করোনা জয় করলেন কণ্ঠযোদ্ধা সুজেয় শ্যাম; জানালেন বর্তমান অবস্থা

বিনোদন ডেস্ক

করোনাভাইরাসমুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা সুজেয় শ্যাম। করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর ৩০ মে থেকে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

পরপর দুইবার নমুনা পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ আসায় বুধবার হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। তিনি এখন ভাইরাসমুক্ত। তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো। সুস্থ হওয়ার পরও নিয়ম অনুযায়ী বাসায় তাকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ১১ দিনের লড়াই শেষে মঙ্গলবার কলাবাগানের বাসায় ফিরেছেন ৭৪ বছর বয়সী এ সুরকার।

দুঃসময়ে তার পাশে থাকার জন্য কুর্মিটোলা হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, শিল্পীসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সুজেয় শ্যাম।

তিনি বলেন, “করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বুঝেছি, মানুষ আমাকে কতটা ভালোবাসে। সবার দোয়া আর আশির্বাদে সুস্থ হয়ে উঠেছি। সবার প্রতি আমি আজীবন ঋণী থাকব।”

তার মেয়ে রূপমঞ্জুরী শ্যাম সার্বক্ষণিক বাবার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন; তার নমুনা পরীক্ষায় ‘নেগেটিভ’ এসেছে বলে জানান সুজেয় শ্যাম।  এই অবস্থায় তিনি বেশি কথা বলতে চাচ্ছিলেন না।

দুই বছর ধরে মূত্রনালীর ক্যানসারে ভুগছেন এই সুরকার ও সংগীত পরিচালক; ১৫ মে চেকআপের জন্য বেঙ্গালুরুতে যাওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে যাওয়ার হয়নি বলে জানান তার মেয়ে রূপমঞ্জুরী শ্যাম।

মঞ্জুরী শ্যাম বলেন, গত ৩০ মে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে বাবার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। এর আগে, ২৬ মে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৭ মে তাকে নেয়া হয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে করোনা টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করার পর বাসায় নিয়ে আসি। এরপর ফলাফল পজিটিভ হলে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করি।

দেশের চলচ্চিত্রের গানে অসাধারণ অবদান রেখে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে এ পর্যন্ত ৩টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন সুজেয় শ্যাম। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতারে প্রচারিত তার সুর করা গানগুলোর মধ্যে ‘বিজয় নিশান উড়ছে ঐ’, ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি, বাংলাদেশের নাম’, ‘আজ রণ সাজে বাজিয়ে বিষাণ’, ‘মুক্তির একই পথ সংগ্রাম’, ‘ওরে আয়রে তোরা শোন’, ‘আয়রে চাষী মজুর কুলি’, ‘রক্ত চাই, রক্ত চাই’, ‘আহা ধন্য আমার’ উল্লেখযোগ্য।

আপনার মন্তব্য দিন