লোভী অমিতাভ আর আয়ুষ্মানের যত কাণ্ড

বিনোদন ডেস্ক

এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে, আমাদের চারপাশে যা তাই নিয়ে বলিউডে অনেক ছবি হচ্ছে। ‘অ্যাংরি ইয়ংম্যান’ ইমেজেরঅমিতাভকেও এখন ভাঙাচোরা, হেরে যাওয়া চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। আয়ুষ্মান অনেকদিন আগেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার লুক এবং সংলাপ বলার সময় একটা জড়তা এনে দারুণ এফেক্ট তৈরি করে। বিজয়রাজ, বিজেন্দ্রকালা দক্ষ অভিনেতা, নতুন করে কিছু বলার নেই। চমকে দিয়েছে আয়ুষ্মানের বোনের চরিত্রে সৃষ্টি শ্রীবাস্তবের অভিনয়। এই ছবি বড় পর্দায় মুক্তি পেলে হয়তো বক্স অফিসে বাজিমাত করত! কিন্তু সুজিত সরকার এবং তাঁর টিম এই লক ডাউনেই দর্শকের জন্য বড় উপহার দিলেন। সিনেমাহলে মুক্তি পেলে নিশ্চিত ছবিটি দারুণ ব্যবসা করতো। দেখা যাক অনলাইনে কেমন বাজিমাত করে। গতকাল সবে মুক্তি পেলো। আর এই ছবির ভাগ্য দেখে মুক্তি পাবে আরো কয়েকটি বিগ বাজেটের মুভি।

কি আছে এই ‘গুলাবো সিতাবো’-তে?

‘গুলাবো সিতাবো’ এমনই এক ঘরানার ছবি যার মেজাজটা নবাবি হলেও আসলে সাধারণের কথাই বলে। ছবির মূল অস্ত্র হল চিত্রনাট্য এবং কাস্টিং। জুঁহি চতুর্বেদী এবং সুজিত সরকার অনেকদিন ধরেই একসঙ্গে কাজ করছেন। কাস্টিং এই ছবিটায় একটা অন্য মাত্রা দেয়।

গল্পটা ভারতের লাখনোউ এর একটি বহু পুরোনো বাড়িকে ঘিরে, নাম ফাতেমা ম্যানশন। বাড়ির মালিক এলাকায় সবচেয়ে কৃপন আর সবচেয়ে লোভী ৭৮বছর বয়স্ক বৃদ্ধ মির্জা (অভিতাভ বচ্চন)। মুলত বাড়িটা তার নামে না, তার স্ত্রী বেগম বংশ পরম্পরায় বাড়িটা পেয়েছে। বেগম,মির্জার থেকেও ১৭ বছরের বড়ো। বেগমের মৃত্যুর পর বাড়িটা তার নামে হবে। এজন্য মির্জা শুধু তার স্ত্রীর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে। যে কবে সে বাড়িটার মালিক হবে আর বেচে দেবে। কিন্তু তার স্ত্রীর মরার কোনো লক্ষনই নেই।

বাড়িতে অনেক গুলো ভাড়াটিয়ার বসবাস। বাংকে (আয়ুষ্মান) তার তিন বোন আর মাকে নিয়ে এই বাড়িতেই ভাড়া থাকে অনেক বছর ধরে। সে একটা গমের মিলে কাজ করে। ভাড়া ঠিকমতো দেয়না। এনিয়ে বাড়িওয়ালার সাথে সারাক্ষণ লেগেই থাকে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আর্কিওলোজির চোখ যায় এই পুরনো হাড় জিরজিরে বাড়িটার উপর। ভাড়াটিয়ারা আর্কিওলোজি ডিপার্টমেন্টের সাথে মিলে বাড়িটার একটা সরকারী ব্যবস্থা করার জন্য হন্যে হয়ে যায় যাতে তাদেরও সরকার একটা থাকার বন্দোবস্ত করে দেয়। আর মির্জা তার বাড়ির মালিকানা পাওয়ার জন্য পাগলপ্রায় অবস্থা। কবে বেগম মরবে, কবে সে বাড়িটা বেচতে পারবে। সেও একজন উকিলকে নিয়ে ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে দাড়িয়ে যায়। সিনেমার প্রায় শেষে এসে দেখা যায়, বেগম একটি চিঠি লিখে রেখে তার পুরনো প্রেমিক আব্দুর রহমানের সাথে পালিয়ে যায়। যেখানে সে উল্লেখ করে যে মাত্র এক টাকায় সে বাড়িটা তার প্রেমিকের নামে লিখে দিয়েছে, বাড়ির সমস্ত কিছু সহ। এই বাড়ির কোনোকিছুই কেউ ছুতে পারবেনা। মির্জা হতভম্ব হয়ে যায়। সারাটাজীবন সে এই বাড়ির মালিক হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে গেছে। ভাড়াটিয়ারা সব বাড়ি ছেড়ে দেয়। বেগম শুধু তার এই ভয়ংকর লোভী আর কৃপণ জামাইয়ের জন্য তার প্রিয় চেয়ার ছাড়া আর কিছুই দিয়ে যায়নি। শূন্য হাতে মির্জাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে হয়। গল্পের শেষে দেখা যায় বেগম তার ৯৫তম জন্মদিন অই বাড়িতেই ধুমধাম করে আব্দুর রহমানের সাথে পালন করে।

সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফী মারাত্বক সুন্দর। এতো পুরনো একটা বাড়ি কি করে খুঁজে পেলো কে জানে। অমিতাভের অভিনয় নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই। তার মেকাপ এতো নিখুত হয়েছে যে একদম চেনাই যায়নি। আয়ুষ্মান তার সাবলীল অভিনয় দিয়ে উতরে গেছে। চরিত্রের সঙ্গে মনে হয়েছে তাকে। যারা সুজিতের আগের সিনেমাগুলো দেখেছেন- ভিকি ডোনার, পিকু, অক্টোবর তারা জানেন কতটা দক্ষ পরিচালক সে। তাই ছবিটি দেখে নিতেই পারেন।

আপনার মন্তব্য দিন