বদলে যাওয়া শোবিজ দুনিয়া

বিনোদন ডেস্ক

সৃষ্টিশীল মানুষের আখড়া শোবিজ দুনিয়া। কম বেশি সবাই সৃষ্টিশীল চিন্তা করে। নতুন কিছু প্রকাশের চেষ্টা করে। করোনাও যে তাদের বদ্ধ রাখতে পেরেছে এমনটা খুব বেশি বলা যায় না। কেউ না কেউ কোন না কোনভাবে ‘এক্টিভ’। আর তাদের এই ‘এক্টিভিটিজ’ নানা উপায়ে আমরা দেখতে পারছি। তবে দুনিয়ার বিপদ থেকে তারাও কি মুক্ত?

ইউটিউবে দুই সুন্দরী

বাংলাদেশের কথাই ধরা যাক। মেহজাবিন ও বিদ্যা সিনহা মিম- দুই সুন্দরী আছেন তাদের ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে। নিজেদের নামে করা ইউটিউব চ্যানেলের জন্য জমিয়ে কাজ করছেন। মেহজাবিনের ইউটিউব চ্যানেল পুরনো হলেও মিম শুরু করেছেন সবে। কিছুদিন হলো শুরু করলেও ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে মিমের এক্টিভিটিজ চোখে পড়ার মতো। মিম সেখানে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করছেন। নিজের মেকাপের ভিডিও থেকে রান্না- সব রকম ভিডিওকেই স্থান দিচ্ছেন। তাহসানকে নিয়ে ‘কানেকশন’ নামে একটি শর্টফিল্মও নির্মাণ করেছেন। সেখানে ‘মিম কাস্টোডি’ নামে তারকাদের সাক্ষাৎকার মূলক একটি প্রগ্রামও করছেন মিম। অন্যদিকে মেহজাবিন নতুন নতুন রান্নার ভিডিও আপলোড করেন তার চ্যানেলে। মেকাপ, তারকাদের নিয়ে আড্ডা সবই স্থান পায় মেহজাবিনের ইউটিউব চ্যানেলেও।

লাইভে জীবন

জানেন তো এবার কিন্তু লাইভে টিভি প্রগ্রামের হিড়িক হয়েছে। বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল বড় বড় বিশেষজ্ঞদের বাসা থেকেই যুক্ত করেছেন। রাজনীতিবিদরা কাছাকাছি না থেকেই লাইভে তর্কযুদ্ধ করেছেন। দেদারছে হয়েছে টকশো। কেউ ছিলেন না কাছাকাছি। সঞ্চালকরা বাসা থেকেই প্রশ্নবান ছুঁড়েছেন অতিথিদের। একাধিক টিভি প্রগ্রামও হয়েছে এই উপায়ে। ‘জুম’ বা ‘স্ট্রিমইয়ার্ড’ এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করে টিভি লাইভে অতিথিদের যুক্ত করেছে চ্যানেলগুলো। করোনাকাল শেষে টিভি কর্মকর্তারা নিশ্চয়ই ‘লাইভ’ নিয়ে নতুন করে ভাববেন। করোনার দিনে ‘ফেসবুক লাইভ’ হয়ে উঠেছে বিনোদনের অন্যতম আইটেম। তারকা থেকে সাধারণ মানুষ-সবাই লাইভ করছেন। তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। তাঁর প্রতিটি লাইভে ছিলেন দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটাররা। তামিমের প্রাণবন্ত আড্ডায় দর্শক মজেছিল। শোবিজ অঙ্গনের তারকাদের মধ্যে সোহানা সাবার নাম থাকবে প্রথম সারিতেই। ‘তারকালয়’ নামে একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম দিয়ে তিনি লাইভে আসেন। তার লাইভে স্থান পায় সব শ্রেনীর মানুষ। অভিনেতা-উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয় লাইভ শো করছেন ‘জীবনের গল্প’। শোবিজের পাশাপাশি রাজনীতির তারকারাও উপস্থিতি হচ্ছেন এখানে। ‘মিউজিক ফর পিস—এফবি লাইভ’ সঞ্চালনা করছেন কৌশিক হোসেন তাপস।

এর বাইরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে যখন-তখন পূর্বঘোষণা ছাড়াই লাইভে এসেছেন তারকাদের অনেকে। কোনো লাইভেই দর্শকের কমতি হয়নি।

