কক্সবাজার বাসটার্মিনালের বাইরে মহাসড়কে গণহারে চাঁদা : আইনজীবীর গাড়ি ভাংচুর

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন ।।

কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের বাইরে মহাসড়কে প্রকাশ্যে যানবাহন থামিয়ে ভাংচুর, চালক ও হেলফারদের পিটিয়ে এবং মালিকদের নাজেহাল করে টাকা নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজরা।

রাত-দিন ২৪ ঘন্টায় দুই দফায় পালা করে কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বালিকা মাদ্রাসা গেইটের বিপরীতে মহাসড়কে যানবাহন থেকে টোলের নামে লাখ লাখ টাকার অবৈধ চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫’শ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেয়া হচ্ছে।

ঈদের ছুটি ও প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে ব্যক্তিগত যানবাহন থেকে টোলের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে একদল উশৃংখল যুবক।
চাঁদা না দেয়ায় একজন আইনজীবীর গাড়ি ভাঙচুরসহ অপমানিত করার ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে শহর ট্রাফিক পুলিশের একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। তবে, তাদের কারো পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ আবদুল মন্নান অভিযোগ করেন, ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে স্ত্রী-সন্তানসহ ব্যক্তিগত নোহা গাড়িতে করে তিনি শহরের দিকে যাচ্ছিলেন।
বাস টার্মিনাল পুলিশ বক্সের আগেই মহাসড়কে অতর্কিতভাবে ৪/৫ জন উশৃংখল যুবক তার গাড়ি থামাতে বলে। গাড়ি থামাতে না থামাতেই লাঠির আঘাতে ডান পাশের দরজা ও গ্লাস ভেঙে দিয়েছে তারা। চাঁদার জন্য অপমানিতও করেছে।

কক্সবাজার ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর মোঃ ইয়াছিন জানিয়েছেন, আইনজীবীর নিকট থেকে চাঁদা দাবি ও গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে মুঠোফোনে অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে মোবাইল টিম পাঠানো হয়।
ততক্ষণে দুস্কৃতিকারীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আবদুল মন্নান জানান, বাস টার্মিনালে নির্ধারিত পার্কিংয়ের বাইরে রাস্তা থেকে টোলের নামে মহাসড়কে টাকা তোলার আইনগত বিধান নাই। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। মহাসড়কে যারা টোলের নামে চাঁদাবাজি করছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন কক্সবাজারের এই সিনিয়র আইনজীবী।

একাধিক সুত্র জানিয়েছেন, কক্সবাজার পৌরসভা থেকে বাস টার্মিনাল ইজারার দোহায় দিয়ে টার্মিনালের বাইরে মহাসড়কে এধরনের কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কিছু চাঁদবাজকে আটক করে উত্তম মধ্যম দিলেও তা বন্ধ হয়নি।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় দেশের সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ এলাকার মহাসড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বাস-ট্রাকসহ সব ধরনের পরিবহন থেকে টোল আদায় না করতে ২০১৫ সালে ৩ ডিসেম্বর সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা জারি করেন। কুষ্টিয়া জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন্দ্র নাথ সাহা ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই রিটটি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত রুলসহ সরকারের প্রতি ওই নির্দেশ দিয়ে আদেশ দেন। সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় কক্সবাজার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বালিকা মাদ্রাসা গেইটের বিপরীত পৌরসভা কর্তৃক ইজারাদাররা মহাসড়কে বেআইনি টোল আদায় করছে বেশ কয়েকজন যুবক।

তারা বলেন, পৌরসভা থেকে ইজারা নিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে, কিন্তু সেখানে টোলের তালিকাও দেয়া হয়েছে। শুধু মাত্র যানবাহন শ্রমিকদের ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে হরেক রকমের স্লিপ।

উল্লেখ্য, ঈদে প্রাইভেট গাড়ি চলাচলে সরকারিভাবে কোনো বাধা না থাকলেও মানছে না পরিবহন শ্রমিক নামধারী কিছু ব্যক্তি। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারীদের তথ্য নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

টোল আদায়ের নামে মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল।

আপনার মন্তব্য দিন