ভৌতিক বিল আর গ্রাহক হয়রানির যত অভিযোগ ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে

ফয়সাল আজিম
স্টাফ রিপোর্টার, নিউজ কক্সবাজার ডটকম।

শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এ শ্লোগান কে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উদ্যোগে পৌঁছে যাচ্ছে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। আর সে বিদ্যুৎতে ভৌতিক বিল নিয়েই যত হয়রানির শিকার হচ্ছেন কক্সবাজার পল্লী বিদুৎ সমিতি ঈদগাঁও সাব জোনাল অফিসের আওতাধীন কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের বিদুৎ গ্রাহকরা।
মিটার রিডিংয়ের চেয়ে অনেক বেশি বিল করা হয়েছে শতশত গ্রাহকের নামে। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডিং না দেখেই কয়েকগুণ বেশি বিল করা হচ্ছে। তবে পবিস কর্মকর্তারা, বাড়তি বিল পরবর্তী বিলের সাথে ক্রমান্বয়ে সমন্বয় করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিলে তা করছেন না।
পল্লী বিদ্যুৎ বিল নিয়ে নানা বিড়ম্বনার শিকার পবিস’র গ্রাহকেরা। সময়মতো বিল না পাওয়া, মিটারে রিডিং না দেখে মনগড়া বিল করাসহ ভূতুড়ে বিল নিয়ে নানা অভিযোগ গ্রাহকদের।
কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে ইসলামপুর, ইসলামাবাদ, পোকখালী, জালালাবাদ, চৌফলদন্ডী, ভারুয়াখালী ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভৌতিক বিল নিয়ে দিশেহারা গ্রাহকরা। মিটারে বর্তমান রিডিংয়ের চেয়ে তিনশো থেকে তিন হাজার ইউনিট পর্যন্ত বেশি বিল করা হয়েছে শতশত গ্রাহকের নামে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে ধর্না দিয়েও প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। উল্টো ৩০ জুনের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তারা।
প্রতিদিন কক্সবাজার পল্লী বিদুৎ সমিতি ঈদগাঁও সাব জোনাল অফিসের সামনে ভুক্তভোগীরা সুদীর্ঘ লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে কোনো সুরাহা পাচ্ছে না অফিসের বেখেয়ালি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে, এমনটা অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের।
কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার যখন বারবার সতর্কতা অবলম্বন করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে বলছেন সেখানে সদরের ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব জোনাল অফিসের কর্মকর্তাদের অনিয়ম আর অবহেলার খেসারত দিতে প্রতিদিন গ্রাহকদের ধরনা দিতে হচ্ছে বিদ্যুৎ অফিসে। দীর্ঘ গ্রাহক সারি, সেখানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, নেই কোন সামাজিক দূরত্ব। এ অবস্থায় কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার দায়ভার কে নেবে, এমন দাবী সচেতন মহলের।
এক গ্রাহক বলেন, আগে আমার ৬শ’ টাকার মতো বিল আসতো। এবার মার বিল এসেছে ১৬ হাজার টাকা।
আরেকজন বলেন, আগে ৫শ’ টাকা আসতো। এবার এসেছে ৭ হাজার।
অপর একজন বলেন, সংশোধন করতে গিয়েছিলাম। তারা বলেন, যে বিল এসেছে সেটাই দিতে হবে। নাহলে তারা মামলা করে দেবে।
দেশে ডিজিটালের ছোঁয়া লাগলেও ছোঁয়া লাগেনি কক্সবাজার পল্লী বিদুৎ সমিতির আওতাধীন ঈদগাঁও সাব জোনাল অফিসে। সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বিকাশ কিংবা বিভিন্ন তর্থ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার সুযোগ করে দিলে কিছু কিছু গ্রাহক সে সুবিধা নিচ্ছেন কিন্তু সেটাই এখন হয়রানির মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঈদগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বেখেয়ালিপনা কর্মকর্তাদের কারণে। চেক না করে সে বিলগুলো আবার পরবর্তী মাসে বকেয়া হিসেবে লম্বা বিল তোলে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের।
ভুক্তভোগী ফরিদ বলেন, আমি গত ফেব্রুয়ারী মাসের বিল বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করেছি। মার্চে বিল বকেয়া ছিল, এপ্রিল মাসের বিলের কপি দেয়নি। মে মাসে এসে ফেব্রুয়ারী মাস সহ ৪ মাসের বকেয়া বিলে তোলে দেওয়া হয়। তখন ধরনা দিতে হয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কিন্তু অফিস কর্মকর্তাদের সাথে কাছে গিয়ে অভিযোগ বুঝিয়ে বলার সুযোগ পাইনি। জানালা দিয়ে কয়েক জনের বিলের কপি নিয়ে যায় আবার কিছুক্ষণ পর নাম ডেকে ডেকে ফেরত দিয়ে দেয়। কিন্তু আমার বিলের কপি সংশোধন না করে ওই আগের বিল করে আবার ফেরত দেয়। আমি এভাবে চারবার জমা দেওয়ার পর ওই কর্মকর্তার সাথে যখন কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় সংশোধন করে দেয়নি।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, আমার প্রত্যেক মাসে বিল আসে ৪’শ কিংবা ৫’শ টাকা কিন্তু হঠাৎ এই মাসে বিল আসে ৬ হাজার টাকা। সংশোধন করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছি। একটু ভালো করেও কথা বলে না তারা- এমনটি অভিযোগ গ্রাহকের।
আরেক ভুক্তভোগী কামাল হোসেন জানান, আমার মিটারে বর্তমানের চেয়ে ২০০ ইউনিট বেশি লিখে বিলের কপি দেওয়া হয়েছে। তা সংশোধনের জন্য সব কাজ ফেলে অফিসে গিয়ে সংশোধন করে আনতে হয়েছে। তিনি আরো জানান, আমার তিনটা দোকানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে বিদুৎ অফিসে যেতে হয়েছে। আমরা এই হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে চাই। মিটার না দেখে মনগড়া বিল দিয়ে টাকা আদায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

এব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ঈদগাও সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম শহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মন্তব্য দিন