শর্টফিল্ম, নতুন শুটিং উপায়

করোনার সময় একাধিক শর্টফিল্ম নির্মাণ হয়েছে। মিম ‍ও তাহসান জুটি হয়ে অভিনয় করেছেন দুই বাসাতেই। তবে অনিমেষ আইচ একাধিক শর্টফিল্ম নির্মাণ করেছেন ভিন্ন উপায়ে। তিনি অভিনয়শিল্পীদের বাসায় গিয়ে বা তার বাসায় এনে শুট করেছেন। ‘ঘরবন্দী সময়ের গল্প’ নামে সিরিজে সাতজন তারকা নির্মাতা আলাদা গল্পে, আলাদা নামে একটি করে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন। নির্মাতারা হলেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম, শিহাব শাহীন, নূরুল আলম আতিক, অনিমেষ আইচ, সুমন আনোয়ার, শাফায়েত মনসুর রানা ও গৌতম কৈরি। সবগুলো কাজই ঘরে বসে নির্মাণ হয়েছে। প্রায় একই পরিবারকে টার্গেট করে শুটিং হয়েছে। এর মধ্যে বাসার অনেককে দেখা গেছে যারা আগে শুটিং করেননি। শিল্পীর সঙ্গে ভিডিও কলে পরিচালক ও ক্যামেরাম্যান দুজনই থাকছেন। দৃশ্যের সঙ্গে ফ্রেমগুলোও তাঁরা শিল্পীকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন ভিডিও কলে। চরিত্রটিও ভালোভাবে বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন শিল্পীরা। শুধু মুঠোফোনই নয়, কোনো কোনো শুটিংয়ে ডিএসএলআর ক্যামেরার ব্যবস্থা আছে।

এছাড়া তারকারা বিভিন্ন এনজিও বা সরকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের ‘বাইট’ দিচ্ছেন অর্থের বিনিময়ে। সেখান থেকেও তারকাদের একটা আয় হচ্ছে।

ওয়েব জগতই ভরসা

করোনাকালে বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচনায় ছিলো শিহাব শাহিনের ‘আগস্ট ১৪’ আর ভারতে ‘পাতালপুর’। দুটি ওয়েব সিরিজ নিয়েই হয়েছে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা। পাতালপুর ভারতের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশেরও অসংখ্য দর্শক দেখেছে। অন্যদিকে শিহাব শাহীনের ‘আগস্ট ১৪’ আলোচনায় ছিলো ঐশীর ঘটনা ও এর সঙ্গে নানা মসলায়। কিছু কিছু নতুন ওয়েব প্লাটফর্মও এ সময় আত্নপ্রকাশ করেছে। যেমন ‘বিঙ্গো’ বেশ কিছু ওয়েব সিরিজ নিয়ে হাজির হয়েছে। এ সময় সাধারণ মানুষ কিংবা তারকা- শুধু যে বাংলাদেশি আর ভারতীয় তা নয়। ইংরেজি, কোরিয়ান সিরিজও ছিলো তাদের পছন্দের তালিকায়।

অনলাইনে সিনেমা মুক্তি ও লাভ লোকসানের হিসেব

ব্যবসাসফল কোনো সিনেমা মুক্তি পেলে ভারতের প্রযোজকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকে কাড়ি কাড়ি টাকা। এরপর কোন সিনেমায় অর্থ খাটানো যায় সেই পরিকল্পনা শুরু করেন তারা। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সিনেমা মুক্তি না পাওয়ায় আটকে আছে বহু প্রযোজকের টাকা। গত কয়েক মাসে সিনেমা থেকে কোনো অর্থই আয় হয়নি তাদের।

অন্যদিকে আছেন প্রদর্শকরা, যারা নির্ভর করেন এসব বড় বাজেটের ব্যবসাসফল ছবির ওপর। কোনো সিনেমা যেহেতু শিগগির মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদেরও কাটছে কঠিন সময়। মহামারী শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তারা। এর মাঝেই ‘গুলাবো সিতাবো’মুক্তি পেলো। ‘শকুন্তলা দেবী’, গুঞ্জন সাক্সেনা’ সহ আরও বেশ কিছু প্রতীক্ষিত সিনেমা মুক্তি দেয়া হবে অনলাইনে। শোনা যাচ্ছে, অক্ষয় কুমারের ‘লক্ষ্মী বোম্ব’ও অনলাইনে মুক্তি পেতে পারে। এই খবরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন প্রদর্শকরা। এমনকি আইনক্স, পিভিআর ও কার্নিভালের মতো বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইনের মালিকরাও অসন্তুষ্ট হয়েছেন এই খবরে। তারা সিনেমার প্রযোজকদের উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন।

এই অবস্থায় বলিউড দুই ভাগ হয়ে গেছে। কেউ প্রদর্শকদের পক্ষে কথা বলছেন, কেউ প্রযোজকদের পক্ষে। এমনকি কোনো কোনো প্রযোজকও প্রদর্শকদের পক্ষে কথা বলছেন। কিন্তু কে ঠিক আর কে ভুল, সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন। কারণ এই পরিস্থিতিতে সবাই নিজের পকেটের কথা ভাবাই স্বাভাবিক।

বলিউডে সিনেমা পড়ে থাকাই মানে লস। সেই লস কত দীর্ঘ করা যায়। তাই অনলাইন- মানে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজানের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কিছুটা ব্যবসা পেলেই হাত মেলাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য দিন