করোনা সংকট : পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে সুনশান নিরবতা

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন।।

সমুদ্রসৈকত আর মেরিন ড্রাইভ ঘেঁষে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত নয়নাভিরাম পর্যটন স্পট ‘দরিয়ানগর’। এখানে দর্শনীয় গুহা, কটেজ, পাহাড়চূড়া এবং পাদদেশের টং, বানর আর বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতি মন জুড়িয়ে যায় পর্যটকদের। প্রকৃতির মাঝে অবস্থিত এমন দর্শনীয় কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলো বন্ধ রয়েছে গত ১৭ মার্চ থেকে। করোনা সংকটের কারণে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক গত ১৯ মার্চ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কক্সবাজারের সকল পর্যটন কেন্দ্র সকলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। সেই থেকেপর্যটন স্পটগুলোতে সুনশান নিরবতা বিরাজ করছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, সাগরপাড় ঘেষে গড়ে তোলা দরিয়ানগর পর্যটন কেন্দ্রের গেইটে ঝুলছে তালা। এই স্পটে প্রবেশ করতে হয় আর্টিফিশিয়াল তিমি মাছের মুখের ভেতর দিয়ে। পর্যটক ও স্থানীয়দের প্রবেশ রোধ করতে তিমি মাছের মুখে আটকে দেওয়া হয়েছে কাঁটাযুক্ত গাছের শাখা-প্রশাখা। ভেতরে-বাইরে কোন মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি।
দরিয়ানগর পর্যটন স্পট পরিচালনাকারি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সাথে।
তারা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক আসা নিষিদ্ধ ঘোষণার পর কর্তৃপক্ষ গেইটে তালা ঝুলিয়ে চলে যান। এরপর থেকে কাউকে আসতে দেখা যায়নি।
হিমছড়ি ঝর্ণা কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। পাহাড় বেয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হলেও নেই কোন দর্শণার্থী। রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই পড়ে আছে ঝর্ণার স্পট। প্রবেশপথও করে দেওয়া হয়েছে উন্মুক্ত। হিমছড়ি ঝর্ণাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা রেস্তোরা, দোকানপাট সবকিছুই বন্ধ রয়েছে।
হিমছড়ি বিনোদন স্পটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আক্কাস আলী বলেন, “লকডাউনের পর থেকে ব্যবসা বন্ধ। দোকানের মালামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিকে ব্যবসা বন্ধ, অন্যদিকে দোকানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। এখানকার সব ব্যবসায়ী ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। ব্যবসা বন্ধ থাকায় ঋণ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ী।”
তিনি আরও বলেন, হিমছড়ি বিনোদন স্পটে ঝিনুক, জুতা, আচার, ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্পের জিনিসপত্র, কাপড় ব্যবসায়ী ছাড়াও আছেন হকার, বীচ ফটোগ্রাফার ও রেস্তোরা। প্রত্যেকে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছে।
ইনানী সৈকতেও এখন মানুষের বিচরণ দেখা পাওয়া দূর্লভ ব্যাপার। সেখানকার হকার, জেটস্কি, বীচবাইক, দোকান থেকে শুরু করে প্রত্যেকে চরম লোকসানের মুখে।
একইভাবে মেরিন ড্রাইভের সৌন্দর্য দেখার জন্যও নেই মানুষের উপস্থিতি। প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে কানা রাজার গুহা, রামুর দর্শনীয় বৌদ্ধ মন্দির, মহেশখালী আদিনাথ মন্দির, ডুলহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, সেন্ট মার্টিন দ্বীপসহ সকল স্পট পর্যটকে মুখর থাকে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে এসব পর্যটন স্পটগুলো হাহা করছে। পর্যটকের দেখা পাচ্ছেনা গত মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে। তবে পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে হয়তু পর্যটন শিল্প আবার ঘুরে দাড়াতে পারে। তবে, লোকসানগুলো পুষিয়ে উঠা সম্বব হবে না।

আপনার মন্তব্য দিন