভ্যন্তরে এক ঘন্টা পরপর অনুষ্ঠিত প্রতি জামাতে ইমামতি করেন পৃথক পৃথক ইমাম। বৈশ্বিক মহামারী থেকে বাঁচার আকুতি ছিল প্রতিটি মোনাজাতে।

সোমবার সকাল আটটায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাঁহ ময়দান জামে মসজিদে।প্রধান জামাতে ইমামতি করেন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মওলানা মাহমুদুল হক। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত জামাতে জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল, জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফাসহ মুসল্লীরা ঈদের নামাজ আদায় করেন।

পরে দেশবাসীর নিরাময় এবং শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। একই স্থানে ২য় জামাত সকাল ৯ টায় এবং তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১০ টায়।

শহরের বদর মোকাম জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮ টায় এবং বায়তুশ শরফ মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত সকাল ৯টায় ২য় জামাত ১০ টায় এবং ৩য় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১১টায়।
এছাড়া ঘরে ঘরে জামাত সহকারে ঈদের নামাজ আদায় করেছে অনেকে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা ভবনের ৩য় তলায় অফিসার ও ফোর্স এর জন্য বিশেষ ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয় ।

জেলার অন্যান্য জামে মসজিদ গুলোতেও একইভাবে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসলামী ফাউন্ডেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এখানে ঈদের নামাজে অংশ গ্রহণ করেন মুসল্লীরা।

দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা, বৈশ্বিক দুর্যোগ করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষার জন্য মোনাজাত অনুষ্ঠিত। নামাজ শেষে করমর্দন কিংবা কোলাকুলি ছাড়াই মুসল্লীরা একে অপরে কুশল বিনিময় করেন নামাজ শেষে।

এদিকে, অন্যান্যবারের তুলনায় এবারের এই ঈদুল ফিতরে শহরে রিকশা ও অটোযান চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ব্যক্তিগত যান ছাড়া অন্যান্য ভাড়ায় চালিত যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি সকাল হতে।

ফলে বেশিরভাগ মানুষই এবার ঘরে বসেই ঈদ আনন্দ উপভোগহ করছেন পরিবার পরিজনের সাথে।

আপনার মন্তব্য দিন